ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

আমাদের দেশে স্নাতক/ স্নাতকোত্তর পাশ করার পর নতুন চাকুরী প্রার্থীরা যখন চাকুরীর জন্য চেষ্টা করেন তখন কিছু বৈরী পরিস্থিতির শিকার হন। এখানে সেরকম কিছু পরিস্থিতির বিষয়ে আলোকপাত করা হচ্ছে।

একজন সদ্য স্নাতক চাকুরীপ্রার্থী যখন কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন তখন অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরি আবেদনপত্রের সাথে কিছু সত্যায়িত কাগজপত্র যেমন- শিক্ষাগতযোগ্যতার সনদপত্র/ মার্কশিটের সত্যায়িত ফটোকপি, চারিত্রিক সনদপত্র, জাতীয়তা সনদপত্র ইত্যাদি দিতে হয়। এতসব কাগজপত্রের যথাযথ ব্যবস্থা করে সত্যায়িত করার জন্য তাকে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। আবার দেখা যায়, এত কষ্ট করে আবেদন করার পর নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোন ডাকই পান না। এই কাগজপত্রগুলো নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান একজন প্রার্থীর চাকুরীর জন্য মনোনীত হবার পর চাকুরীতে যোগদানের সময় নিলে চাকুরীপ্রার্থীদের সময় ও খরচ সাশ্রয় হতো। অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান তাঁদের চাকুরীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পে-অর্ডার/ডিমান্ড ড্রাফট চান। এতে করে অনেক চাকুরী প্রার্থী প্রতারণার শিকার হন।

একজন নতুন চাকুরী প্রত্যাশী; মনে করি নাম ‘ক’, থাকেন চট্টগ্রাম। তিনি একটি ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে ঐ পদের জন্য আবেদন করেছেন। আমাদের দেশে প্রায় সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক। বড় বা নামীদামী চাকুরীদাতাদের প্রধান অফিস ঢাকা কেন্দ্রিক। তাঁদের নিয়োগ কার্যক্রমও চলে ঢাকায়। স্বভাবতই একজন ভাল চাকুরী প্রত্যাশীকে নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় যেতে হয়। ‘ক’ আবেদন করার পর সেই ব্যাংক থেকে লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাক পান। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে তিনি লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। কিছুদিন পর তিনি আবার সেই ব্যাংক থেকে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার ডাক পান। ‘ক’ যথারীতি আবার ঢাকায় গিযে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসেন। পরে সেই ব্যাংক থেকে তিনি আর কোন চিঠিপত্র পান নি। কিন্তু তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলেন এবং ঢাকায় আসা-যাওয়া চলতে লাগল। ঢাকায় তার কোন আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব নেই যাঁর বাসায় থাকতে পারেন। তাই ‘ক’ কে এভাবে চাকুরীর পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়া আসার মধ্যেই থাকতে হয়। যাতায়াত, খাবার কখনো বা দু/এক রাত জরুরী পরিস্থিতে ঢাকার হোটেলে থাকতেও হয়। বেরিয়ে যায় অনেক টাকা। হতাশ হন ‘ক’, তার পরিবারের সদস্যরা। তাও সে ভাগ্যবান যে, সে অন্তত টাকার জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না। আশায় থাকে, পরের পরীক্ষায় চাকুরী হবে। আচ্ছা, এসব প্রতিষ্ঠানগুলো কি ঢাকার বাইরে বিভাগীয় বা জেলা শহরগুলোতে অন্তত এসব পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে না অন্তত লিখিত পরীক্ষা যেমনটি হয় বিসিএস-এর মত পরীক্ষায়। কিংবা অনলাইন ভিত্তিক কোন পরীক্ষার সিস্টেম কি থাকতে পারে না লিখিত পরীক্ষার জন্য?

এছাড়াও কোটা প্রথা, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত/ রাজনৈতিক প্রভাব, সুশাসন এর অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যাতো রয়েছেই। তারপরও এই চাকুরীর বাজারে আমাদের তরুণেরা একটা চাকুরীর জন্য অনেক চেষ্টা আর ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে থাকেন।

::মুনতেসার আলী::