ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া / নেওয়া একটি সামাজিক প্রথা। আমাদের দেশের দাওয়াত-এর কিছু দিক তুলে ধরার জন্য এই লেখার অবতারণা। ঘটনাটা এক সহকর্মীর কাছ থেকে শোনা। ঘরোয়াভাবে ঘনিষ্ঠ কিছু আত্মীয়-স্বজন নিয়ে একটা ছোটখাট অনুষ্ঠান করবেন বলে গিয়েছিলেন এক আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াত দিতে। দাওয়াত শেষে বিদায় নেওয়ার সময় আত্মীয় বললেন পাশের বাসার অমুকদেরকে একটু দাওয়াত দিয়ে যাও ; খুব ঘনিষ্ঠ লোক …..। তো সেই আত্মীয়কে নিয়েই আত্মীয়ের পাশের বাসার প্রতিবেশীদের বাসায় গেলেন দাওয়াত দিতে। দাওয়াত দিয়ে বের হওয়ার সময় সেই প্রতিবেশী বললেন, উপর তলার অমুক যাচ্ছে তো! আমরা একসাথে যাব …….। বুঝুন এরকম অনাকাাঙ্খিত অতিথি দাওয়াত করতে গিয়ে দাওয়াত দাতা তথা অনুষ্ঠান আয়োজকের মনের অবস্থা! না পারেন কইতে না পারেন সইতে।

একটু অন্য রকম আর একটি ঘটনা। অনুষ্ঠানে হয়ত নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে এবং সেভাবে দাওয়াতও দেওয়া হয়েছে। আমাদের অনেকের অভ্যেস আছে; সেই দাওয়াতে নিজেতো যাবই সাথে আরো দু’চার জন বন্ধু-বান্ধব/পাড়া প্রতিবেশীদেরও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া। যাদের নিয়ে যান তাদেরও বলেন, আরে ও তো আমার অতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়/বন্ধু। কোন সমস্যা নাই। অনেক আয়োজন ……। অনেকটা পরের ধনে পোদ্দারী করা আর কী! এ ধরণের অভ্যেস সাধারণতঃ আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। একজন একবার স্থানীয় পর্যায়ের এক জনপ্রতিনিধিকে দাওয়াত দিয়ে কি অবস্থায় পড়েছিলেন সেরকম একটা ঘটনা বলছি। দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র সেই জনপ্রতিনিধিকে। ধরে নিয়েছিলেন সাথে হয়ত আরো ২/৩ জন থাকবেন। কিন্তু অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন সাকল্যে ১৮ জন নিয়ে! আর এসব অতিরিক্ত অনাহুত অতিথিদের (!) ক্ষেত্রে ওদিকে যাদের অনুষ্ঠানে গেলেন তাদের হয়ত তখন হৃদকম্পন শুরু হয়ে যায় – খাবার শর্ট পড়বে না তো; সবার হবে তো!
অপারগতায় অপরাগতা প্রকাশ! এতক্ষণ তো খাবার শর্ট পরার ব্যাপারে বলা হলো। এবার খাবার উদ্বৃত্ত থেকে যাওয়ার কারণে অপচয় / খরচ বেশি / প্রয়োজনাতিরিক্ত খরচ হওয়ার বিষয়ে বলি। বিয়ের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে দাওয়াতপত্র / কার্ড দেওয়া এখন একটা রীতি। এই কার্ডের একটা জায়গায় লেখা থাকে অপারগতায় সাথে ফোন নম্বর। আমরা সবাই হয়ত এই কথার মানে বুঝি না। আমরা ক’জন কোনো কারণে যেতে না পারলে বা যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে সেই ফোন নম্বরে ফোন করে অপারগতার কথা বলি? সেটা সময়মত আয়োজকদের জানাতে পারলে হয়ত তাঁরা সেভাবে সংখ্যা বুঝে খাবার অর্ডার বা অয়োজন করতে পারতেন।

এখন ভুয়া অতিথি প্রসঙ্গে বলি। কিছু হুজুগে লোক থাকে যারা কোন অনুষ্ঠানের খবর পেলে বিনা দাওয়াতে ঢুকে পড়েন। লোক সমাগম বেশি হলে আয়োজকদেরও হয়ত অতিথি সনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এই নিয়ে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির একটি নাটিকার কথা মনে পড়ে গেল। আয়োজকরা এরকম ভুয়া দুজন অতিথিকে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা উত্তর দিয়েছিলেন তারা পাত্র পক্ষের লোক এবং তারা পাত্রের বন্ধু। কিন্তু অনুষ্ঠানটি ছিল একটি ছোট বাচ্চার আকিকা!

এবার খাবার বেশি বা শর্ট প্রসঙ্গে নয়; দাওয়াত স্থলে দেরীতে আসা অতিথি প্রসঙ্গ। দাওয়াতে খাবার দাবার পর্বসহ সবকিছু শেষ। বয়-বেয়াড়াদেরও বিদায় করে দিলেন। নিজেরাও বাড়ী ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন সময় অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলেন কোন এক গণ্যমান্য অতিথি যাকে আপনি দাওয়াত দিয়েছিলেন। কি করবেন তখন? বিব্রতকর অবস্থা বটে!
উপরোক্ত বিষয়গুলো সচেতন বা অসচেতন যেভাবেই হোক – দাওয়াত দাতাদের নিশ্চয় কাম্য নয়।
:: — মুনতেসার আলী –::