ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

বাজারে দাঁড়িপাল্লায় টেম্পারিং (!)করে ওজনে কম দেওয়াটা বলতে গেলে নিয়মে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। ক্রেতাগণও নিরুপায়। বিশেষতঃ মাছ, মাংসের ক্ষেত্রে দাঁড়িপাল্লার টেম্পারিং বেশি দেখা যায়। তো সেদিন বাজারে গিয়ে একটি মুরগীর দোকানে গেলাম মুরগী কিনব বলে। দোকানে ইলেকট্রনিক / ডিজিটাল ওজন করার মেশিন। দোকানদারও বলছে ওজনে একটুও কম হওয়ার কোন ঝুঁকি নেই। মনে মনে খুশি হয়ে মুরগী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এই দোকান থেকেই। তো দাম কত করে – জিজ্ঞেস করলাম। উত্তর : ১৬০ টাকা / কেজি। দোকানদার খাঁচার ভেতর থেকে একটি মুরগী বের করে চটজলদি সেই ওজন করার স্কেলে মুরগীটি রেখে সাথে সাথে বলল মোট ২৯৩ টাকা এসেছে। স্কেলে ওজনের সাথে দামও উঠে আসে। জিজ্ঞেস করলাম ওজন কতটুকু হলো? উত্তর দিল ২৯৩ টাকা এসেছে। জিজ্ঞেস করলাম কি আর উত্তর দিল কি! আবার জিজ্ঞেস করলাম ওজন কত হলো? বিরক্তি নিয়ে উত্তর দিল ২৯৩ টাকা এসেছে এবং ২৯৩ টাকাই দিতে হবে। ইতোমধ্যে আমার পরে নেওয়া অন্য ক্রেতা টাকা দিয়ে চলেও গেলেন।

বাজারে আরো মুরগীর দোকান থাকলেও এই দোকানটাতে বেশ ভিড় হয়ত এই ডিজিটাল স্কেলের কারণেই। সবাই হয়ত আমার মতই ভাবছে, ঠকবেন না বলে। অন্য ক্রেতার মুরগী স্কেলে তোলা হলো। আমার তীক্ষ দৃষ্টি স্কেলের ইলেকট্রনিক ডিজিটগুলোর দিকে। এই ক্রেতার মুরগির ওজন দেখলাম ১.৪৯১ কেজি। বিক্রেতা দাম বলল ২৫৩ টাকা। মনে খটকা লাগল। ধরলাম মুরগীর ওজন পুরো দেড় কেজি। তাহলেও তো ১৬০ টাকা করে হিসেবে আসে ২৪০ টাকা। আর এখানে যেহেতু দেড় কেজি হয়নি তাহলে ২৪০ টাকার কমই হওয়ার কথা ২৫৩ টাকাতো হওয়ার কথা নয়। তারপর আরও মুরগী উঠল স্কেলে। আরে! এখানেই তো মারপ্যাঁচ। ওজন স্কেলে রেট দেখাচ্ছে ১৭০ টাকা! মুখে বলছে ১৬০ টাকা!! আর শিক্ষিত ক্রেতারাও টাকা দিয়ে চলে যাচ্ছেন! ধরলাম বিক্রেতাকে। সে উল্টো বলা শুরু করল। পাশের দোকানদারও তার পক্ষে এগিয়ে এলো। চোরের মার বড় গলা আর কি! আামিও নাছোড়! তবুও ওই অবস্থাতেই এক ভদ্র (!) ক্রেতা কারচুপির সব শুনেও পুরো টাকা দিয়ে দিলেন। অন্য একজন ক্রেতা কিছুটা মিনমিনে স্বরে বিক্রেতাকে কি যেন বললেন! আমিও আমার সিদ্ধান্তে অনড়, জেনে শুনে ঠকব কেন। শেষমেষ বিক্রেতা ক্যালকুলেটর টিপে আমার কাছ থেকে ন্যায্য (!)মূল্যটাই রাখল। ভাবলাম এরা ক্রেতাদের কিভাবে ঠকাচ্ছে! আর ক্রেতাগণও জেনে না জেনে প্রতারিত হচ্ছেন…….। ক্রেতাদেরও সচেতন হওয়া উচিত।

– – – –