ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিক নির্যাতন ঘটনার প্রায় দেড় বছর পরে গোয়েন্দা পুলিশ গতকাল রোববার দুই জনকে অভিযুক্ত করে দন্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছেন।

মামলার তদন-কারী কর্মকর্তা সাংবাদিকের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় দুই জনের নাম উল্লেখ করে এবং ঘটনায় জড়িত আরো ১৫/২০ জনকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি মর্মে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকা আরো ১৫/২০ জনকে সনাক্ত করতে না পারা এবং পূর্বতন তদন-কারী কর্মকর্তার দ্বারা মামলার ক্ষতিসাধনের চেষ্টা এবং মামলাটি অন্যখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগ এনে অভিযোগ পর্যালোচনা এবং একমত পোষন না হওয়ায় বাদী পক্ষের আইনজীবি ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করার লক্ষ্যে আদালতে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মোঃ জুলফিকার আলী খান বাদী পক্ষের সময় মঞ্জুর আগামী ২৬ জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেছেন।

মামলায় অভিযেুক্ত আসামী ঠাকুরগাঁও কলেজ পাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে মোঃ সোহেল এবং একই পাড়ার গনি মিয়ার ছেলে হেলাল। এ ছাড়াও আরো ১৫/২০ অজ্ঞাত যুবক।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও কলেজপাড়ায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু লোক বিএনপি’র পৌর নির্বাচনের অফিস ভাংচুর করে। এ খবর শোনার পরে সেখানে কালের কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার হাবিব সহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে যায়। ওই সংঘর্ষের এক পর্যায়ে অস্ত্রসস্ত্র সহ ৪ যুবকের ছবি তুলতে সক্ষম হয় সাংবাদিক হাবিব। সে সময়ই অস্ত্রধারী সোহেল সাংবাদিক হাবিব সহ অন্যান্য সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় এবং ড্রেনের মধ্যে ফেলে দিয়ে তাকে লাঠি সোটা ও ইট দিয়ে পেটাতে থাকে এবং ক্যামেরা ছাড়াও হাবিবের পকেটে থাকা মানিব্যাগ ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পত্রিকার পরিচয় পত্র ও মোটর সাইকেলের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।

ওই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৩ সাংবাদিক সহ ৯ জন আহত হয়। আহত অন্যান্যদের ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সাংবাদিক আলী আহসান হাবিবকে প্রথমে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ও তার পরপরই মুমুর্ষু অবস’ায় রংপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। গত ৫ দিন টানা চিকিৎসার পরেও ঘাড়ের অবস’ার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।

সন্ত্রাসী এ ঘটনায় সাংবাদিক হাবিব বাদী হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরো অজ্ঞাত ১৫/২০ জনের নামে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তৎকালীন তদন-কারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মামলার তদন- করাকালীন সময়ে প্রভাবশালী আসামীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলার গুরুত্বপূর্ন অংশ মামলার ঘটনাস’লের নকশা ভুলভাবে উপস’াপন না করা, মামলার আলামত জব্দ না করা, অন্যান্য আসামীদের সনাক্ত করতে মামলায় উল্লেখ আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ না করা সহ বিভিন্ন ভাবে মামলাটি নষ্ট করার পায়তারা করেন। পরে পুুলিশ সুপার বরাবরে তদন-কারী কর্মকর্তার মনোভাবের কথা জানানো হলে মামলাটির তদন-ভার ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে অর্পন করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ফরহাদ হোসেন মামলাটি প্রায় দেড় বছর তদন- করে গতকাল রোববার তা আদালতে দাখিল করেন। মামলার তদন-কারী কর্মকর্তা অজ্ঞাতনামা আসামীদের সনাক্ত করার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ ছাড়াই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।

এ প্রসংগে বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সৈয়দ আলম, এডভোকেট এন-াজুল হক, এডভোকেট জয়নাল আবেদীন আদালতের কাছে আবেদন করেন যে, মামলার তদন-কাজ সঠিকভাবে হয় নাই, পুলিশ অন্যান্য আসামীদের সনাক্ত করতে কোন ভূমিকা রাখেন নাই, সাংবাদিক হাবিব এতটাই গুরুতর যখমপ্রাপ্ত হয়েছিলেন যে, তাকে সদর হাসপাতাল থেকে রংপুর এবং পরে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের দেয়া যখমী সনদপত্র সঠিকভাবে উপস’াপন করা হয় নাই। এ কারনে অভিযোগ পত্রের ব্যাপারে নারাজি দেয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে এবং মামলাটির অধিকতর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৭ জুলাই মামলার পরবর্তী দিন ধার্য্য করেছেন।

এদিকে মামলার অভিযোগ পত্র দাখিলের ঘটনায় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব সভাপতি আখতার হোসেন রাজা, সাধারন সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন, সাবেক সভাপতি এনামুল হক, সাবেক সবাপতি আবু তোরাব মানিক সহ অন্যান্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা মত প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক হাবিবের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ঠাকুরগাঁওয়ে এই প্রথম সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। তবে আসামীদের সনাক্তের ক্ষেত্রে পুলিশের আরো আন-রিকতার দরকার ছিল। সাংবাদিকগন একই মামলার পূর্বতন তদন-কারী কর্মকর্তার হীনমন্যতার এবং অসৎউদ্দেশ্যের কারনে তার আইনগত শাসি- হওয়া উচিত বলে মন-ব্য করেন।