ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে-আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং তখনকার ভয়াবহ চিত্র সম্পর্কে জানবে না তা’কি হয়। আমার সনত্মানরা যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর নির্যাতনের বাসত্মবচিত্র দেখে মুক্তিযুদ্ধকে উপলব্ধি করতে করতে পারে তাই তাদেরকে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার খুনিয়াদিঘী বধ্যভূমি দেখাতে এনেছি।
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার খুনিয়াদিঘীতে সপরিবারে পরিদর্শনে আসেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নজরম্নল ইসলাম তালুকদার।

প্রসংগত, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে রানীশংকৈল উপজেলার খুনিয়াদিঘীতে রানীশংকৈল, হরিপুর, পীরগঞ্জ ও পাশ্ববর্তী জেলা দিনাজপুরের বিরল, বোচাগঞ্জ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে এখানে এনে হত্যা করা হয়। স’ানীয় আলবদর, রাজাকার ও পাকিসত্মানি সেনারা এ হত্যাযজ্ঞ চালায়।

দেশ স্বাধীনের পরে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল মানুষের কংকাল, হাত, মাথার বিভিন্ন অংশের হাড়গোর। পানি ছিল লাল। ভযাবহ এ হত্যাযজ্ঞ দেশব্যাপী আলোচিত ছিল।

বিচারপতি নজরম্নল ইসলাম তালুকদার খুনিয়াদিঘী পরিদর্শনকালে শহীদদের উদ্দেশ্যে সেখানকার স্মৃতিসৌধে ফুলের তোড়া দিয়ে ও এক মিনিট দাড়িয়ে থেকে সম্মান প্রদর্শন করেন। বিচারপতির সপরিবার ছাড়াও সেখানে উপসি’ত ছিলেন, রানীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হক ছাড়াও স’ানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের নের্তৃবৃন্দ।

এত মানুষকে এত নির্মমভাবে এখানে হত্যা করা হয়েছে-এতে আবেগাপস্নুত হয়ে পড়েন বিচার পতি নজরম্নল ইসলাম। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও কে বলেন, আমাদের আগামী প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও এর তাৎপর্য ভুলে না যায় সে জন্য এ বধ্যভূমিকে সংরড়্গন করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

বিচারপতি নজরম্নল ইসলাম তালুকদার বধ্যভূমি পরিদর্শন করার পরে এলাকার ঐতিহ্যবাহী ন্যাচারপার্ক রামরাই পুকুর পরিদর্শন করে জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আমাকে বিমোহিত করেছে। বধ্যভূমির ইতিহাস মানুষকে সব সময়ই কাঁদাবে। আমি আমার স্ত্রী সনত্মানদের এ বধ্যভূমি দেখাতে পেরে আনন্দিত।