ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

চেকের একটি পাতা দিয়ে মাত্র একবার টাকা উত্তোলন করার নিয়ম থাকলেও ঠাকুরগাঁও অগ্রনী ব্যাংকে একটি চেকের পাতা দিয়ে তিনবার টাকা উত্তোলন করার ঘটনা ঘটেছে! ব্যাংকের ব্যবসায়ি এক গ্রাহকের হিসাব নম্বর থেকে ঠাকুরগাঁও অগ্রনী ব্যাংক এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করলে কম্পিউটারে লিখতে ভুল হয়েছে বলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক বললেও একটি চেকের পাতা দিয়ে কিভাবে তিনবার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এর কোন সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

ঠাকুরগাঁও অগ্রনী ব্যাংক শাখার একজন গ্রাহক আঃ আজিজ জানান, তিনি ব্যাংকের ওই শাখায় মেসার্স নোভা ট্রেডিং এজেন্সি নামে একটি ব্যাংক হিসাব খোলেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ব্যবসায়িক কাজে লেনদেনের জন্য কয়েক কোটি টাকা লেনদেন করেন। কিছুদিন থেকে তিনি তার লেনদেনের সাথে ব্যাংকের টাকার গরমিল দেখতে পান। তখন তিনি তার হিসাব নম্বরের লেনদেনের একটি স্টেটমেন্ট নেন সংশিষ্টদের ব্যাংক থেকে। সেখানে তিনি দেখতে পান গত ১০ সেপ্টেম্বর তারিখে তার চেক বহির ৮১৩৬১৪৫ নং পাতার মাধ্যমে তিনি ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। ওই একই তারিখে একই নম্বরের চেকের পাতা দিয়ে দুইবার ৩০ লাখ টাকা করে ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তিনি ব্যাংকের কাছে জানতে চাইলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আপোষ মিমাংসার প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি চুপচাপ থাকার জন্য অনুরোধ করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার হিসাব নম্বরে টাকা জমা প্রদান না করে গত কয়েকদিন আগে আঃ আজিজের লেনদেনের হিসাব নম্বরটি ক্লোজড করে দিয়ে ব্যাংক হিসাব নম্বরে থাকা এক হাজার টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে হিসাব নম্বরধারীকে প্রদান করেন। ব্যাংকের লোকজনের দ্বারা প্রতারনা হবার বিষয়টি তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িকে জানান এবং মামলা করার প্রসূতি নেন। বিষয়টি শহরের ব্যবসায়ি মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও অগ্রনী ব্যাংকের ব্যাবস্থাপক সাইফুল ইসললামের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, একটি চেক দিয়ে অবশ্য একাধিক টাকা উত্তোলন করা যায় না। বিষয়টি আমাদের কম্পিউটার অপারেটরের ভুল। ব্যাংকের কম্পিউটারের সফটওয়ার কি ম্যানুয়াল নাকি অটো-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সফটওয়ার অটো। তাহলে সেখানে অপারেটরের ভুল হওয়ার কি কোন সুযোগ আছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি চুপ থাকেন। একই নম্বরের একটি চেক দিয়ে এভাবে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি কি গ্রাহকদের সাথে প্রতারনা করে টাকা আত্মসাতের সামিল কি না-জবাবে তিনি বলেন, আসলে বিষয়টি আমাদের ভুল হয়েছে। তাছাড়া ওই হিসাব নম্বরধারীর অস্বাভাবিক লেনদেনের কারনে তাঁর হিসাব নম্বর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিষয়টি জানানোর নিয়ম আছে কি না জবাবে তিনি বলেন, জানানোর প্রয়োজন মনে করিনি। ম্যানেজারের সাথে কথা বলার সময় উপস্থিত ছিলেন, ওই ব্যাংকের মনোনিত আইনজীবি মোঃ ইদ্রিস। এ ব্যাপারে আইনজীবি ইদ্রিস জানান, বিষয়টি আসলে ব্যাংকের লোকে ভুল করেছে। এভাবে একটি চেকের পাতা দিয়ে তিনবার টাকা উত্তোলন করার বিষয়টি কি বৈধ-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি বৈধ নয়, তবে এটা ব্যাংকের ভুল হয়েছে।

ব্যাংকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ব্যাংকের হিসাব নম্বরধারী যেসব হিসাব নম্বরে এভাবে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়, সেসব হিসাব নম্বরধারীরা কত লেনদেন করলেন তার সঠিক হিসাব হয়তো সব সময় রাখেন না। এ সুযোগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের একটি অসাধু চক্র ভুয়া ভাউচার আর একই দিনে একাধিক উত্তোলন দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। দু-একটি ঘটনা এভাবে ফাঁস হয়ে পড়লে তা ধামা চাপা দেয়া হয়।

এদিকে শহরের ৬ জন প্রভাবশালী ব্যবসায়ির কাছে ঠাকুরগাঁও অগ্রনী ব্যাংকের এমন জালিয়াতির বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি বেশ কিছুদিন থেকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে বিষয়টি আমরা জানি। বিষয়টি শোনার পরে আমাদের লেনদেনের বিষয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছি। অধিক লেনদেনের কারনে হয়তো অনেক সময় তা মনেও থাকে না আর এ সুযোগে এভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন ব্যাংকের একটি অসাধু চক্র। তারা ঘটনাটির তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের শাস্তি দাবি করেন।