ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

অবৈধভাবে এবরশনে কিশোরী মৃত্যুর ঘটনায় ঠাকুরগাঁও শহরের সুশ্রী ক্লিনিকের ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম ও ম্যানেজার মোঃ ডালিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান। তিনি আরো বলেন, কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ২ জন ওয়ার্ডবয় ও একজন আয়া পলাতক রয়েছে। ক্লিনিক থেকে রোগীরা অন্যত্র সরে যাবার পরে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের ওয়াহিদা খাতুন (২৪) নামক এক কিশোরীকে অবৈধ গর্ভপাত করায় সুশ্রী ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। গর্ভপাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরন শুরু হলে ক্লিনিকের ২ জন ওয়ার্ডবয় ওই কিশোরীকে ঠাকুরগাও সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তির চেষ্টা করে। কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা করে রোগী মারা গেছে বলে ঘোষনা দেন। সে সময় রোগীকে ফেলে পালিয়ে যায় সুশ্রী ক্লিনিকের দুই ওয়ার্ড বয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাতেই পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ রাতেই লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে লাশ মর্গে পাঠিয়ে দেয়।

রাত থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলে। পরে বৃহষ্পতিবার দুপুরে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সহ ৪ জন ম্যাজিষ্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ ও উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারাসহ সিভিলসার্জন ক্লিনিকে যান। সে সময় পুলিশ ক্লিনিকটিকে ঘিরে রাখে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মকসুদুল আলম ও ঠাকুরগাঁও সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান ওই ক্লিনিকের ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম ও ম্যানেজার মোঃ ডালিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ক্লিনিকটিতে তল্লাশি চালান। এর আগেই সেখানে কর্তব্যরত ২জন ওয়ার্ডবয় ও একজন আয়া পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

দীর্ঘ তদনে-র পরে বিকেল ৪ টার দিকে দিকে সিভিল সার্জন ও ম্যাজিষ্ট্রেট এর উপসি’তিতে পুলিশ ক্লিনিকের ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম ও ম্যানেজার মোঃ ডালিমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসারত অন্যান্য রোগীদের সুবিধাজনক স’ানে চলে যাওয়ার জন্য পুলিশ সহযোগিতা করে এবং ক্লিনিকটিতে সিলগালা করে দেয়া হয়।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন আফজাল হোসেন তরফদার অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ক্লিনিক খুলে বসে অবৈধ কার্যকলাপ করে আসছে। এ কারনে প্রতিষ্ঠিত ডাক্তারদের অনেক বদনাম সহ্য করতে হচ্ছে। ওসি মেহেদী হাসান জানান, কিশোরীটির মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত- কোন মামলা হয়নি। তবে ক্লিনিকের ডাক্তার, ম্যানেজার, মালিক, ওয়ার্ডবয় ও আয়া এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া গেছে। পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মকসুদুল আলম জানান, সিভিল সার্জনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সহ ৪ জন ম্যাজিষ্ট্রেট পুলিশ নিয়ে ক্লিনিকে তল্লাশী এবং জিজ্ঞাবাদ করছেন। কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে একজন ডাক্তার ও ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যান্যদের ধরতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

ক্লিনিক ম্যানেজার মোঃ ডালিম জানান, তিনি রাত ৯ টায় ক্লিনিক থেকে চলে যান এবং পরের দিন সকাল ৯ টায় আবার ক্লিনিকে আসেন। এবরসন বা হত্যার বিষয়টি তিনি জানেন না। ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম একই কথা বলেন এবং তিনি গতকাল রাতে ক্লিনিকে ছিলেন না বলেও জানান। ঠাকুরগাঁও শহরের অধিকাংশ ক্লিনিকেই অবৈধ এবরসনের ব্যবসার অভিযোগ অনেক দিনের। অধিকাংশ ক্লিনিকেকেই নিজস্ব ডাক্তার নেই। ওটি বয়, ওয়ার্ড বয় এবং আয়ারা ডাক্তারদের ম্যানেজ করে এবং কোন কোন সময় নিজেরাই অবৈধ এবরসন করার কাজে লিপ্ত থাকে বলে জানান, স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মনি সহ অনেকেই।

তবে ওয়াহিদার ভাই অভিযোগ করে বলেন, সুশ্রী ক্লিনিকে তার বোনকে চাকরী দেয়া হবে বলে বুধবার তাকে ক্লিনিকের লোকজন ডেকে পাঠান। পরে রাতে সদর হাসপাতাল থেকে ওয়াহিদার ফোন থেকে এ মৃত্যু সংবাদ পান তারা।