ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

শ্রমবিধি লংঘন করে, অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের অবশ্য পালনীয় আইন, প্রেস কাউন্সিল আইন, তথ্য মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপন অমান্য, ১৯৭৩/৭৪ সালের সংবাদকর্মী চাকুরিবিধি লংঘন করে কালের কন্ঠে নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত সাংবাদিক আলী আহসান হাবিবকে কোন কারন ব্যাখ্যা ছাড়াই অবৈধভাবে অব্যাহতির চিঠি প্রদান করায় বুধবার ঠাকুরগাও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে কালের কন্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন সহ 6 জনের নামে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধে মামলা হয়েছে। মামলার বিবাদীরা হলেন, কালের কন্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী, উপদেষ্টা সম্পাদক অমিত হাবিব, বার্তা সম্পাদক চৌধুরী আফতাবুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ খায়রুল বাশার শামীম ও মফস্বল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোৱ রুবেল।

মামলার বাদী সাংবাদিক আলী্ আহসান হাবিবের অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ২০০৯ সালের ১৮ জুন তিনি কালের কন্ঠে শিক্ষানবীশ স্টাফ রিপোর্টার (ঠাকুরগাও) হিসেবে যোগদান করেন। পরে ২০১১ সালে সপ্তম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের ৩য় গ্রেডে উন্নীত হয়ে চাকুরী স্থায়ী করন হয়। গত ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৮ম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড বাস্তবায়ন করে তথ্য মন্ত্রনালয় প্রজ্ঞাপন জারী করে ও এই আইন সকল শ্রেনীর পত্রিকার জন্য অবশ্য পালনীয় বলে নির্দেশ প্রদান করা হলেও সাংবাদিক হাবিব সহ কালের কন্ঠের অধিকাংশ সাংবাদিকের ক্ষেত্রে ৮ম রোয়েদাদ বোর্ডের বেতন স্কেল কার্যকর হয়নি। এমনকি তথ্য মন্ত্রনালয়ের অপর একটি প্রজ্ঞাপনে ২০১২ সালের জুলাই মাস থেকে ৮ম রোয়েদাদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন মহার্ঘভাতা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। কালের কন্ঠ সম্পাদক কর্মরত সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও তিনি কর্মরত সাংবাদিকদের সরকার ঘোষিত অবশ্য পালনীয় এসকল সুযোগ সুবিধা প্রদান না করে সাংবাদিকদের সাথে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। অপরদিকে মামলার ৫ নং বিবাদী সে সময়ের মফস্বল সম্পাদক খায়রুল বাশার শামীম সাংবাদিক হাবিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন।

আদালতে চলমান একটি মামলার বিষয়ে একপক্ষে সংবাদ করার নির্দেশ প্রদান করে তিনি পত্রিকাকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা করেছেন। এ ছাড়াও অগ্রনী ব্যাংকের টাকা আত্মসাত, গ্রামীন ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে সংবাদ প্রেরন করলে, সংবাদ না ছাপিয়ে সাংবাদিককে সাফ বলে দেন, অগ্রনী ব্যাংকের বিরুদ্ধে সংবাদ ছাপানো যাবে না। সাংবাদিক হাবিবের বিরুদ্ধে বিবাদীগন বৈষম্যমূলক আচরন এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন মর্মে বার্তা সম্পাদক, সম্পাদক সহ সবাইকে ইমেইলের মাধ্যমে দরখাস্ত দিয়ে অবহিত করানো হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। গত ২০ জানুয়ারি সাংবাদিক হাবিবকে কোন কারন ব্যাখা ছাড়াই, শ্রমবিধি লংঘন, ওয়েজ রোয়েদাদ বোর্ড আইন লংঘন ও সঙবাদপত্র কর্মী চাকুরীবিধি লংঘন করে চাকুরি থেকে অব্যাহতি প্রদানের চিঠি দেন। অব্যাহতি চিঠির প্রেক্ষিতে প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক হাবিব দরখাস্ত করলে, দরখাস্তের প্রেক্ষিতে প্রেস কাউন্সিলের সচিব কালের কন্ঠকে কারন ও বিধি ছাড়া অব্যাহতি ও অন্যান্য ন্যায়্য পাওনা পরিশোধের দিক নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিলেও কালের কন্ঠ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। তথ্য মন্ত্রনালয় থেকে একই নির্দেশনা দিলে তাও পালন করেননি কালের কন্ঠ কর্তৃপক্ষ। ক্রমাগত আইন লংঘন, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেআইনীভাবে চাকুরীচ্যুত করে কালের কন্ঠ ৮ম সংবাদপত্র মজুরিবোর্ড আইনের ৮ অনুচ্ছেদের ক ধারা লংঘন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি সুযোগ আদায় করছে। ওই অনুচ্ছেদ অমান্য ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা গ্রহন করায় পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল সহ শাস্তিমূলক বিধান রয়েছে। সাংবাদিকের সাথে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধে, চাতুরিতার আশ্রয় নিয়ে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা ও ঠকানোর উদ্দেশ্য এবং মানবাধিকার লংঘন করে আইন না মেনে, কোন পাওনা পরিশোধ না করে বেআইনীভাবে সাংবাদিক হাবিবকে অব্যাহতি পত্র প্রদানের কারনে বুধবার ঠাকুরগাও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।