ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

 

কমলা কান্ত কাকায় কহিল, কাকটি কাকা করিতেছে। “ক” দিয়ে সকল শব্দের বিন্যাসে বাক্য তৈরীর হয়তো আলো ভালো প্রক্রিয়া আছে। তবে বাঙালির এমন কায়দায় শেষে অবশেষে কায়দা শব্দটি স্থায়ী হয়ে গেলো।

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। কিছুদিন আগেও কায়দা করে বিদ্যা মগজের মধ্যে ঢুকাতে কিশোর লাইব্রেরী আর কলকন্ঠ’র কোন বিকল্প ছিল না। তবে কায়দা করে রপ্ত করার মধ্যেও বেশ ভালো কায়দা ছিল। এখন যারা গাড়িতে কইরা বেড়ায়, তারা সক্কলেই কিশোর লাইব্রেরীর অনুসারী, আর চায়ের দোকানে, পাড়ার মধ্যে, বনে বাদারে এমনকি শাহবাগেও যারা কায়দা করে রাজাকারদের বেকায়দায় ফেলেছিল, তারা সবাই কলকন্ঠের ভক্তকুল। এই সকল ভক্তকুলের গায়ে ভালো জামা কাপড় না থাকলেও ডাইরেক একশনের বহুত ক্ষমতা।
যা হোক, মূল প্রসংগে আসি, আমাদের প্রগতিশীল সরকার, দেশের সকল কৃষকদের কথা চিন্তা করে, গমের শীষ বের হওয়ার আগেই, গমের দাম প্রতি কেজি ২৮ টাকা দাম নির্ধারন করে। গ্রামে, গঞ্জে আমাদের চাষী ভাইদের তা ধিন ধিন তা, নাচন কুদন আর দেখে কে।

কলকন্ঠের কথা উঠলে কৃতজ্ঞতা স্বীকার না করলেই নয়। কারন কিশোর লাইব্রেরীতে একটা প্রশ্নের উত্তর সর্বোচ্চ এক পাতা, আর কলকন্ঠে ওই একই প্রশ্নের উত্তর ৫ পাতা। কলকন্ঠ’র ভক্তদের মুখস্ত করার কোন উপায় নাই। তাই বাক্য সংকোচন আর বাক্য সম্প্রসারনে সকল কলকন্ঠ ভক্ত গন বেশ পাকা পোক্ত হয়ে গেলেও পরবর্তী জীবনে ভাবুক হয়ে নাজুক জীবন যাপনে বাধ্য হয়েছে।

বারবার ক্ষমা চাইতেও ভালো লাগে না, বারবার ক্ষমা চাইলে লোকে মতি ভাই বলে সম্বোধন করে। যা হোক, গমের ভালো দাম ঘোষনা করায় সরকারকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারা যায় না। কারক কৃষককুল কয়েকদিন হলেও দোকানে দোকানে গিয়ে গমের গরম দেখিয়ে চা, পান আর খোশ গল্প করেছে বেশ। কিছুদিন পরেই গম ঘরে তুলতেই ঢুকে পড়লো আল কায়দা। সরকারও গম কিনে না, আর পাইকার ভাইগন দাম বাড়ায় না। অবশেষে ২৮ টাকা কেজি দরের কম কৃষকরাও চা, পানের বিল শোধ করতে ১৫ টাকা কেজিতে বেচতে শুরু করলো। কৃষক ভাইদের ঘরের গম শেষ হবার পরে, তার পর সরকার আল কায়দা করে গম কিনে নিলেন। এলাকার, এমপি, উপজ্বালা চেয়ারম্যান, উপ-ভাইসজ্বালা চেয়ারম্যান গন, সরকারি দপ্তরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী, কেউ হলেন গম ব্যবসায়ি, আবার কেউ গম চাষী। ব্যবসায়িরা আল কায়দা করে, এক টনের জন্য ৭ হাজার টাকায় সিলিপ বেচে দিলেন, যারা কৃষক হয়েছিলেন অর্থাৎ সকল ব্যবসায়ি ভাইগন সরকারকে গম সরবরাহ করলেন। এমন কায়দায় সবাই খুশি। কৃষক চাষ করে দাম পেলো ১৫ টাকা, আর কিছুটা কায়দা করে ব্যবসায়ি আর কৃষক হয়ে যাওয়া লোকগুলো বসে বসে পেলো ১৩ টাকা।
আমার সোনার বাংলায় সরকার কায়দা করে বেকায়দায় ফেলতে সঠিক প্রগতিশীল, সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সর্বজনের কাছে গ্রহনযোগ্য, দেশের সকল ক্ষেতমজুর, কৃষক, শ্রমিক সকলের বাপ মা যে লোকটি তাকে দেয়া হলো বিমান উড়ানোর আর ফালানোর দায়িত্ব। দুনিয়া ব্যপী লোকরা এতদিন যাকে লালন পালন করেছে, তাকে উড়ানোর আর ফেলানোর জায়গায় দেখে, কায়দা করে আমার সোনার বাংলা এখন সোনার খনি আবিষ্কার করলো। ((তবে দেশ প্রেমিক হিসাবে চুপি চুপি বলতেই হয়, য্যামনে আসে, আমার সোনার বাংলাদেশের বাংলাদেশ ব্যাংকে সোনা দিয়া টই টম্বুর হয়ে উঠছে। ব্র্যাকেটের মধ্যে আবার ব্র্যকেট-(বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লার সক্কল ভাই বন্ধু বিরাদরগন আল কায়দা করে সোনা মানে মেশিনম্যান দেলু রাজাকাররে বুঝায়েন না যেন।))
কায়দা করে ধানের দামের যা অবস্থা, ধান কাটবার লোক নাই, ধান বেচে খরচের টাকার অর্ধেকও আসে না।

সেই ১৭৫৭ থেকে শুরু করে সেদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, হাজারো মানুষকে কায়দা করে মারা হয়েছে। সাগর-রুনির হাত-পা বাইন্ধা, কায়দা করে কোপাইয়া কোপাইয়া মারা হইলো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দিশেহারা হইয়া কায়দা করে বইল্যা ফেল্লেন, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে যে কায়দায় হউক সকল কায়দাবাজ খুনীদের গ্রেপ্তার করা হইবে। এমন কথায় সম্বাদিক সাহেবগন বেশ প্রশান্তি পাইলেও কিছু লোক বেকায়দায় পড়লেন। তারপর কায়দা করে কাদা ছুড়াছুড়ি, অবশেষে কায়দা করে মামলা ফেলে রাখা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ছাওয়াল, মোড়লের দেশে ছিল, সেই বল্গার অভিজিৎকে মাথার পিছনে বেশ কায়দা করে কয়েকটা কোপান দিয়া, তার স্ত্রীর হাতের একটা আঙ্গুল কাইট্যা ফালান হইলো। তারপর সকল কায়দা বেকায়দার কথা সবাই জানেন।

পুলিশের চোখ কি স্যাটেলাইটের ক্যামেরা নাকি-যে সব দ্যাখপে, আপাতত তাদের কাছে কালো কাপড় আছে। তাই বল্গার অভিজিৎ, রাজীব, আশেকুর খুনিদের ধরলো না। কারন বলা যায় না। মনিরুল সাহেবের কঠিন বুদ্ধি, কারে ধরতে কারে ধরবে, তখন বেকায়দায় পড়তে হবে। দেশের পাবলিক, আর ওই যে শাহবাগের বিচ্ছুরা নাছাড়ো বান্দা। মনিরুল সাহেব বহুত কায়দা, কৌশল করলেন, আর বুদ্ধিতে কুলায় না। অবশেষে মোড়ল রা যা পছন্দ করেন, অর্থাৎ কায়দা করে আল কায়দা বানাইয়া, আবার কায়দা করে তাদের মাইরা চাউল, ডাল, তেল, নুন যা আছে-সব মোড়লের বাড়িতে নিয়ে জমা করে। মোড়লদের খুশি রাখতেই, মনিরুল সাহেব, আসাদুল সাহেব, আরো মেলাজন, তারপর এফবিআই না কি য্যান, সবাই মিইল্লা একখান ভিডিও ফুটেজ দেখাইয়া, কায়দা কইর‌্যা দেশে আল কায়দার আগমন বার্তা ঘটাইয়া ফেলিলেন।

মনিরুল সাহেব, আসাদুল সাহেব সহ অন্যান্য সাহেবরা জানে, দেলু রাজাকারদের কথা বইল্যা লাভ নাই, কারন সকল বিচ্ছু পোলাপান, আবার শাহবাগে দৌড় দিবে। তারপর সেখানে দিন-রাত প্যাচাল শুরু করবে। তাই কায়দা করে একটা উপায় বের করে শাহবাগের বিচ্ছুদের বেকায়দায় ফেলতে আল কায়দায় অভিজিৎরে মারছে, বইল্যা কায়দা করে আল কায়দা হাজির কইর‌্যা ফেল্লো।

ভাইসাব রা শয়তানের গল্প ভুইল্যা গেছেন মনে হইতেছে। শয়তান বিচ্ছুদের সাইজ করতে গাধা হইয়্যা মাঠে আসিয়া সকল বিচ্ছুদের কায়দা করে সাইজ করার কথা ভাবলো। বিচ্ছুরা ভাবলো, অনেকদিন পরে একটা গাধা পাইছি, তারপর সকল বিচ্ছু গাধার পিঠে উঠতে শুরু করলো। গাধার পিঠে আর জায়গা নাই, তাই বিচ্ছুরা সেই গাধা সেজে থাকা শয়তানের পাছায় বাঁশ ঢুকাইয়া কায়দা করে আসন বানাইয়া সেই আসনে বসলো। শয়তান সেই যাত্রায় কোন রকমে প্রানে রক্ষা পাইলেও, কানে ধইর‌্যা তওবা কইর‌্যা শপথ নিল, পৃথিবীর সকল জীব, জন্তু, জানোয়ার সবার সাথে কায়দা বেকায়দার খেলা খেললেও বিচ্ছুদের সাথে জীবন থাকতে আর খেলুম না।

মোড়লদের তোষামদি করতে করতে হয়তো ভুলেই গেছেন, ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য বিচ্ছুরাই রক্ত দিয়েছে, ১৯৭১ এ আবার সেই বিচ্ছুর দল-বড় মোটা গোফ ওয়ালাদের কিভাবে বেকায়দায় ফেলে মাত্র ৯ মাসে দেশটাকে স্বাধীন করেছিল, এরশাদ চাচা বিচ্ছু দেখলে এখনো শরম পায়, তারপরে ক’দিন আগের কথা কি ভুলে গেছেন? যত কায়দা-বেকায়দা করে আল কায়দার আগমন ঘটানো হউক, দেলু রাজাকের বাহিনী সব গেল কই? আপনারা যতই কায়দা করেন, আপনারাও জানেন, কুকুরের ছাও কুকুর হয়, বিড়ালের ছাও বিড়াল হয়, রাজাকারের ছাও রাজাকারই হয়।

জয় বাংলা শ্লোগান কি কারো বাপ দাদার সম্পদ? আবার এক হবে বিচ্ছুর দল, যতই আল কায়দা আর মোড়লদের কায়দা কসুর থাকুক, দেশের ভেতরের আল কায়দা থেকে কখনো বিচ্ছুদের দৃষ্টি আলাদা করা যাবে না। যতই কায়দা কসুর করা হউক, ওহ, ভুইল্যাই গেছি, কিরকেট খেলা দেখেন না আপনারা, ক্যামনে কোপাইতেছে বাংলার বিচ্ছুরা, ভুইল্লেন না যেন। জয় বাংলা বলে আগে বারো বাহে। দেশে শকুনের দলের দৃষ্টি পড়েছে। ওপরে ৩০ লাখ শহীদের অভিশাপের ভার সইতে পারবে তো ? জয় বাংলা, জয় হোক মানুষের, জয় হোক মানবতার।