ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

ঈদ মোবারক ভাই, ভালো আছেন ? অনেকদিন পরে দেখা-নামাজের পরে কোলাকুলি করলাম এক (নাম প্রকাশ না করাই ভালো) সহকর্মীর সাথে। চা-খাবার প্রস্তাব প্রত্যাখান করতে পারলাম না। লোকজন দল বেধে বাড়ি ফিরছে-আমরা দু’জনে বসে গল্প করছি-তবে যেতে হবে-কারন কোরবানীর কাজ সারতে হবে। বয়সে বড়ই হবেন তিনি-বললেন “আমিও কোরবানী দিয়েছি”, কিন’ অমুক দিতে পারেনি। বললাম, কোরবানীর রেওয়াজ অনুযায়ি-আপনি দিয়েছেন। বললেন-উনি কেন দিতে পারেনি-জিজ্ঞেস করলে না-আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম-তিনি আমি সহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে বললেন- বেতন পেয়েছো-বোনাসও পেয়েছো-তোমাদের জন্য কোরবানী ঠিক আছে। কিন’ আমার জন্য কি ঠিক আছে? জবাব না দিতেই তিনি একনাগারে বলে চললেন-ছোট একটি কাগজে লিখি-বেতন কি জিনিস তাও জানিনা। তবে তোমাদের চেয়ে খারাপ চলি না। কোরবানীও দিয়েছি। উনি দিতে পারেননি-কারন সে ম্যানেজ করতে পারেনি। মানুষে আমাদের সাংবাদিকের পাশাপাশি সাংঘাতিকও বলে। কষ্ট লাগলেও এ পেশায় আছি বহুদিন। ন্ত্রী, সন-ান সবাই জানে অনেক টাকা বেতন পাই, তাই সেভাবেই টাকা ম্যানেজ করতে হয়। উনি কোনভাবেই এবার ম্যানেজ করতে পারেননি। তাই তিনি কোরবানী দেননি।

দেশে প্রতিদিন বাড়ছে পত্রিকার সংখ্যা। কোয়ালিটি যাহাই থাক, কর্তৃপক্ষ না পরীক্ষা না করেই অনুমতি দিয়ে দিচ্ছেন। পত্রিকাওয়ালারাও সাংবাদিকদের বেতন দিবেন, ওয়েজবোর্ড বাস-বায়ন করবেন বলে অঙ্গিকারাবদ্ধ হয়ে পত্রিকার অনুমতি নেন। শুধু পত্রিকাই নয়, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও সাংবাদিকদের বেতন না দেবার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ওরা চায় বিনে পয়সার সাংবাদিক। বাংলাদেশের বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে ওরা এটা করছে। আর আমরাও ওদের সাথে যুক্ত হচ্ছি প্রতিদিন। বেতন না দিলেও কোন সমস্যা নাই। তোমাদের মত ৪/৫ টি পত্রিকা আর ২/৩ টি টেলিভিশনের সাংবাদিক বাদে জেলা শহর সহ উপজেলা ও মফস্বল সাংবাদিকদের নির্ভর করতে হয় হলুদ খামের ওপর। এ কারনে আমরা হলুদ সাংবাদিক বলে পরিচিত হয়ে উঠেছি। আমাদের তথাকথিত পত্রিকার কর্ণধাররা, বেতন-বোনাস নিয়ে আয়েশ করে ঈদ করছেন। তাহলে তুমিই বল-আমার কোরবানীটা কি হালাল নাকি হারাম ? তোমাদের সৃষ্টিতে এটা হারাম হলেও আমার প্রয়োজনের তাগিদে এটা আমার কাছে হালাল হয়ে গেছে। যদিও মনের মধ্যে শানি- পাচ্ছি না।

উনি কোনভাবেই ম্যানেজ করতে পারেননি। কষ্টে তার বুকটাও ফেটে যাচ্ছে। তার পরিবারের কাছে সে ছোট হয়ে গেছে। সন-ানের মুখে সে কোরবানীর কোনকিছু তুলে দিতে পারেনি।
ভিক্ষুকরা, নিম্নবিত্তরা এবাড়ি, ওবাড়ি গিয়ে পরিবারের আজ হয়তো তাদের চাহিদা মিটাবে। বড়ই সম্মানের কথা-“সাংবাদিক” সে তো পারছে না কোনমতেই ভিক্ষা করতে। তাহলে সে যদি হলুদ সাংবাদিকতা করে দিনানিপাত করে তাহলে এটা কি তার অপরাধ হবে? ভাইরে ক্ষুধার রাজ্যে সবকিছুই গদ্যময়। জীবন বাঁচাতে শুকরের মাংস হালাল হলে, আমার কোরবানীও হালাল। তবে ভাই যদি পারো দয়া করে সবাইকে বলো-সাংবাদিকদের ঈদ মোবারক বলে উপহাস না করার জন্য। বড়ই কষ্ট পাই। কোন জবাব খুঁজে পেলাম না। বললাম-ভাই তারপরও বলবো-এটা ঠিক নয়, তবে আপনাকে ধন্যবাদ আপনি অনর্-দহনে জ্বলছেন-কষ্ট পাচ্ছেন, প্রশ্ন করেছেন, প্রশ্ন জেগেছে মনে, আপনি কি ভালো করছেন? সাংবদিকদের সমাজের দর্পন বলা হয়। হয়তো কোন এক সময় এই মেঘ কেটে যাবে। নাম সর্বস্ব এসব পত্রিকা/টেলিভিশন বাধ্য হবে শ্রমনীতি মেনে চলতে।