ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

৮ বছরের গৃহপরিচারিকাকে আটকে রেখে যৌনাঙ্গসহ সারা শরীরে আগুনের ছেঁকা

শিশুটির বয়স মাত্র ৮ বছর। বাবা রিক্সাচালক। দু-বোন সহ ৪ জনের সংসার হলেও সংসারে অভাবের কারনে এক মেয়ে শোভা আকতার (৮) কে বাড়ির কাজের ঝি হিসেবে পাঠান ঢাকায় এক ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে।

শোভার বাবা বাবলু জানান, গত ১১ মাস আগে তার মেয়ে শোভাকে পেটেভাতে থাকবে এমন শর্তে ঠাকুরগাঁওয়ের গোয়ালপাড়ার প্রতিবেশি ব্যাংকার সোয়াবুর রহমান সালাম ঢাকার মিরপুরের বাসায় নিয়ে যান। শিশুটির দ্বারা বাসার সব কাজই করানো হতো। শিশুটি অভ্যাসগতকারনে ঘুমের ঘোড়ে বিছানায় প্রসাব করতো। তার এ অপরাধে তাকে সালামের স্ত্রী পলি শোভাকে প্রতিদিন সকালে উঠেই মারপিট সহ নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন করতো। মাঝে মাঝে তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হতো সারাদিন। এবং শেষ পর্যন- রাতে তার শোবার জায়গা হয় বাথরম্নমেই। বাথরুমের দুর্গন্ধ আর ঠান্ডা শিশুটিকে আরষ্ট করলেও ওই গৃহকর্তা আর গৃহকত্রীর মন গলেনি। তার মাথার চুলও ন্যাড়া করে দেয়া হয়।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। বিছানায় প্রস্রাব করা বন্ধ না হওয়ায় গরম লোহা দিয়ে ওই শিশুটির যৌনাঙ্গ, শরীরের বিভিন্ন অংশে. পিঠে, হাতে পায়ে গরম লোহার ছ্যাকা দেয়া হয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় হাতের নখ। আগুনের ছেকায় শিশুটির ডান পা এবং হাতে পুড়ে গিয়ে দগদগে ঘা হয়ে গেছে।

গত কয়েকদিন আগে গৃহকত্রী পলি ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন। সাথে ওই শিশুটিকেও নিয়ে এসে তার বাবা-মায়ের কাছে ফেরত দেন। কিন’ শিশুাটকে ভয় দেখান মারপিটের কথা কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলা হবে।

শিশুটির মা শিশুটির সারাশরীর এবং যৌনাঙ্গে পুড়ে যাওয়া এবং দগদগে ঘা দেখে মুর্ছা যান। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। শিশুটি ঘটনা খুলে বললে, শিশুটির পিতা বাবলু রাতেই ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শাহ আলমের কাছে গিয়ে ঘটনা খুলে বলেন। এ ব্যাপারে পুুলিশ সুপারের সহায়তায় একটি অভিযোগ লিখে তা মিরপুর থানায় পাঠানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঠাকুরগাঁও পুলিশের একটি টিম ওই শিশুটি ও তার বাবাকে ঢাকায় নিয়ে যান। পুলিশ সুপার জানান, অনেক এমন নৃশংস ঘটনা দেখেছি, কিন’ এ ঘটনা সবগুলোর মধ্যে অন্যতম।