ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ঠাকুরগাঁওয়ে জোড়া খুন সহ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলা ক্লুলেশ ও তদন্তে অবহেলা
এবারও অভিযোগের আঙ্গুল পুলিশের দিকেই

দু-বোনকে ধর্ষন অতঃপর নির্মম ভাবে ঘটনার কিছুদিনের মধ্যে আবারও একই ভাবে ঘটে আর এক তরুনির হত্যা কান্ড। মামলার বাদী ঘটনায় জড়িতের সনাক্ত করে দিতে পারলেও পুলিশের তদনে-র অবহেলায় ওই নির্মম ঘটনায় জড়িতরা খালাশ পেয়েছে। ২০০৫ সালে সংঘটিত হত্যাকান্ডদুটি একই ইইনয়নের দুই কিলোমিটারের ব্যবধানে ঘটে। এবার গত ১৩ জানুয়ারি দুই কিলোমিটারের মাঝখানে রানীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের মুনিষগাঁওয়ে চতুর্থ শ্রেনীতে পড়-য়া রিতু নামের ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষন করে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত দুটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে। বর্তমানে ঘটনার শিকার ওই শিশুর পিতা সহ এলাকার লোকজন এবারও অভিযোগের আঙ্গুল তুললেন পুলিশের দিকে। তাদের আশংকা আবারও এ নির্মম হত্যাকান্ড ক্লুলেশ অথবা অপতদনে-র শিকার হতে যাচ্ছে।

তবে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শাহ আলম গতকাল সোমবার কালের কন্ঠকে দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে বলেন, পূর্বের ঘটনাগুলো আমার জানা নেই। তবে এটা ২০১২ সাল। ঘটনার তদন- দ্রুতগতিতে এগুচ্ছে। টেকনোলোজির উন্নতি হয়েছে। আমরা পেয়ে গেছি ঘটনার সাথে কারা জড়িত থাকতে পারে। এখন শুধুই তাদেরকে গ্রেপ্তারের অপেক্ষা।

২০০৪ সালে রানীশংকৈল উপজেলার ভান্ডারা গ্রামে আদিবাসী নববধু বিউটি সরেন ওরফে তালামাই (২২) কে দুবৃত্তরা ধর্ষন করে জবাই করে খুন করে। মৃত্যুর পূর্বে হাসপাতালে সে ইশারা ইঙ্গিতে খুনির কথা বললেও পুলিশ ওই ঘটনায় কাউকে সনাক্ত করতে পারেনি। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও শেষ পর্যন- আর্থিক ভাবে লাভবান হয়ে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় ও ঘটনা ক্লুলেশ বলে সে মামলার ফাইল বন্ধ করে দেয়।

২০০৫ সালে একই উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে সাবিনা (১৮) ও খুসি (১৭) কে রাতের আধারে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেতে ধর্ষন করে খুন করে দুবৃত্তরা। ময়নাতদনে- খুসির পেটে ৭ মাসের একটি মৃত সন-ানও পাওয়া যায়। ঘটনাটি ডাবল মার্ডার হলেও ট্রিপল মার্ডার নামে এখনোও এলাকায় আলোচিত। ওই ঘটনায় পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে গ্রামের নিরীহি ১৩ ব্যক্তিকে ধরে এনে মারধর করে টাকা আদায় করে। জড়িত সন্দেহে একজনের নামে দুর্বল অভিযোগপত্র দিলে মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে গিয়ে শেষ হয়ে যায়।

ওপরের দুটি ঘটনাতেই স্থানীয় এলাকাবাসী, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হাজার হাজার নারী পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল করে।

সাবিনা-খুসির হত্যাকান্ডের মাত্র দেড় মাসের মধ্যে একই ইউনিয়নের ভন্ডগ্রাম গ্রামে পুতুল (১৬) নামে দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ধর্ষন ও খুন করে দুবৃত্তরা। ঘটনায় মামলা হয়। বাদি খুনির পরিচয় ও প্রমান পুলিশের সামনে উপস’াপনা করলেও পুলিশ অভিযুক্তকে বাঁচাতে বাদিকেই মারধর করে ও পরিবারের সবাইকে হুমকি প্রদর্শন করে অভিযুক্তকে পার পাইয়ে দেয়। এলাকাবাসীর চাপের মুখে অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও অভিযোগপতে পার পাইয়ে দিয়েছে অভিযুক্তকে।

মাত্র ১৫০ টাকা চুরি করার অপরাধে নির্মমভাবে খুন হয় একই উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের দিনেশ (২২) নামে এক দোকান কর্মচারী। খুনি ওই কিশোরকে সারারাত আটকে রেখে প্লাস দিয়ে তার হাত ও পায়ের নখ তুলে ফেলে। শুধু তাই নয়, ওই তরুনের গোপনঅঙ্গে একটি লোহা ঢুকিয়ে দেয়া হয়, থেতলে দেয়া হয় অন্ডকোষ। তারপর তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে চৌকির ওপর মশারি দিয়ে গলা পেচিয়ে কোন রকমে তাকে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। দরিদ্র দিনেশের বাবা এ ঘটনায় হত্যা মামলা করলেও পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে অভিযোগ পত্র দিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে অভিযুক্তদের পার পাইয়ে দিয়েছে।

গত ১৩ জানুয়ারি এবার ধর্ষন আর খুনের শিকার হয়েছে নন্দুয়ার ইউনিয়নের মুনিষগাঁও গ্রামে। পাষন্ডরা চতুর্থশ্রেনীতে পড়-য়া ১০ বছর বয়সী রিতুকে ভয়াবহভাবে ধর্ষন করে ও খুন করে। গম ক্ষেতে পড়ে থাকা রক্তাক্ত ওই শিশুটির বিবস্ত্র লাশ দেখে এলাকার অনেকেই মুর্ছা গেছেন। এখন এ ঘটনাটি পুলিশের তদন-াধীন।
রিতুর সহপাঠিরা মেধাবী রিতুকে ভুলতে পারছে না কিছুতেই। চোখ মুছতে মুছতে তারা এ হত্যাকান্ডের বিচার চেয়েছে। শিক্ষকগনও মেধাবী ওই ছাত্রীর মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না।
এলাকার কয়েকজন জানান, একই ইউনিয়নের পাশাপাশি কয়েকটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এখনো এলাকায় আলোচিত। অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় একের পর এক ঘটনা ঘটছে বলে তারা অভিযোগ করে বলেন, এসব খুনের ঘটনার জন্য পুলিশের অপতৎপরতা এবং লালসাই দায়ি। রিতুর ঘটনার দায় পুলিশ কিছুতেই এড়াতে পারেন না। রিতুর হত্যা কান্ডের বিষয়টিও এই ধারাবাহিকতায় চলছে বলে তারা সংশয় প্রকাশ করেন।
রিতুর বাবা আবু সৈয়দ অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে কারা হত্যা করতে পারে তার কথা পুলিশকে আমি বরেছি। আসামীরা এলাকাতে গোপনে ঘুরাঘুরি করছে। পুলিশকে খবর দিলেও পুলিশ আসামী ধরতে আসে না। আমি এখন কার কাছে গিয়ে এর বিচার চাইবো।