ক্যাটেগরিঃ কৃষি

প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ৬০ বছর আগে নির্মিত ঠাকুরগাঁও বুড়ির বাধ সেচ প্রকল্প এলাকার মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠেছে। ওই এলাকার প্রায ১১ হাজার একর জমি পরিনত হয়েছে একফসলী জমিতে।
এলাকার মানুষ সেচ সুবিধা পাবে, মেতে উঠবে চাষাবাদে, জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার হবে-এ লক্ষ্যে ঠাকুরগঁওয়ের আখানাগনগর ইউনিয়নে ১৯৫১-৫২ সালে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় একটি ব্যারেজ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ি বাংলাদেশের ৪ টি ব্যারেজের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়ির বাধ ব্যারেজ যা বর্তমানে বুড়িবাধ সেচ প্রকল্প নামে পরিচিত।

বর্ষা মৌসুমে ব্যারেজের ড্রেনের মধ্যে ও বাধ দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রন করে এলাকার প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে আমন চাষাবাদ করা হতো। এ কারনে ছোট বড় মিলে বেশ প্রশস- ১১ কিলোমিটার কয়েকটি ড্রেন তৈরী করা হয়। এ ড্রেন এর মধ্যে জমি রয়েছে প্রায় ১ হাজার একর।

সময়ের বিবর্তনে মানুষ প্রয়োজনের কারনে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে। ঠাকুরগাঁওয়ের কোন কোন স’ানে বছরে ৩ টি ফসল তো বটেই ৪ টি ফসল পর্যন- কৃষকরা উৎপাদন করছে।

কিন’ বুড়ির বাধ প্রকল্প এলাকার কৃষকরা জানালেন, বছরে আমনধান চাষ করেই তাদের সন’ষ্ট থাকতে হচ্ছে। তাও আবার এ বাধের কারনে নয়। বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির পানিতেই তারা চাষাবাদ করছেন। তখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে আর ব্যারেজের ক্যানেলগুলোও থাকে পানিতে পরিপূর্ন। ক্যানেলের পানি তাদের কোন কাজে আসে না।

সেচ প্রকল্প এলাকা হওয়ায় এ অঞ্চলে কোন গভীর নলকুপ গড়ে উঠেনি। শুষ্ক মৌসুমে এজন্য গম, সরিষা ছাড়াও বোরো ধানের আবাদ তারা করতে পারছেন না।

এলাকার কৃষক আবু সালেহ, কামরুজ্জামান, সেতারা দেবী সহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও এলাকায় কোন গভীর নলকুপ বসানোর ব্যবস’া করতে পারেননি। বুড়ির বাধকে ঘিরে ১০ টি গ্রামের লোকের প্রায় ১১ হাজার একর জমি একফসলী জমিতে পরিনত হয়েছে। আর্থিক অনটনে দিনানিপাত করছেন তারা। তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, ফসলী জমির অভাব অনেক অথচ এ বুড়ির বাধ প্রকল্পের ক্যানেলে প্রায় এক হাজার একর জমি পড়েই রয়েছে। এসব ক্যানেলের দু-ধারে কিছু কমদামী গাছ লাগানো হয়েছে। কৃষকরা জানান, গভীর নলকুপ না বসালেও ক্যানেলগুলোকে গভীরভাবে খনন করে বর্ষার পানি আটকে রাখলে এলাকার জমিগুলো বহুফসলীয় জমিতে পরিনত হতো। মানুষ বাধের কারনে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ এটা একটা উচ্চাভিলাসী প্রকল্প ছিল। যা এলাকার মানুষের কথা বিবেচনা না করেই তৈরী করা হয়েছিল। সেতারা অভিযোগ করে বলেন, শুধুমাত্র আমন ফসল করেই তাদের চুপ থাকতে হচ্ছে। বছরের প্রায় সব সময়ই তাদের জমি পতিত হয়ে থাকছে। সংসার বড় হয়েছে। বাধ এলাকায় ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। ওই জমিই তাদের ভরসা। এক ফসল করে সংসার চলছে না।

এদিকে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমুল হক জানান, ওই প্রকল্পটি আসলে বর্ষার সময় মানুষ যেনো ওই পানি দিয়ে আমনধান চাষাবাদ করতে পারে এরই লক্ষ্যে বুড়িরবাধ প্রকল্প সেচ প্রকল্প তৈরী করা হয়েছিল।

বুড়ির বাধ এলাকার প্রায় ১১ হাজার একর জমি এক ফসলী হয়ে পড়েছে, বাধের ক্যানেলের পানি এলাকার মানুষের কোন উপকারে আসছে না এটা জানার পরেও তিনি বলেন, এলাকার মানুষ এ বাধের ফলে উপকৃত হয়েছে ! মানুষ ভুগর্ভস’ পানির ব্যবহার করতে পারবে। কিন’ কিভাবে পানির ব্যবহার করবে এ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।