ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

খুব চঞ্চল ছিল মন্নুজান। তা সত্ত্বেও মায়ের বড় ভক্ত ছিল সে। বাবাও কম ভালো বাসতেন না মন্নুজানকে। নদীতে গোসল করতে গিয়ে হারিয়ে যায় মন্নুজান। পাগল প্রায় মন্নুজানের মায়ের আহাজারিতে গ্রাম শুদ্ধ মানুষ নেমে যায় মন্নুজানের খোঁজে। তাকে পাওয়া যায় চার দিন পরে তার এক বন্ধুর বাড়িতে। ১২ বছর বয়সী মন্নুজানের কাছে এটা সামান্য ঘটনা হলেও-মায়ের আহাজারি আর কান্নায়, ভালোবাসায় সিক্ত মন্নুজান আর এ ভুল করেনি।

৩ ভাইবোনের মধ্যে সে বড়। দরিদ্র-ভূমিহীন এ পরিবারটি বাবার পাশাপাশি মন্নুজানও মজুরের কাজ করতো। সে দিন ছিল শুক্রবার। দুপুর বেলা মা ইসমতআরা ছেলেকে দুপুরের খাবারের জন্য তাড়া করে। কিন’ সে মাকে জানায় একটু পড়ে খাবে সে। তারপর চলে যায়। ঘন্টার পরে ঘন্টা অপেক্ষা করেও ছেলে আসছে না দেখে এদিক ওদিক খুঁজতে শুরু করেন। তারপরে গ্রামের লোকেরা মন্নুজানকে সন্ধার পরে আবিষ্কার করেন, ভারতীয় সীমানে-র কাছে রক্তাক্ত অবস’ায় পড়ে আছে সে। ওপারের গরু ব্যবসায়িরা মন্নুজানের হাতে তুলে দেয় একজোড়া গরু-বাংলাদেশের ভেতরে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ির কাছে পৌছে দেবার জন্য। বিনিময়ে সে পাবে ৩শ টাকা। কিন’ ফিরতে পারেনি সে। বিএসএফ এর টহল দল তাকে গুলি করে হত্যা করে। মাথার পেছনে গুলি লেগে মন্নুজানের মাথার বিকৃতি ঘটে। সেখানেই মাটিতে লুটিয়ে পরে মারা যায় সে।

৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মন্নুজানের মা ভাত খেতে বসলেই ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠেন। ছেলের বিকৃত লাশ দেখে তিনি সেদিন মুর্ছা যান, পরে সম্বিত ফিরে পেলেও-আজো কাঁদেন। ছেলে ফিরে আসবে না আর এটা তিনি নিশ্চিত হলেও ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠে বলেন, আমার ছেলেটা ভাত না খেয়েই চলে গেলো।

রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে গরুর গোশতের জোগানদাতা গরু ব্যবসায়িরা অবৈধপথে গরুর এ ব্যবসা চালিয়ে গেলেও মন্নুজানদের মৃত্যু তাদের কাছে নিছক একটি ঘটনা। বন্ধ নেই অবৈধ পথে এ গরুর ব্যবসা-কারন চোরাইপথে আসা এ গরুর বৈধতা দিচ্ছেন বিজিবি, আর বৈধতা ফি হলো মাত্র ৫শ টাকা। ধর্মীয় দৃষ্টিতে এটা হারাম কি হালাল-সেদিক না হয় নাইবা গেলাম। তবে এ গরুর গোশতের পেছনে রয়েছে লাশ আর লাশ। একদিকে লাশ অন্যদিকে গরুর গোশত ?

এ অবৈধতান্ডব বন্ধ হলে হয়তো আর কেউ লাশ হবেন না। তবে তার আগে দরকার ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান- পাড়ের মানুষগুলো সহ সারাদেশের সীমান-পাড়ের মানুষগুলোর জন্য অর্থনৈতিক মুক্তির ব্যবস’া করা।