ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

সেই ছোটবেলার কথা। গ্রাম থেকে শহরে এসেছি । স্কুলে ভর্তি হতে হবে ।ভর্তি পরীক্ষা দিতে গেলাম। শহরের সেরা স্কুলে ক্লাস ওয়ানের ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখি ক্লাস ২-৩ পড়ুয়া বড় ভাইরাও পরীক্ষা দিচ্ছে। তখনই পরিচয় আদু ভাইদের সাথে।

আবার এল ক্লাস ৬ এর ভর্তি পরীক্ষা । জেলার সেরা হাই স্কুল বলে পুরা জেলা থেকেই সব ছাত্ররা এখানে ভর্তি পরীক্ষা দেয়। কিন্তু এখানেও আদু ভাইদের হাত থেকে রক্ষা নাই। আমরা ১০-১৩ জন বন্ধু পরীক্ষা দিলাম। টিকলাম আমি এবং আমার ২ বন্ধু। আমার খুব প্রিয় বন্ধু মিরাজ টিকলো না। সে খুব ভাল ছাত্র ছিল। কিন্তু ভাল ছাত্র হলে কি হবে? আমাদের প্রতিযোগিতাটা হচ্ছে বড় ভাইদের সাথে। যাদের অনেকেই ১ বছর শুধু ভর্তির জন্য পড়ালেখা করেছে।

এই বছর HSC পরীক্ষা দিলাম । ভাল রেজাল্টও করলাম। ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবো। কিন্তু এখানেও রক্ষা নাই। বরং এখানে আদু ভাইদের আগ্রাসন আর বেশি। তার উপর আছে প্রশ্নপত্র পাসের ভয়। ঠিক তখন খবর পাই “এবার GPA এর ভিত্তিতে মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তি নেয়া হবে”। মনে হল এবার বাঁচলাম । কিন্তু বাঁচলাম কই???? কোচিং সেন্টারগুলা
আদু ভাইদের নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ল। কোচিং সেন্টারগুলার উল্টাপাল্টা কথা শুনে ১ম বারের কিছু ছাত্রও রাস্তায় নামল। পরে অবশ্য তারা সরে এলো। আদু ভাইদের রক্ষা করতে এগিয়ে এল মিডিয়া , এল কোচিং সেন্টারগুলাতে ক্লাস নেন এমন বড় ভাইরা (কোচিং সেন্টারগুলা বন্ধ হলে যে তাদের পেটে লাথি)। আরও এল সুশীল-সমাজের অনেকেই ।

মিডিয়া ও সুশীলদের উদ্দেশ্যে : মিডিয়া বারবার প্রচার করছেন “মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তি-ইচ্ছুরা নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন।”অথচ বাস্তবটা কি? প্রতি বছর মেডিকেলের ৫০-৬০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দেয়। তার মধ্যে ২ হাজারই মাত্র ২য় বার(আদু ভাইরা) এবং এরাই মুলত আন্দোলন করছে । কিন্তু ২য় বারের (আদু ভাইরা) দখল করে নেয় ৭০-৮০% সিট। কিভাবে?

আমরা যারা ১ম বার পরীক্ষা দেব তারা প্রস্তুতির জন্য পাই ২-৩ মাস সময়। আর যারা ২য় বার(আদু ভাইরা) তারা সময় পেল ১২-১৪ মাস । কিন্তু প্রশ্ন ঠিকই একই ।তাহলে বলুন এটা কি ধরনের মেধা যাচাই?????????? প্রশ্নপত্র পাসের কথা তো সবারই জানা। তাই মিডিয়া ও সুশীলদের বলছি “২-৩% শহুরে বুড়ো আদু ভাইদের আবদার রক্ষায় ব্যস্ত না হয়ে। ৯৭-৯৮% ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্নকে রক্ষা করুন। তা না হলে এই ৯৭-৯৮% আপনাদের কখনই মাফ করবে না।