ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

শহরতলী ব্যান্ড,বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের এক অনন্য ধারার স্রষ্টা।গানের সাথে কবিতার সংমিশ্রনে আবহভিত্তিক প্রকাশনা তাদের অনন্যধারার পরিচয় বহন করে।

থিয়েট্রিকাল রক এর প্রচলন

শহরতলী সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড যাদেরকে বলা হয় “থিয়েট্রিকাল রক” ব্যান্ড।এ ধরনের গান নিয়ে চিন্তা ভাবনা কেন তা জানতে চাইলে ব্যান্ডের ভোকালিষ্ট ও গীতিকার গালিব আজিম বলেন, “আমাদের অনেকের একটা বাজে ধারনা আছে সেটা হচ্ছে আমরা কবিতাকে বইয়ের মলাট কিংবা পাঠ্যপুস্তকে আবদ্ধ রাখতেই বেশী ভালোবাসি।কিন্তু এটিও আমাদের সাহিত্যের একটা অংশ”। “আসলে একটা মঞ্চে যেমন একই সাথে গান, নাচ, কবিতা, গীতিকবিতা,অভিনয় গীতিনাট্য সবকিছুকে এক বিন্দুতে নিয়ে এসে একটা আবহ তৈরি করা হয় এবং সব অভিব্যক্তি ঐ আবহ ঘিরেই প্রকাশিত হয়; ঠিক তেমনি আমরা সংগীত, সুর, কবিতা ও গীতিকবিতা দিয়ে একই কাজ করার চেষ্টা করছি, এবং এটিই আমাদের থিয়েট্রিকাল রকের পরিচায়ক”,ব্যান্ডের বেজিষ্ট ও গীতিকার তপন মাহমুদ বলেন।

ব্যান্ডের পথচলা:

২০০৪ সালে শহরতলী (তখন কোনো নাম ছিলা না) ব্যান্ড গঠিত হলেও তখন সদস্য ছিল মাত্র ৩জন।মিশু,গালীব ও বিদ্যুত; পরবর্তীতে এসে যোগ দেন তপন ও সানি।২০০৫ সালে “শহরতলী” নামে ব্যান্ডটি গঠিত হয়। “একদিন বসে বসে আমরা সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছি।আমি কবি আসাদ চৌধুরীর একটি কবিতা আবৃতি করছিলাম, সাথে সাথে মিশু গুন-গুন করে গাইছে। তখনি মূলত এমন একটি ব্যান্ড করার ইচ্ছা জাগলো সবার মনে, যেখানে বিষয়বস্তু কিংবা গানের মূল বক্তব্য কবিতার সহচার্যে প্রকাশ করা যাবে” বলছিলেন গালিব। পরবর্তীতে গানটি “নিয়ন আলোয় স্বাগতম” নামে একটি ব্যান্ড মিক্সড এ্যালবামে প্রকাশিত হয়।ফলাফল কিছু শ্রোতা শহরতলীর শহরে ভিড়তে শুরু করেন। গানটি সমালোচকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

বরাবর শহরতলী……

শ্রোতাদের কে আরো নতুন কিছু দেওয়ার ভাবনা থেকে শুরু হয় তাঁদের প্রথম এ্যালবামের কাজ।১০টি গান সংযোজনের মাধ্যমে এ্যালবামটির কাজ শেষ হয়। দীর্ঘ ৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই এ্যালবামটি গত বছরের ৬ডিসেম্বরে “বরাবর শহরতলী” নামে প্রকাশিত হয়। মজার ব্যাপার হলো, তাদের গানগুলো এই শহরকে ঘিরেই।এ শহরের হাসি, কান্না, ভালোবাসা, আড্ডা, জীবনবোধ, নৈতিকতা, অবক্ষয়সহ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযু্দ্ধের চেতনাকে তারা এতো কাছ থেকে অবলোকন করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন যে তা ভূয়সী প্রশংসার দাবিদার।

এ্যালবাম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য:
এ্যালবামের নাম: বরাবর শহরতলী
ব্যান্ড: শহরতলী
গানের শিরোনাম:
১.এ শহর
২.প্রতিক্রিয়া
৩.আকাশ-পৃথিবী
৪.পদদ্ধনি
৫.প্রস্থান
৬.অতলে শহরতলী
৭.সোনালী সেই দিনে
৮.দ্রোহের দরে দেহ
৯.কর্কশ
১০.জেল খানার চিঠি (খোলা চিঠি-২)

ওয়েব সাইট

এ্যালবাম সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়ার কথা জানতে চাইলে ভোকালিষ্ট মিশু বলেন, “যেহেতু আমরা সম্পূর্ণ আলাদা ধা্ঁচের গান করি, একটা ঝুকিঁ তো ছিলই, কিন্তু শ্রোতাদের বিপুল আগ্রহের কারনে ব্যান্ডের ২য় এ্যালবামের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করে দিতে বাধ্য হয়েছি।”বোঝা যাচ্ছে আপন মহিমায়, স্বতন্ত্র ছন্দে আর স্বকিয়তা ঠিক রেখেই এগিয়ে চলেছেন তারা।

লাইন আপ:
গালিব আজিম: ভোকাল,গীতিকার
মিশু-ভোকাল, গিটার, গীতিকার
বিদ্যুত-গিটার(লিড)
তপন-গিটার(বেজ),গীতিকার
সানি- ড্রামার,সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার।

বর্তমান ব্যস্ততা:

জানিয়ে রাখা ভালো,সামনে একটি মিক্সড এ্যালবামে শহরতলী’র গান থাকছে।শিরোনাম “আমি লজ্জিত ফেলানী ২০১১।”গানটি সম্পর্কে ড্রামার সানি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, “ফেলানীর ঘটনা আমরা সবাই জানি।কি নির্মমভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে বি.এস.এফ, একটি কিশোরীকে।আমদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে তথাকথিত সুসম্পর্কের নিন্দেই মূলত এই গানটিরর উপজীব্য। আশা করি গানটি সবার ভালো লাগবে।”

সবশেষে আবারো শহরতলী’র পক্ষ থেকে গালিব আজিম বলেন,”যারা আমাদের গান শোনেন,আমাদের গান ভালোবাসেন তাদের প্রতি রইলো কৃতজ্ঞতা।যারা শহরতলী’র গান শোনেননি,তাদের কাছে অনুরোধ একবার হলেও শুনুন”।