ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মহাজোট সরকারের আমলে ছাত্রলীগকে নিয়ে কিছু বলতে আতঙ্কও হয়; আবার রোমাঞ্চবোধও হয়। তাদের কল্যাণে ভার্সিটি ও কলেজগুলো ডাকাতদের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। সেগুলোতে চলছে জঙ্গি ও জংলি শাসন। ভিসি ও প্রোভিসিরা পরিণত হয়েছেন এই ডাকাতপল্লীর পাহারাদারে। ডাকাতরা ডাকাতি করুক, আগুন দিক, খুন করুক, ধর্ষণ করুক—ভিসি নামক এই তল্পিবাহকদের কাজই হলো সেসবকে জায়েজ করা, তাদের রক্ষা করা। আর ভিসি বাছাইয়ের ক্রাইটেরিয়াও অসাধারণ। এখন শুধু আওয়ামী লীগের বা বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা হলে ভিসি হওয়া যায় না। বাড়ি হওয়া চাই গোপালগঞ্জ; নইলে হতে হবে শেখ ফ্যামিলির কারও না কারও আত্মীয়-বেরাদর। আর যদি তিনি প্রধানমন্ত্রী বা তার পরিবারের গৃহশিক্ষক হন, তাহলে তো পোয়াবারো। তাকে আর পায় কে? তিনি ক্যাম্পাসের জংলি শাসনের স্বাধীন গভর্নর। তার অবশ্য আর একটা গুণ অতি অবশ্য থাকা চাই—তা হলো তাকে হতে হবে মহা নির্লজ্জ। তাকে সবাই থুথু দিলেও তার গদি ছাড়া চলবে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের ক্ষেত্রে আমরা তেমন বেহায়া নজির দেখলাম। এদের আরেকটা অ্যাজেন্ডা রয়েছে—ছাত্রলীগের ক্যাডারদের ধরে ধরে শিক্ষক বানানো। এ কারণে শিক্ষকতার মান বলে আর কিছু থাকছে না। শিক্ষকদের আচরণ আর গুণ্ডাপাণ্ডার আচরণের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকছে না। বুয়েটে যা হচ্ছে, তা বিশ্ববেহায়া এরশাদকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভিসি সাহেবের বিরুদ্ধে একমাত্র ছাত্রলীগের গুটিকয়েক সন্ত্রাসী ক্যাডার বাদে পুরো বুয়েট পরিবার এক হলেও তিনি নড়ন-চড়ন নট। কারণ কী? তার খুঁটি বড় শক্ত। তিনি নাকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর গৃহশিক্ষক।

এত বিরাট একখানা যোগ্যতা। এমন যোগ্যতা থাকলে তিনি আজীবন বুয়েট ভিসি থাকার আবদার করতে পারেন। অন্তত শেখ হাসিনা যতদিন প্রধানমন্ত্রী আছেন, ততদিন তার অপসারণ চাওয়াই তো একটা নাজায়েজ, হারাম কাজ। তার ছাত্রী এরই মধ্যে আরও দু-এক টার্ম প্রধানমন্ত্রী থাকার আশাবাদ জানিয়েছেন; তার চামচারা চায় তিনি আজীবন থাকুন, সেখানে ওস্তাদ মহোদয় অকালে সরে দাঁড়াবেন, এটা হয় না। বুয়েটকে তিনি অন্যায়-দুর্নীতির স্বর্গ বানিয়েছেন, সে না হয় সত্য; কিন্তু তিনি তো পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারির মতো ব্লান্ডার কিছু করেননি। তারপরও তার ছাত্রী যদি গদি আঁকড়ে থাকতে পারেন, তবে তিনি কেন পারবেন না। গুরু পাপে কোনোরকম শাস্তি—পদাপসারণ হবে না; আর লঘু পাপে তাকে সরে যেতে হবে, এ ভারি অন্যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কানের চিকিত্সক হওয়ার সুবাদে একজন ডাক্তার বিএসএমএমইউ’র ভিসি হয়েছিলেন আড়াই বছরের জন্য। তিনি দিব্যি পাঁচ বছরের জন্য টিকে যাচ্ছেন। কই তাকে সরাতে স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ একাট্টা আন্দোলনে নামেনি—আর তার বিরুদ্ধেই যত ষড়যন্ত্র। এ প্রশ্ন অবশ্যই বিবেচনায় আনা দরকার—কে বড়? গৃহশিক্ষক গুরুজি, না কানের চিকিত্সক! এসব প্রশ্নের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো অবস্থাতেই পদত্যাগ করতে পারেন না। এক জঙ্গলে দুই আইন কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন, তাকে ততদিন অবশ্যই ভিসি থাকতে দিতে হবে। সাধারণ ছাত্র ও শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে ঘৃণাস্তম্ভ করেছে, তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছে—তাতেও কোনো সমস্যা দেখছি না। শেখ হাসিনার সরকারের বেনজীর দুর্নীতি নিয়ে দেশের লোক তো বটেই, দুনিয়ার দেশে দেশে রি-রি ঢি-ঢি পড়ে গেছে। কই শেখ হাসিনা তো গদি ছেড়ে পালাননি। তিনি বড়গলায় জাতিকে ও বিশ্ববাসীকে সততা, দেশপ্রেম, নীতিবোধের শিক্ষা দিচ্ছেন। তবে তিনি কেন পালাবেন? বুয়েটের শিক্ষকরা আলটিমেটাম দিয়েছেন—হে হে তারা নাকি গণপদত্যাগ করবেন। এটা করলে তো খুব ভালো হয়। একবার গণপদত্যাগ করলে সরকারের উচিত হবে সব রিজাইন লেটার গ্রহণ করা। বিশ্বব্যাংককে যেমন প্রধানমন্ত্রী খেদিয়ে দিয়েছেন, এই শিক্ষকদেরও তাড়ানো উচিত। বিশ্বব্যাংককে না তাড়ালে আজ একচ্ছত্র পদ্মা চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করা যেত না।

বিশ্বব্যাংকের দালাল অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ শুনলে সব সময় চলে না। দেশীয় চাঁদার খনি প্রকল্পে কোনো ক্রমেই বাইরের লোকজন রাখা চলে না। ওরা নীতিকথার নামে সব ভণ্ডুল করতে ওস্তাদ।

বুয়েটের গণপদত্যাগ-উত্তর পরিস্থিতির ষোলোআনা মওকা সরকারের নেয়া উচিত। ওরা স্বেচ্ছায় চলে গেলে কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর পদ রাতারাতি খালি হবে। এমন সুবর্ণ মওকা আর কখনও কি আসবে? শেখ হাসিনার উচিত হবে ওইসব খালি পোস্টে রাতারাতি ছাত্রলীগের ক্যাডার বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের টিচার বানিয়ে নিয়োগ দেয়া।