ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

এক ক্লিকবাজ এমডির নিচে চাকরি করতে গিয়ে ডিএমডি খুবই পেরেশান। এক সকালে অফিসে বসতে না বসতেই বড়কর্তার পিওন এসে ডিএমডিকে জানাল—সালাম দিয়েছেন বড় সাহেব। ডিএমডি যথারীতি ছুটলেন। আসসালামু আলাইকুম। স্যার কি আমাকে ডেকেছেন? বড়কর্তা চশমার ফাঁক দিয়ে সরু করে তাকালেন। মেঝকর্তাকে দেখলেন। তারপর চুপচাপ। কিছু বলছেন না। নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। বসতেও বললেন না ডিএমডিকে। মেঝ খুবই অপ্রস্তুত। না বললে বসতেও পারেন না তিনি। খুবই মুশকিল। ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকক্ষণ কেটে গেলে তিনি গলা খাঁকারি দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন আবার। সঙ্গে সঙ্গে চশমার ফাঁক দিয়ে বড়’র সেই সরু চোখ।
কী ব্যাপার! কী চাই? তুমি এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাশতেছ কেন! তোমার কাশির ব্যারাম আছে নাকি!
ডিএমডি খুবই অবাক। এসব কী বলছেন এমডি!
তিনি কিছু বলার আগেই বড়কর্তার আবার ধমক।
আশ্চর্য! নিজের সিটে তোমার কি কোনো কাজকাম নেই?
স্যার, আপনি তো আমাকে ডেকেছিলেন! আমি তো আপনার তলব পেয়েই এসেছি।
এমডি দিব্যি চোখ উল্টে বললেন, না, আমি তো তোমায় ডাকিনি। এই সাতসকালে তোমাকে আমার কী দরকার!
কিন্তু স্যার, আপনার পিওন তো গিয়ে আমাকে ডাকল!

খেঁকিয়ে উঠলেন বড়কর্তা। আশ্চর্য! আপনার কমন সেন্স বলতে কি কিছু নেই! একটা গিয়া আপনাকে ডাকল! আর আপনি আইসা উপস্থিত! আপনি পিওনের চাকরি করেন, না আমার! আরে আমার কাছে ইন্টারকম আছে না! ডাকলে ফোন কইরা তো ডাকতাম। রিমেমবার, ইউ আর নট আন্ডার পিওন।

সেদিন নাকানি-চুবানি খেয়ে ডিএমডি তার সিটে ফিরে গেলেন।
পরদিন এমডির পিওন আবার তার সামনে উপস্থিত।
কী ব্যাপার?
এমডি স্যার তলব করেছেন অপনাকে।
গম্ভীর চোখে তিনি পিওনের দিকে তাকালেন। ইচ্ছে হচ্ছিল কষে একটা ধমক দেন।
ব্যাটা ফাজলামি করছে মনে হয়।
নিজেকে সামলালেন, কিছু বললেন না।
পিওন চলে গেল। ডিএমডি সিট ছেড়ে উঠলেন না। আর যাই হোক তিনি পিওনের আন্ডারে চাকরি তো আর করেন না।

দু-চার-পাঁচ মিনিটও যায়নি। ইন্টারকম বেজে উঠল।
ফোনটা তুলতেই বাজখাই গলার ধমক। কী ঘটনা আবদুর রহম্মান মিয়া! ডিএমডি হইয়া তো অফিসের সুপার-বস মনে করতেছ নিজেরে। আরে আমি অফিসে এখনও আছি তো। এখনও মরি নাই।
ডিএমডির আক্কেলগুরুম অবস্থা। স্যার, স্যার! আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারছি না, স্যার!
অতো তোতলাইও না মিয়া। আমি যে তোমারে ডাকলাম। আসলা না যে। পায়ে কি চুম্বক বাইন্ধা চেয়ারে বসছো। নাকি তোমার ভাব বাড়ছে। ভাবতেছ তেলবাজি করে আমার চেয়ারে বসবা। ভুইলা যাইও না মিয়া—রাস্তা দিয়া আইনা চাকরি দিছিলাম। আমি যদি না থাকতাম তুমি তো রাস্তায় রাস্তায় ফ্যা ফ্যা কইরে ঘুরতা।
স্যার, আপনি কই আমারে ডাকলেন। আমি তো ডাক পাই নাই।
ক্যান, আমার পিওন কি তোমারে তলব করে নাই।
কিন্তু স্যার, আমি তো পিওনের আন্ডারে চাকরি করি না। আপনার তো আমারে ইন্টারকমে ডাকার কথা।
বেয়াদপ! আমারে সার্ভিস রুল শেখাচ্ছো। ডিএমডি হইয়া তোমার তেল খুব বাড়ছে! তা-ই না। তোমারে পিওন দিয়া ডাকপো, না ফোন করুম—এইটা তোমার কাছে শিকপার লাগবে। আইসো তোমার তেল কমাই। তোমার জন্য চিঠি রেডি।
কিসের চিঠি, স্যার!
আইসা নিয়া যাও। এইবার তো ফোনেই ডাকলাম। নাকি এইবার পালকি পাঠানো লাগবে।

ডিএমডি পড়িমরি ছুটলেন। বড়কর্তার রুমে ঢুকতে না ঢুকতে পিওন তাকে চিঠি ধরিয়ে দিলেন। তাকে আর রুমে ঢুকতে দেয়া হলো না।
পিওন বললে, ঢোকা বারণ। ভেতরে মিটিং চলতেছে। বড়কর্তার হুকুম—আপনেরে যেন ঢুকবার না দেই।

অগত্যা কী করা! বিরস মনে ডিএমডি এসে নিজের সিটে বসলেন। হলুদ খামটা খুললেন। আবার তার আক্কেল গুরুম। তাকে শোকজ করেছেন এমডি। অভিযোগ গুরুতর। অফিসিয়াল সার্ভিস রুলের কোড অব কনডাক্ট লঙ্ঘন। বড়কর্তা খুবই স্নেহশীল। তার ডাকে সাড়া না দেয়ায় শাস্তি দিতেও কসুর করেননি। এক মাসের ফোর্স লিভ দেয়া হয়েছে তাকে।