ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

নেপালে মাওবাদী বিদ্রোহীদের সাবেক নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ডকে চড় মেরেছেন তার এক সময়ের সমর্থক পাদম কুনওয়ার। ধর্মীয় উত্সব দিওয়ালি উপলক্ষে দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে গত শুক্রবার রাতে আয়োজিত এক চা-চক্রে প্রচণ্ডের ওপর ওই হামলা হয়। এ সময় তার চশমা ভেঙে যায়।

পুলিশের মুখপাত্র কেশব অধিকারী বলেন, হামলাকারী যুবক কুনওয়ারকে মাওবাদী নেতারা মারধর করেছেন। আহত অবস্থায় তাকে এখন হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। ঘটনার পরপরই কুনওয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মাওবাদী নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থমন্ত্রী বর্ষমান পান ওই হামলার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে বলেন, এতে প্রচণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ঘটনাটিকে বিশৃঙ্খলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ধরনের হামলা মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেবে।

নেপালে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের ওপর হামলার এটি তৃতীয় ঘটনা। হিমালয়ের পাদদেশে দারিদ্র্যপীড়িত দেশ নেপাল। দেশটিতে রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে জনমনে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (ইউনিফাইড মার্ক্সসিস্ট-লেনিনিস্ট) একজন নেতাকে গত বছরের জানুয়ারিতে চপেটাঘাত করা হয়। এছাড়া, কাঠমান্ডুর একটি চায়ের দোকানের মালিক মাওবাদী একজন আইন প্রণেতার গালে গত মে মাসে চড় মারেন। ওই হামলাকারীর অভিযোগ, দেশটির রাজনীতিবিদরা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

এই উদ্ভট খবরটা জানাচ্ছে এএফপি। আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন দেশ নেপালে হলো কী। সেখানে রাজনীতির বদলে চড়-থাপ্পড়নীতি চালু হলো কেন! খুবই উদ্বেগের বিষয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘুরে বেড়াচ্ছেন থাইল্যান্ড; মিয়ানমার। সদ্য দ্বিতীয়বার মসনদে বসতে পেরে তার খুশি আর দেখে কে! খুশিতে তিনি বাগ বাগ। ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন। ওবামার কী সব উদ্ভুট্টি কাণ্ডকারখানা। ওবামা তো নয়, যেন টাইফুন। এখন মাঝে-মধ্যেই বড় বড় ঘূর্ণিঝড়গুলো বাংলাদেশের উপর দিয়ে ছুটে গিয়েও অল্পের জন্য পাশ কেটে যায়। সদ্য বিজয়ী ওবামাও ঝড়ের মতন উচ্ছ্বাস নিয়ে এসেছেন। আমাদের পরম ভাগ্য ওবামা টাইফুন বাংলাদেশে আসেনি। বাংলাদেশ এ যাত্রা বড় বাঁচা বেঁচে গেল।

কিন্তু নেপালে কী হচ্ছে! ওদের সমস্যা কী! এই যে চড়-থাপ্পড়ের রাজনীতি যে সেখানে চালু হলো সেটা মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। সাবেক প্রাইম মিনিস্টার প্রচণ্ডকে তারই দলের লোক এভাবে চড় মারল কেন! তাও আবার তারই দলের সমর্থক। তারই লোক। নেপালের রাজতন্ত্র হটানোর আন্দোলনে প্রচণ্ডর প্রচণ্ড-প্রতাপের ভূমিকা কে না জানে। বলতে গেলে নেপালের এই গণতন্ত্র প্রচণ্ডর হাত ধরেই আসা। সেই নেতাকে থাপ্পড় কেন! কী দুঃখ যুবকটির। বিস্তারিত নেপাল সরেজমিনে না গিয়ে জানা সম্ভব নয়। নেপালের ব্যাপার নিয়ে ঢাকার মিডিয়া অত খুঁটিনাটি আগ্রহ দেখাবে না। আমরা শুধু চড়ের গল্পটাই জানব। নেপথ্যের কারণ আর জানা হবে না। তবে আমরাও উপমহাদেশের মানুষ। আমরা কারণটা অনুমান করে নিতে পারি। সমর্থকটির মনে নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট। তার নেতা শুধু কথায়ই খলবলে। তিনি কত বড় বড় কথা বলে গণতন্ত্র আনলেন; কিন্তু সুশাসন আনতে পারলেন না। তিনি খালি ওয়াদা করতে জানেন। সে ওয়াদা পূরণ করতে জানেন না। তিনি জনগণের কল্যাণের কথা বড় গলায় বলতে জানেন। আর বাস্তবে দেখা যাবে তিনি শুধু নিজের সন্তানদের ও পোষ্য গোষ্ঠীর আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। পাবলিকের নাম ভাঙিয়ে দেশে-বিদেশে বাড়ি-গাড়ি মার্কেট, শপিং সেন্টার করেছেন। এমন ভণ্ড নেতাকে সমর্থক চড় দেবে না তো কী দেবে। বেচারা খুব কষ্ট পেয়েছে নেতার ভণ্ডামি ও বেইমানিতে। তার শোধ সে তুলেছে ষোলআনা। সমর্থকটি অন্য দালাল কর্মীদের পাল্টা মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তার অতৃপ্ত মন নিশ্চয়ই সান্ত্বনা খুঁজে পাবে।

খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে —চড় দেয়ার সময় সমর্থক বাবাজী কি বলেছেন—ব্যাটা অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। লেখাপড়া তেমন কিছু করো নি। তারপরও খালি জ্ঞান দাও। যা জান না, তা নিয়েও জ্ঞান দাও। কলেজ ভার্সিটির বারান্দায় ঘোরাফেরা করলেও কেতাবের পাতা উল্টে দেখ নি। তারপর তোমার জ্ঞানের জ্বালায় বাচা দায়! যা মনে আসে তাই বলো। জনগনের সঙ্গে প্রতারনা ছাড়া কোন কাজটিই তোমরা পার না। কে জানে হয়তো এমনটাই সে বলেছে; কিংবা কিছুই বলে নাই। মনের আগুন মনের মধ্যেই পুড়েছে।

খবরটি পড়ে মোটেই ভালো লাগল না। এটা ভালো খবর নয়। ওবামা টাইফুন না হয় মিয়ানমারের ওপর দিয়েই গেছে—কিন্তু চড়-থাপ্পড়ের ঘটনা তো প্রতিবেশী নেপালের। আরও আতঙ্কের হলো এমন ঘটনা সেখানে নতুন নয়। আরও কয়েকবার ঘটেছে। চড় দেয়া নেপালি রাজনীতিতে রেওয়াজ হতে চলল নাতো! ভারতেও এমনটা ঘটেছে। পাকিস্তানের খবর বিশেষ রাখি না। সেখানে তো চড়-থাপ্পড়ের ঘটনা আরও বেশি বেশি ঘটার কথা। কে জানে ঘটছে কিনা। আমাদের ভাগ্য ভালো এখনও এ দেশে এমন কিছু ঘটেনি। বাঙালিরা সত্যিই শান্ত-সুবোধ ভদ্রলোক। তারা সবকিছু সইতে জানে। তারপরও ঝামেলার মা-বাপ নেই। কখন কী ঘটে যায়। ও, বলতে ভুলেই গেছি ঢাকায় এমন ঘটনা প্রায় ঘটতে গিয়েছিল। চোখতোলা হুমকিবাজ মন্ত্রী শাজাহান খান তো আঙুল উঁচিয়ে ছুটেই গিয়েছিলেন। অবশ্য সেটা রাজার রাজার ঘটনা। পাবলিক টু রাজার নয়। যাই বলুন, সেই রক্ষে!