ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের গায়ে পড়ে ঝগড়ার ন্যক্কারজনক প্রহসনটি প্রত্যক্ষ করলাম আমরা। প্রবল আতঙ্ক পেয়ে বসলে আবোল-তাবোল বকে, চিত্কার করে ভয় তাড়াতে চেষ্টা করে অনেকে। সরকারি দল কেন এমন ভয়ঙ্কর ভয় পেয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের দিন আসতে এখনও প্রায় ২ বছর বাকি। এখনই আতঙ্কে তারা কেন অস্থির-উন্মাদ—এর জবাব নুরু পাগলা টাইপ মন্ত্রী-নেতারাই ভালো দিতে পারবেন।
অনেকে আরব বসন্তের আদলে বাংলা বসন্ত; মিসরের তাহরির স্কোয়ারের স্টাইলে পল্টন স্কোয়ার অবরোধ আন্দোলনের কাঁচা-বালসুলভ কথাবার্তা বলেছে—তাতে সরকার এরকম ‘আউলা-ঝাউলা’ হয়ে পড়বে, বিএনপি কর্মী খোঁজার নামে পুলিশ-বিজিবি-আওয়ামী-যুবলীগ ক্যাডারদের নিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে সরকার—কল্পনাতেই আসে না। আরব বসন্ত বা তাহরির স্কোয়ার স্টাইল এখানে অবান্তর এ কারণে যে, বাঙালির ভোট বসন্তের দিন আসতে বেশি দেরি নেই। তখন বাংলাদেশবাসী নীরব বিপ্লবের মাধ্যমে সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলোকে তাহরির স্কোয়ার বানিয়ে খুব সহজেই এই ‘আউলা-ঝাউলা’ মন্ত্রী-নেতা-নেত্রীদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে পারবেন। বিরোধীদলীয় নেতা এখন যেটা চাইছেন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার—সেটির সার্থক বাস্তবায়নই সময়ের দাবি।

মহাজোট সরকারের যে কী হলো তা বুঝতে সত্যিই অক্ষমতা প্রকাশ করছি। কেন তারা নিজেরাই নিজেদের মহা-অথর্ব, মহাঅকর্মণ্য, মহামূর্খ, মহা আহাম্মক প্রমাণের জন্য আদাজল খেয়ে উঠেপড়ে লেগেছে, আর একের পর এক গর্দভসুলভ আচরণের মাধ্যমে সর্বশেষ সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের এ যাবত্কালের সরকারগুলোর মধ্যে ‘মহাজঞ্জাল সরকার’ হিসেবে জনতার আদালতে নিজেদের হাজির করে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে চলেছে। কে দেবে এ প্রশ্নের জবাব। বিজ্ঞ প্রাজ্ঞ তোফায়েল প্রমুখ এখন বাতিল খাতায়। দলটিতে চলছে রাজনীতি অজ্ঞদের উল্লাসনৃত্য। দলটি অনিবার্য আত্মহত্যার দিকে এগুচ্ছে। এই পরিণতি রুখতে আর কেউ এগিয়ে আসবে না। না আসবে দিল্লি, না আমেরিকা, না রাশিয়া। কূটনীতির সেই শেষ কথাটিই এখানে বলতে হয়—‘মৃত লাশ দেখে যদি সহানুভূতি দেখাতে চাও—দেখাও নীরবে। কিন্তু মৃত লাশের সঙ্গে কখনোই সংহতি-সৌহার্দ্য-প্রীতি বিনিময় করতে যেও না। কেননা লাশ কখনোই প্রতিদান দিতে পারে না।’

অদ্ভুত-বিচিত্র হলেও সত্য—মহাজোট সরকার নিজেই নিজেকে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে লাশ-বত্ বানিয়ে ছাড়ছে—অচিরেই লাশ থেকে দুর্গন্ধ বেরুবে—কেউ তখন দুর্গন্ধ শুঁকতেও আসবে না।
কথাগুলো আক্ষেপ ও সহানুভূতির সঙ্গেই বলছি। কেননা, আওয়ামী লীগের মতো একটা বিশাল দলের এমন রাজনৈতিক স্বেচ্ছামৃত্যু ঘটুক, কোনক্রমেই তা কাম্য নয়। গণতন্ত্রের জন্য তা শুভ নয়। মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইল জায়গায় ১৬ কোটি মানুষের প্রবল জনসংখ্যা ভারাক্রান্ত একটি দেশ। যারা ক্ষমতায় ছিলেন এবং আছেন তারা জানেন, এই দেশ পরিচালনা কেমন কষ্টকর। সম্পদের সীমাবদ্ধতা, দারিদ্র্য, ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি করার অসীম ক্ষুধা—বিপরীতে সাধারণ মানুষের স্বপ্নকুসুম নানা প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা— এই পুলসিরাতের দড়ির ভারসাম্য রক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রীদের হাঁটতে হয়। ভীষণ বিপজ্জনক ও কষ্টসাধ্য সেই দায়িত্ব পালন। সেখানে একজন প্রধানমন্ত্রী যদি স্থিতধী, বিচক্ষণ, সুস্থ-কল্যানী মস্তিষ্কের না হন—তিনি যদি ভারসাম্যপূর্ণ, সংযত-সংযমী না হন; তিনি মিতভাষী না হন, তবে দেশ পাগলা রাজার রাজত্ব হয়ে উঠতে বাধ্য, তা বলার অপেক্ষাই রাখে না। এরকম একটি সমস্যা-সঙ্কুল দেশের শীর্ষ নেত্রীরা যদি ভয়ে-আতঙ্কে-উদ্বেগে উন্মাদিনী হয়ে ওঠেন, তবে তার খয়ের খাঁ সঙ্গী-সাথীরা কতটা ‘আউলা-ঝাউলা’ হয়ে পড়বেন—বর্তমান সময় তার নির্মম সাক্ষ্য দিচ্ছে।

২.
সবিনয়ে প্রশ্নটা রাখতে চাই—মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দল আহামরি কোন গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছে কি! রাজনীতির তৃণমূল মাঠে তাদের প্রবল সক্রিয় দেখা গিয়েছে কি আদৌ! তাদের হাতে ইস্যু কম ছিল না। অর্থমন্ত্রী মহাব্যর্থ। শেয়ারবাজারে সর্বকালের কলঙ্কজনক কেলেঙ্কারি হলো। মহামন্দার কবলে বারোটা বাজলো অর্থনীতির। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে ধস। ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সঞ্চয় ব্যবস্থা, সর্বক্ষেত্রে সীমাহীন—ক্ষমাহীন ব্যর্থতা। বিপরীতে অর্থমন্ত্রীর মহাজ্ঞানীসুলভ ধীমান অভিব্যক্তি, ফুটফাট ইংরেজি বাদে কোনো প্রতিষেধক পাইনি। বাজারকে নেয়া হয়েছে চরম রসাতলে। জিনিসপত্র দুর্মূল্য। আকাশচুম্বী দাম—একখানা বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন বটে, তিনি ছিলেন ব্যক্তি বাণিজ্যে ব্যস্ত।

বিদ্যুতের দাম, জ্বালানির দাম—সবকিছুর দাম বাড়াতে মহাজোট মহাযুদ্ধে নেমেছিল। জনগণ-ঘনিষ্ঠ এসব ইস্যুতে তাত্ক্ষণিকভাবে বিরোধী দলকে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, প্রতিমন্ত্রী টুকু সাহেব—এরা শুরুতে মানবিক চরিত্র ছিলেন বটে; কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার স্মরণাতীত অবনতি ঘটিয়ে তারা এখন কার্টুন চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। টিভিতে তাদের মুখ দেখলে শিশুরাও বিমলানন্দে হাসে। ওরা কী বলবেন; তা স্যাটেলাইট টিভির নিত্যদর্শক গৃহকর্মীদের মুখস্থ। তারা অনুকরণ করে দেখিয়ে সবাইকে হাসায়। রুনি-সাগর হত্যার পর সবক’টি বাংলা ছবি ফেল—এখন স্থান দখল করে নিয়েছেন অদ্ভুত কথাভঙ্গির কিছু মন্ত্রী। বাসাবাড়ির নিয়মিত দর্শকরা চায় নির্মল হাস্যরসপূর্ণ বিনোদন, মন্ত্রীরাই যদি সেই চাহিদা পূরণ করতে পারেন—দর্শক বিদেশী চ্যানেলে যাবে কেন?

পদ্মা সেতু, কুইক রেন্টাল বিদ্যুতে দুর্নীতির মচ্ছব হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির মচ্ছব বইয়ে দিয়েছিল মহাজোট, গত তিন বছর চলেছে কথামালার মচ্ছব। জনগণের জীবন যখন ওষ্ঠাগত; পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকেছে—খালেদা জিয়া স্বয়ং মাঠে নামতেই পেতে শুরু করেছেন তুমুল জনসমর্থন। তিনি রোডমার্চ করলেন; জনতা প্রস্তুত হয়েছিল—সাগরের ঢেউয়ের মতো জন-ঢল নামলো। চট্টগ্রাম, সিলেট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ—কোথাও ব্যত্যয় ঘটেনি। ধাপে ধাপেই বিচক্ষণতার সঙ্গে এগিয়েছেন বিরোধী নেত্রী। কোনোরকম হটকারিতা করেননি। জনতার ঢল দেখে লাগামছাড়াও হননি। বরং মানুষ যত জেগেছে ও বেড়েছে- তার বক্তব্য ততই সাবলীল, প্রাণবন্ত ও দূরদর্শিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আরেকটা জায়গায় তিনি অনবদ্য। ক্ষুব্ধ দেশবাসীকে তিনি উস্কানি দিয়ে ঘর থেকে বের করেননি। একজন অভিজ্ঞতা ঋদ্ধ গণতান্ত্রিক নেত্রী হিসেবে পর্যাপ্ত সময় দিয়েছেন সরকারকে। খালেদা জিয়ার জমানায় তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা—ঠেলাধাক্কা দিয়ে সরকারকে ফেলে দেয়ার হুমকি দিতেন প্রায়ই। টেনে-হেঁচড়ে নামানোর কথা বলতেন। খালেদা সদাসংযমী। বাক-সংযমের জন্য তিনি ঘরে ঘরে প্রিয়। তিনি হুমকি-ধমকির ভাষায় না গিয়ে রুচিশীল ভাষা প্রয়োগ করেছেন। সময়োচিত প্রজ্ঞায় তিনি রোডমার্চ করেছেন। আর পেয়েছেন অকুণ্ঠ জনসমর্থন। এটা একান্তই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা।

আর এই রোডমার্চের বিশালত্বই ‘আউলা-ঝাউলা’ করে দিয়েছে সরকারকে। আওয়ামী লীগ নামক বটবৃক্ষে যেসব পরগাছা-পরজন্মা উদ্ভিদ বাসা গেড়েছিল, তাদের মুখে এখন নতুন সুর। বলা হয়ে থাকে, ভূমিকম্পের আলামত সবচেয়ে আগে টের পায় ইতর পতঙ্গকুল। রাজনীতিতেও ভূমিকম্প আসন্ন। আগামী নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা ভূমিধসকেও (ল্যান্ড স্লাইড) ছাড়িয়ে যাবে—তা আগামই বলা যায়। তা টের পেয়েই মহাজোটের উদ্ভ্রান্ত শরিক এরশাদ অনেক আগে থেকেই উল্টাপাল্টা বলতে শুরু করেছেন। এখন মেনন-ইনুরাও গলার স্বর পাল্টাচ্ছেন। শরিকদের মধ্যে দিলীপ বড়ুয়া বাদে আর কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না।

সব মিলিয়ে ভূমিধস পরিস্থিতি যে অনিবার্য হয়ে উঠছে সেটা নিশ্চিতই বলা যায়। কিন্তু সেই ধস হতে পৌনে দু’বছর বাকি। বিচক্ষণ বিরোধীদলীয় নেতা ধীরস্থির চিত্তেই এগুচ্ছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাকে আরও খানিকটা চড়াই-উত্রাই পাড়ি দিতে হবে। তিনি মোটেই উতলা হয়ে পড়েননি।

কিন্তু সরকারি দল এমন উতলা, উন্মাদ হয়ে উঠল কেন! ঘরের দুর্নীতির পাগলা কুকুরে তাদের কামড়ে ছিল। তারপর একরকম জলাতঙ্ক রোগীর দশা দেখেছি। ‘দুর্নীতি করি নাই—সাফাই গাইতে গাইতে তারা রণক্লান্ত হয়ে পড়লেন। রোডমার্চে জন-ঢল দেখে পেয়ে বসল জন-আতঙ্ক রোগে। তাই এবার ঝাঁপিয়ে পড়লেন জনগণের বিরুদ্ধে। যে রাজনৈতিক দলটির বাষট্টি বছরের বর্ণাঢ্য সমৃদ্ধ ইতিহাস; স্বাধীনতা সংগ্রামে অতুলনীয় ভূমিকা; ’৮৬-তে বেঈমানির নির্বাচনে অংশ নিয়েও ’৯০-এর এরশাদ স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলনে সময়োচিত বিবেকের জাগরণ—এসব কিছু নিশ্চয়ই সুকীর্তি। সেই দলটির আজ এমন অধঃপতন। নেতৃত্ব আজ এমনই অদক্ষ ও বিপথগামী যে, তারা নেমেছে জনগণের বিরুদ্ধে। মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনের ঘৃণ্য লুটেরা সরকারকে ব্লাংক চেক সমর্থন দিয়ে নিঃসন্দেহে তারা নিকৃষ্টমানের রাজনৈতিক পাপ করেছে—সেই পাপ দলটিকে পরিণত করেছে প্যান্ডোরার বাক্সে। তারপর ওই রাজনৈতিক ডিজিটাল ফ্যাক্টরি থেকে নেয়া হয়েছে অদ্ভুত সব সিদ্ধান্ত। মাঠ রাজনীতির সংশ্রববিহীন ভুইফোঁড় কিছু বেয়াদবকে দেয়া হয়েছে এমপির নমিনেশন। শেখ হাসিনা নিজেই তাদের ব্যাপারে বলেছেন, ‘রাস্তা থেকে তুলে এনে এমপি বানিয়েছি।’

দক্ষ-পরীক্ষিত একদল নেতা থাকতেও অদক্ষ আবালবৃদ্ধ-বনিতাকে বানানো হয়েছে মন্ত্রী। এক নাবালককে মন্ত্রী বানিয়ে শেখ হাসিনা এখনও আছেন নানা ঝামেলায়। না পারছেন রাখতে, না পারছেন ছাঁটাই করতে। দক্ষ মহিলা নেত্রী ছিলেন অনেকে। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে বনিতাকুলে যাদের বাছা হলো তারা স্বদেশে-বিদেশে নানা নির্বোধকাণ্ড ঘটিয়ে বলছেন—শেখ হাসিনা সব কিছু জানেন।
বয়োবৃদ্ধদের এমনই বাছাই করেছেন তিনি—এক অচলপ্রায় মন্ত্রী দিব্যি মন্ত্রণালয়গুলো লিজ দিয়েছেন তার কমিশনপ্রিয় ছেলেকে। বৃদ্ধ মন্ত্রী এমনই বীরপুরুষ— মহাসমাবেশের দিনে গাড়ি থেকে জাতীয় পতাকা গুটিয়ে লুকিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

রাজনৈতিক পরিকল্পনার কোনো ডিজিটাল ফ্যাক্টরি থেকে মহাজোটনেত্রী এসব ভুল বুদ্ধি পেয়েছিলেন। যার এখন মাশুল গুনছেন গুনে গুনে। ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনদের হানাদার সরকারের শপথ সভায় পাখির ডানার ছন্দে অংশ নিয়েছিলেন। গণতন্ত্রের সেই বধ্যভূমিকে বর্জন করেছিলেন খালেদা। গণতন্ত্রের বধ্যভূমির পৃষ্ঠপোষকতা করে হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু তা ছিল সাময়িক। জনগণকে তিনি বিশ্বাস করেননি। বিশ্বাস করেছিলেন, গণতন্ত্র ঘাতকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিলে তারাই একদিন বসাবে মসনদে। তার জনবিচ্ছিন্নতার সেই শুরু। তারই ধারাবাহিকতায় আজ জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেও ভাবছেন—জনতা আহাম্মক। তারা কলাগাছ। তারা সবাই ‘জয় জয়’ জিকিরে উন্মত্ত।

৩.
আফগানিস্তানের বহুল আলোচিত ধর্মজঙ্গি ‘তালিবান’দের কথা কমবেশি আমরা সবাই শুনেছি। তরুণ যুবকরা জঙ্গি ও ক্ষমতারক্ষক হলে কত ভয়ংকর হতে পারে- আফগান মুলুকে তালিবান শাসন তার নানা দৃষ্টান্ত রেখে গেছে। পাড়ায় মহল্লায় ঘরে বাইরে এরা নজরদারি করেছে। কে দাড়ি রেখেছে- কে রাখে নাই- কে নামাজ পড়েছে, কে পড়ে নাই- কোন নারীর পোশাক ধর্মসম্মত হয়নি- সেসবের বিচার আচার করেছে তারা। শাস্তি বিধান করেছে তালিবানরা। তারাই ছিল সর্বেসর্বা।

‘তালিবান’ শব্দের অর্থ ছাত্র। তালিব : ছাত্র, বিদ্যার্থী, শিক্ষার্থী, অন্বেষক। এখান থেকে শব্দটির উত্পত্তি। সোজা কথায় ‘তালিবান’ সংগঠনের সঙ্গে তুলনীয় বাংলাদেশের নানা ছাত্র সংগঠন, যেমন : ছাত্রলীগ। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর যথা অর্থেই তারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্যারালাল তালিবানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। টেন্ডারবাজি, নির্মাণ ঠিকাদারী, ছাত্র ভর্তি বাণিজ্য-শিক্ষক নিয়োগ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। বন্দুকবাজি, পিস্তলবাজি সন্ত্রাস খুনোখুনিতে তারা বেপরোয়া। রামদা লগি বৈঠা কিরিচ দা বটি হকিস্টিক তাদের সাংগঠনিক প্রকাশ্য অস্ত্র। ধর্ষণ, নারী লাঞ্ছনা কোপাকুপি তাদের নানা কীর্তির অলঙ্কার। জঙ্গি বলতে যা বোঝায়- তা শাব্দিক অর্থেই প্রমাণ করেছে তারা। প্রধানমন্ত্রী ও সংগঠনটির নেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সঙ্গে মৌখিকভাবে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে এই বাংলাদেশী তালিবানদের স্বাধীন অস্তিত্ব- নানা অপকর্মের সার্বভৌম অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রকারান্তরে।

১২ মার্চ মহাসমাবেশের দিন ও তার আগের দিন আমরা দেখেছি এই তালিবান গোষ্ঠীর উত্কট রূপ। এই সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগ একাকার হয়ে গিয়েছিল। ঢাকায় রাস্তায় মোড়ে মোড়ে তারা বসিয়েছিল তালিবান ক্যাম্প। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী সন্দেহে হাজার হাজার পথচারীকে হেনস্তা করেছে আফগান জঙ্গি স্টাইলে।

ছাত্রলীগ নামধারী এই মুর্খ জঙ্গিরা অনেক জায়গায় নিরীহ ঢাকাবাসীর কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছে। জানতে চেয়েছে আইডি আছে কিনা!
কিসের আইডি! ১৬ কোটি মানুষের দেশে বসবাসের জন্য আইডি কার্ড চালু হলো কবে। পুলিশের তল্লাশি কাজের একটা পদ্ধতি আছে- কিন্তু এদের কাণ্ড-কারখানা ছিল মাস্তানি-গুণ্ডামিপূর্ণ। এদের বেপরোয়া শরীর তল্লাশি, পকেটে হাত- ইত্যাদিতে যারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন- তাদেরকে গালিগালাজ চড় থাপ্পড় দিয়েছে এরা। এমনও বলতে শোনা গেছে- শালা, … পুত, রামদা দিয়া ফিনিশ কইরা দিমু। ডাইনে বায়ে না তাকাইয়া সোজা ঘরে যাইয়া ঢোক।

বেশি বাদ-প্রতিবাদ করার কোন উপায় ছিল না সাধারণ মানুষের। দু’হাত লম্বা রামদা, ছুরি কাঁচি হকিস্টিক নিয়ে তারা প্রকাশ্যে রাস্তায় অবস্থান করছিল। এলিফ্যান্ট রোডে এক তালিবান একাই তিনটি রামদা বহন করে কসরত দেখাচ্ছিল। অন্যরা রামদা উচিয়ে ধাওয়া দিচ্ছিল কৌতুহলী মানুষকে। কুিসত গালিও দিয়েছে।

এদের ভয় না পেয়ে কোন উপায় আছে! পুলিশও ছিল তাদের সঙ্গে। তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেছে। আর চাকুরির দায়ে দলবাজ উপরঅলার নির্দেশে পাহারা দিয়েছে এদের কদর্য তত্পরতাকে।
কাদের আশকারায়-উস্কানিতে ছাত্রলীগের এই জঙ্গি তত্পরতা! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ নৈরাজ্যের লাইসেন্স দিয়েছিলেন ছাত্রলীগ-যুবলীগকে। তারা জঙ্গি তত্পরতার নানা আতঙ্ক ছড়িয়ে আসল ‘তালিবান’ জঙ্গিদের মাঠে নামিয়েছেন। কৌতুহলী সাধারণ মানুষ বাটি চালান দিয়েও বিরোধী দলীয় মহাসমাবেশে কোন জঙ্গি আলামতের হদিস পায়নি। সরকারের শত বাধার পাহাড়কে ডিঙ্গিয়ে ঢাকায় নেমেছিল লাখ লাখ মানুষের ঢল। শান্তিপূর্ণভাবে তারা এসেছে। শান্তিপূর্ণভাবে তারা ফিরে গেছে। আর ছাত্রলীগ জঙ্গিরা ঢাকা নগরী জুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। তাজ্জব রাজনীতি করছে আওয়ামী লীগ। দিন যত যাচ্ছে ততই বেসামাল হয়ে পড়ছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মী খোঁজার নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা-হয়রানি অপমান-অপদস্থ করে তারা দেশবাসীকে বিরোধী দল সমর্থক বানিয়ে ফেলছে। এটা বোঝার মতো নেতা কি দলটিতে কেউ নেই! আওয়ামী লীগে বিচক্ষণ, ধীমান নেতার কি এতোই আকাল?

৪.
একের পর এক শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি করে যাচ্ছে বিএনপি। মহাজোট জমানাতে হরতাল হয়েছে হাতে গোনা। তাতেও সহিংসতার লেশমাত্র ছিল না। রোডমার্চে লাখ লাখ মানুষ হয়েছে। সুশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণ। কোথাও কোন গণ্ডগোল হয়নি। সর্বশেষ মহাসমাবেশ। সেটিও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শেখ হাসিনা উদয়াস্ত খালেদা জিয়াকে ‘অশান্তির নেত্রী’ বলে যতোই কটূক্তি করুন- বিরোধী দলীয় নেত্রী অতুলনীয় ধৈর্য্য, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতায় শান্তি-সৌহার্দ্যের সঙ্গে তার আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন অহিংস আন্দোলন এবং বিনিময়ে দেশবাসীর অকুণ্ঠ ভালবাসা- সমর্থন স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ইতোপূর্বে আর কখনোই ঘটে নাই। বিরোধী দলীয় নেত্রী এই অতুলনীয় ধারা অব্যাহত রাখবেন বলেই প্রত্যাশা করি। তিনি অসামান্য দক্ষতায় প্রমাণ করতে চলেছেন- শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন স্বার্থক ও সফলভাবে পরিচালনা সম্ভব।

সরকারের উস্কানি এবং তাদের গোপন এজেন্টদের অপতত্পরতা মোকাবেলা করে লক্ষ্য হাসিলে নিশ্চয়ই তিনি কামিয়াব হবেন। তাকে কোনভাবেই এই বিচক্ষণ অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানো চলবে না।
সরকারি দল যতোই অশ্লীল গালিগালাজ করুক, গত তিন বছরের ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে- খালেদা জিয়া শান্তিশৃঙ্খলার নিশ্চয়তা বিধানকারী নেত্রী। তার বিরুদ্ধে নানা কিসিমের মামলা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বয়ং বার বার হাজিরা দিয়েছেন। লাখো কর্মীর ভিড় হয়েছে তাকে ঘিরে। ক্ষুদ্ধ কর্মীরা কোনরকম বিশৃঙ্খলা ঘটায়নি। সরকারি সম্পত্তির কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

দেশের রাজনৈতিক ধ্যান ধারণা ও স্টাইলের নানা স্বতঃস্ফূর্ত পরিবর্তন ঘটছে। আন্দোলন মানেই ভাংচুর, টায়ার পোড়ানো, দোকানপাট অফিস আদালতে হামলা- জনগণ ও সরকারি সম্পদের ক্ষতি সাধন- রাজনীতি থেকে এই ধ্যান ধারণাকে বিদায় দেয়া সময়ের দাবি এবং এই সময়ের দাবিকে খালেদা জিয়া অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন নেতাকর্মীদের। এ পর্যন্ত ষোলআনাই সাফল্য পেয়েছেন। অহিংস ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চলেছেন বলে নিঃসংশয় চিত্তে আশা করা যায়। নতুন ধারার এই রাজনীতির কারণে সরকার জনআতঙ্কের দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়েছে। এখন তারা বিরোধী দলকে নয়, জনগণকে ভয় পাচ্ছে। আর তাই জনগণকে পিটিয়ে বিরোধী দলের ছত্রচ্ছায়ায় ঠেলে দিচ্ছে।

শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের সুফল দেখুন। কর্মসূচি দিচ্ছে বিরোধী দল। আর সেসবের সর্বাত্মক প্রচার প্রপাগাণ্ডার দায়িত্ব পালন করছে সরকারি দল। পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ এখন কার্যত বিএনপির পাবলিসিটি উইং-এ পরিণত হয়েছে।

সরকারের নেতা মন্ত্রীরা বিএনপির তত্পরতার খবর ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন। সংসদে বিএনপি যাচ্ছে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং- এমনকি মতিয়া চৌধুরীর মতো বিচক্ষণ নেত্রী সেই অনুপস্থিতি পুষিয়ে দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রীও শামিল এই কাজে। তারা বিনে পয়সায় বিজ্ঞাপন করছেন বিএনপির। আর এই চমত্কার বিজ্ঞাপনের জন্য সংসদ টিভি নামে আলাদা প্রচারণা মাধ্যমও খোলা হয়েছে।

১১ মার্চ মহজোট সরকারের চলতি অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা করতে সংসদে দাঁড়িয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। বলা নেই কওয়া নেই- তিনি শুরু করলেন খালেদা বিরোধী কটূক্তি। খালেদা তার আমলে কি কি ভুল করেছেন- বিশাল ফিরিস্তি দিতে শুরু করলেন। তার কথা থামেই না। নিজের সোয়া তিন বছরের ব্যর্থতাপূর্ণ মন্ত্রীত্বের খবর নেই- সে কিনা চালিয়ে যাচ্ছে পাঁচ বছর পুরানা গীবত্। স্পিকার মহোদয় এখনো

‘আউলা ঝাউলা’ হয়ে পড়েননি; তিনি বিচক্ষণ। আপত্তি করলেন। বললেন, অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তার বক্তব্য প্রাসঙ্গিকও নয়।

স্পিকার মাঠের রাজনীতি করা পরিপক্ক লোক। তিনি ঠিকই জানেন- এখন বিএনপিকে যতোই অকারণ গালি; ততই তাদের পক্ষে জনগণের হাততালি। কিন্তু কে শোনে কার কথা।
একই দিন মতিয়া চৌধুরী যে ভাষায় কথা বললেন, তার তুলনা একমাত্র খিস্তি খেউরের সঙ্গেই চলে। খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অশ্লীল কথাবার্তা বললেন খোদ সংসদে। মন্তব্য করলেন, বিএনপির মতো আউলা ঝাউলা পার্টি দিয়ে কিচ্ছু হবে না। কোন রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবলে তিনি এমন কথা বলেছেন- কে জানে।

আশিকুর রহমান নামের এক এমপি সংসদেই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে ‘ব্যাংক লুটকারি ডাকাত’ বলছেন; শওকত মোমেন শাহজাহান নানা জায়গায় বলে বেড়াচ্ছেন- কাদের সিদ্দিকী রাজাকার। এসব খিস্তি করে তারা টাইগার সিদ্দিকীকে কতটা ছোট করছেন- জানি না- কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল আওয়ামী লীগকে যে রসাতলে নিচ্ছেন- সেটা হলফ করে বলা যায়। তবে সবচেয়ে মুখরা ভূমিকা পালন করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সংসদে হোক, গণভবনে হোক- জনসভায় হোক- খালেদা-তারেক-জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে বিষোদগার থাকবেই। এমন কোন দিন নাই- যেদিন তিনি নিজেকে সম্বরণ করতে পেরেছেন। সাম্প্রতিককালে তাকে পেয়ে বসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আতঙ্কে। যত্রতত্র তিনি রসিয়ে রসিয়ে বলবেনই- তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি খালেদা জিয়াকে কোলে তুলে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।

শব্দ গুচ্ছ খেয়াল করুন। একজন নারী জননেত্রীকে বার বার কোলে তুলে ক্ষমতায় বসানোর মতো ভাষা ব্যবহার করে তিনি কি নারী সমাজকে সম্মানিত করছেন। নাকি নিজের সম্মান রক্ষা করতে পারছেন! কথায় আছে- মানীর মান মানীকেই রাখতে হয়। অন্যকে অসম্মান করে কখনোই নিজের সম্মান রক্ষা হয় না।

ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীন সরকারের বর্বর নির্যাতনে তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে চিকিত্সাধীন। হাসিনা নিয়মিত সেই অসুস্থতা নিয়ে নানা দুঃখজনক কটূক্তি করে কি যে আনন্দ পান- তা শুভ সুস্থ বুদ্ধির মানুষের পক্ষে ব্যাখ্যাতীত।

১২ মার্চের মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর বিরামহীন কটূক্তির জবাব দিয়েছেন- একান্ত নিজস্ব স্টাইলে। তার ভাষা ছিল খুবই মার্জিত, সাবলীল, সংযমপূর্ণ। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, এমন কিছু বলবেন না, যাতে দেশের মানুষ লজ্জা পায়। প্রধানমন্ত্রী পদের মহিমা আছে, তা নষ্ট করবেন না।

’৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেত্রীকে আইএসআই ৫/৬ কোটি টাকা দিয়েছিল- হাসিনার এই বিচিত্র কুত্সায় টলেননি খালেদা। তার জবাব- দেশের মানুষ জানে দেশপ্রেমিক কারা। আর অন্য দেশের এজেন্ট কারা। আমাদের বিদেশী টাকার প্রয়োজন নেই। আমরা দেশের জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যেতে চাই।

কোলে তোলা প্রসঙ্গের জবাব দেন মার্জিত ভাষাভঙ্গিতে। বলেন- ‘তাহলে কি আপনার বক্তব্য অনুযায়ী আপনি স্বীকার করছেন যে ফখরুদ্দীন মঈনুদ্দীন আপনাকে আপনার ভাষায় ওইভাবে ক্ষমতায় বসিয়েছে।’
লক্ষ্য করুন- ‘কোলে তোলা’র মতো অমার্জিত কটূক্তি করে বিএনপি নেত্রীকে উত্যক্ত করার চেষ্টা করা হলেও তিনি অসাধারণ বাক সংযমের পরিচয় দিয়েছেন।

সংসদে, ময়দানে, ড্রইংরুমে বিরামহীন গালমন্দ করে খালেদাকে ক্ষেপিয়ে তোলার অপচেষ্টা চলছে। তিনিও যাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর মতো লাগাম ছাড়া মাত্রাবোধহীন কথা বলে রাজনীতিকে কলুষিত করেন- তার ষড়যন্ত্র চলছে। নিজেরা উন্মত্ত হয়ে প্রতিপক্ষকে পাগলাটে বানানোর চেষ্টা চলছে। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গের তত্পরতায় আওয়ামী লীগ লিপ্ত।

কিন্তু সংযমী মার্জিতভাষী বেগম খালেদা জিয়া আপন ব্যক্তিত্ব মহিমায়, রুচিস্নিগ্ধতার মাধ্যমে তার নেতৃত্বগুণের সৌন্দর্যকেই তুলে ধরছেন। সাধারণ মানুষ তার এই অসাধারণ গুণের ভীষণ পূজারী।
কুরুচিপূর্ণ খিস্তি খেউর করে আওয়ামী লীগের ঘটছে অধপতন। আর সূরুচির মাধ্যমে বিএনপি নেত্রী তার নিজের ও দলের ইমেজকে ক্রমশ তুলে ধরছেন অনন্য উচ্চতায়।

মাস্তানবাজি, গুণ্ডামি করে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে খালেদাকে আওয়ামী লীগ নিজেদের পরিণত করছে জনশত্রুতে।
খুন-খারাবি, গৃহ সংঘাত, অশ্লীল বক্তৃতাবাজি, দুর্নীতি দলবাজি এখন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ব্রান্ডে পরিণত। দেশের রাজনীতিকে বদলে দেয়ার এখনই সময়।

অহিংসাপূর্ণ শান্তিশৃঙ্খলার কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে নতুন রাজনীতি উপহার দেয়ার মহান চ্যালেঞ্জ এখন বিএনপি চেয়ারপার্সনের সামনে। আপন বিশ্বাস ও রুচিস্নিগ্ধতার প্রশ্নে আপোসহীন খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন সেটা সম্ভব। মাননীয় নেত্রী নিশ্চয়ই পারবেন। দেশবাসী তার দিকে তাকিয়ে। তাকে পারতেই হবে।