ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে জিয়া পরিবারকে ঘিরে যে পরিমাণ গালি, কুত্সা, ভর্ত্সনা ও কটূক্তি করেছেন তা সংগ্রহ করে দিব্যি একটি রাজনৈতিক গালি কোষ প্রকাশ করা সম্ভব। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় এই যে, তার কথামালা জাতীয় সংসদেই পাল্টা জবাবের শিকার হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কিছু কথা যেমন প্রকাশযোগ্য নয়—সংসদে বিরোধীদলীয় ২/১ মহিলা এমপির পাল্টা জবাবও তেমনি অশোভন ও অপ্রকাশযোগ্য। বাংলাদেশ এখন মুক্ত তথ্যপ্রবাহের দেশ। মুক্তমত এখানে বাধাগ্রস্ত নয়। আমাদের জন্য পরিতাপের ও দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, আপত্তিকর এই মন্তব্য করাটা শুরু করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।
এথেকে বিখানে ২/১টি দৃষ্টান্ত হাজির করা দরকার। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিকে ভণ্ডুল করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বারবারই বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে বেগম জিয়াকে কোলে করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না।

আমরা নগণ্য কলামিস্টরা শুরু থেকেই এ ধরনের অশালীন মন্তব্য থেকে বি রত থাকার সবিনয় অনুরোধ করেছিলাম প্রধানমন্ত্রীকে। বলেছিলাম, ঢিল ছুঁড়লে পাটকেলটি খেতে হতে পারে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ চেয়ার থেকে এমন ‘কুৎসিত’ মন্তব্য কোনোক্রমেই মানানসই নয়।

প্রধানমন্ত্রী গরিবের কথা শোনেননি বরং তাকে গালির পরমানন্দে পেয়ে বসে। ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেছেন তিনি। প্রতিটি বৈঠকেই তীব্র ব্যঙ্গের সঙ্গে তিনি একই কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন। জনসভা ও মহাসমাবেশ করেছেন ঢাকা ও ঢাকার বাইরে। সব জায়গাতেই ওই ‘কোলে করে’ কিংবা ‘কোলে বসিয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া’র ব্যাপারটি মন্ত্রজপের মতো বলেছেন। ওটি না বললে যেন হাসিনা ব্রান্ড বক্তৃতা সম্পূর্ণ হওয়ারই নয়। এখন সেই ‘কুৎসিত’ বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়াটা দেখুন। বিএনপির এমপিরা যোগ দিয়েছেন সংসদে। বিরোধী দলের দুজন নারী এমপি খোদ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সমান তালে বলেছেন—‘মইন-ফখরুদ্দীনের কোলে বসে তিনি নাকি ক্ষমতায় এসেছেন।’ ১৮ ও ১৯ মার্চ দুদিনই কোলে বসা প্রসঙ্গটি গরম করে রেখেছে সংসদ। একপর্যায়ে ঘুম ভেঙে জেগে উঠেছেন স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট। অবশেষে তিনি বলেছেন, কোলে বসা কথাটি ‘কুৎসিত’। সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে তিনি এক্সপাঞ্জ করে দেন শব্দটি।

স্পিকার মহোদয় আওয়ামী লীগেরই প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ নেতা। দেরিতে হলেও তিনি সাহসী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বহুল উচ্চারিত উক্তিকে ‘কুৎসিত’ বলার স্পর্ধা দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যখন হাটে-মাঠে-গণভবনে কথাটা বলছিলেন, তখন তিনি যদি সাহস দেখাতেন তাহলে সংসদে এই বিব্রতকর অবস্থাটা হতো না। প্রধানমন্ত্রী কথাটা বলেছিলেন রাষ্ট্রের উচ্চতম অবস্থানে বসে। বিরোধী নারী এমপিরা বললেন গণতন্ত্রের মিলনগৃহে বসে। আমাদের নারী নেত্রীরা এভাবে পরস্পরের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় ঝাঁপিয়ে পড়বেন তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আর প্রধানমন্ত্রী হলেন দেশ, সরকার ও রাজনীতির অভিভাবক। তার কাছ থেকে দায়িত্বপূর্ণ, দূরদর্শী আচরণ প্রত্যাশা করলেও তিনি বারবার হতাশ করছেন। আর তার কটূক্তির জেরে সৃষ্টি হচ্ছে নানা কদর্য দৃশ্যপটের।