ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

আমাদের প্রধানমন্ত্রী এখন যতই বলছেন—তার কথা ততই শানিত, ক্ষুরধার ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তিনি একজন আপসহীন নেত্রী। কখনই তিনি আপস করেন না। একবার যা বলেন, যে অবস্থান নেন, দুনিয়া উল্টে গেলেও তিনি সেই অবস্থান থেকে একচুল সরেন না। অনড়, অবিচল। অথচ জাতির কী দুর্ভাগ্য দেখুন—আপসহীন নেত্রী বলা হয় খালেদা জিয়াকে। এটা কিন্তু ভারী অন্যায়। ভারতের ন্যায়রত্ন সাংবাদিক দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী সেই কবে লিখেছিলেন—আইএসআইয়ের টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছে বিএনপি। ৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি নিয়েছিল। প্রথম আলো সে খবর ছেপেছে নাচতে নাচতে। শেখ হাসিনা মোক্ষম অস্ত্র পেলেন হাতে। সংসদে, গণভবনে, হাটে-মাঠে-ঘাটে বিএনপি আর খালেদা জিয়াকে তুলাধুনা করে ছাড়লেন । ছি! ছি! ছি! পাকিস্তানি টাকায় নির্বাচন! পাকিস্তানি টাকাখোর। ছি! ছি! পরে জানা গেল ওই বিএনপি—বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি নয়, ওটা বালুচ ন্যাশনালিস্ট পার্টি। এ নিয়ে কত হই-হট্টগোল হলো। বুড়িগঙ্গায় জল গড়ালো। দীপাঞ্জন গঙ্গাতে ডুব মারলেন। প্রথম আলো-র মুখেও আর সেই স্লোগান নেই। যা কিছু ভালো… প্রথম আলো। তাদেরও মুখে চুন। কিন্তু শেখ হাসিনা টললেন না। তিনি আপসহীন। একবার বলেছেন। আপসহীন নেত্রী একমুখে দু’রকম কথা বলতে পারেন না। তাহলে তার ভাবমূর্তি থাকে না। তিনি এখনও দিব্যি দিয়ে বলে ফিরছেন—সেই একই কথা। দীপাঞ্জন বেইমানি করতে পারেন। তিনি কেন রিপোর্টটি বিশ্বাসযোগ্য করে খাওয়াতে পারলেন না। সে বেইমানির দায় দীপাঞ্জনের। সেজন্য এককথার মানুষ হাসিনা তার কথা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন না।

লোডশেডিং নিয়েও তিনি একের পর এক অসাধারণ বাণী দিয়ে চলেছেন। সবই উচ্চমার্গের কথা। বাঙালির আসলে কোনোদিন উন্নতি হবে না। বুদ্ধিজীবীদের উচ্চমার্গের কথা তারা হাঁ করে গেলে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বললেই হাসে। এ ভারী অন্যায়। এই বাঙালি জাতটাকে ভালো করে ঠ্যাকনা দেয়া দরকার। টনকে টন বিদ্যুত্ তিনি উত্পাদন করে চলেছেন। সেই বিদ্যুত্ তারা ভোগেও লাগাচ্ছে। এসি চালাচ্ছে। ফ্যান চলছে। টিউব জ্বলছে। রাইসকুকার দিয়ে ভাত রান্না করেও খাচ্ছে। জুসার চালাচ্ছে। সেই জুস ফ্রিজারে রেখে ঠাণ্ডা করেও পান করছে। অথচ যেই কিনা মাইক্রোফোন-অলা টিভি সাংবাদিককে দেখবে, অমনি বানিয়ে বানিয়ে বলবে—হায় হায় হায়! এক ফোঁটা বিদ্যুত্ও পাই না। দিনে-রাতে ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুত্ও থাকে না। কী মিথ্যুক। কী মিথ্যুক। একবার ভাবুন তো।

আশ্চর্য একটা বেইমান জাতের নাম হচ্ছে বাঙালি। যদি তাদের রান্নার গ্যাস সম্পর্কে বলতে বলো—গলা ফাটিয়ে বলবে, পাই না। পাই না। তাহলে কেমন করে রান্নাবান্না করছ? তখন দাঁত কেলিয়ে বলবে,
রাইসকুকারে রান্না করে খাচ্ছি। আবার বিদ্যুতের কথা যদি জানতে চাও—বলবে, লোডশেডিংয়ের ভূমিকম্প চলছে। আরে আমরা কি কিছু বুঝি না? বিদ্যুত্ যদি নাই পান, তবে রাইসকুকারে ভাত রান্না করে খান কীভাবে? রাইসকুকার কি বাতাসে চলে! আসলে এই জাতটাকে যত দাও, সামান্য শোকরানা করবে না। পেট পুরে খেয়েদেয়ে মুখটি শুকনো করে বলবে—নাগো, কিছুটি খাইনি। পেটে কোনো দানাপানি পড়েনি।
প্রধানমন্ত্রী খাঁটি কথা বলেছেন। এমন বেইমান জাতকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হাতে মুগুর না নিলে চলছে না। এদেরকে টাইট দেয়ার জন্য অবশ্যই বিদ্যুত্ উত্পাদন বন্ধ রাখা দরকার। মাত্র ৭ দিন না। অন্তত এক মাস যদি বিদ্যুত্ সাপ্লাই বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন হাড়ে হাড়ে টের পাবে লোডশেডিং কাকে বলে! আত্মবিস্মৃত একটা জাতি! প্রায় ৩০ বছর ধরে ভুল ইতিহাস পড়ে পড়ে এদের মাথা একদম গেছে। বেশিদিন আগের কথা তো নয়। ব্রিটিশ আমলের ইতিহাস না হয় টানলুম না। পাকিস্তান আমলে এই দেশে কয়টা ঘরে বিদ্যুত্ ছিল। টুঙ্গিপাড়াতেই তো বিদ্যুত্ ছিল না। হ্যারিকেন-ল্যাম্প জ্বালিয়ে সবার তখন রাত কেটেছে। এই যে নামকরা সব সিএসপি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামজাদা অধ্যাপক—সবাই ওই ল্যাম্প জ্বালিয়েই পড়াশোনা করেছেন। তখন কি বিদ্যুত্ ছাড়া চলেনি? দেশটাকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন করে না দিলে এখনও সেই ল্যাম্প জ্বালিয়েই চলত। স্বাধীন হয়ে এখন ফকিরের জাতে নবাবি দেখে! ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ ঘণ্টা বিদ্যুত্ চাই। নইলে ওনাদের ‘শাশ ভি কভি বহু থি’ দেখা যে হবে না। ২৪ ঘণ্টা টিভি খুলে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল গিলবে।

এসি, ফ্রিজার, লিফট এক মুহূর্তও বন্ধ রাখা যাবে না। শাশুড়ি বউকে ঘর থেকে তাড়াইল কি তাড়ায় নাই—এইটা না দেখতে পারলেই হাসিনা সরকার খারাপ। জাতটা হলো বাঙালি, তারা হিন্দি সিরিয়াল নিয়ে পড়ে থাকবে কেন! তারা ডোরেমন-পোকেমন কেন দেখবে? আর সেজন্য ৪৮ ঘণ্টা অবিরাম সাপ্লাই কোত্থেকে দেবে সরকার। বাঙালির এই বদ অভ্যাসের অবশ্যই একটা বিহিত হওয়া দরকার। মাসের পর মাস বিদ্যুত্ বন্ধ রেখে এদের শেখানো দরকার—পাকিস্তান আমলে দেশের অবস্থা কেমন ছিল। ব্রিটিশ আমলে কেমন ছিল। তাহলে বিদ্যুত্ সঙ্কট নিয়ে উচ্চবাচ্য করবে না।

মহাজোট সরকারের গোডাউনে বিদ্যুত্ কম নেই। আগে যা ছিল তো ছিলই। তার ওপর আরও তিন-চার হাজার বাড়তি মেগাওয়াট যোগ হয়েছে। এই বিদ্যুত্ তো আর লন্ডন-আমেরিকা-ইন্ডিয়ায় পাচার হচ্ছে না। কুইকরেন্টাল, কুইক লুট, কুইক চুরিচামারি—কত অপবাদ-গঞ্জনা সহ্য করে উত্পাদন হচ্ছে বহুমূল্য প্রতি ইউনিট। সবই ঢেলে দেয়া হচ্ছে এই কৃতঘ্ন জাতটার সেবায়। তার পরও একটু প্রশংসা করবে না। খালি বলবে, নাই আর নাই। খালি বলবে, দেও আর দেও।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, তলাবিহীন ঝুড়ি। সেইটা বঙ্গবন্ধুর প্রতি ক্ষেপে গিয়ে তিনি বলেননি। বলেছিলেন বাঙালির বদ খাসলতের জন্য। বাঙালির ভিক্ষুকসুলভ স্বভাবের জন্য। বাঙালি যদ্দিন এই বদ খাসলত না পাল্টাবে—চার হাজার মেগাওয়াট কেন, ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ দিয়ে দেশটাকে ইলেক্ট্রিফায়েড করে শক দিলেও তাদের খাই মিটবে না।