ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

শুনে এতো ভালো লেগেছে—মনে হচ্ছে মার্কিন মুল্লুকে যেতে এখন থেকে ভিসা-পাসপোর্ট না হলেও চলবে। দুই দেশের সাধারণ মানুষের সব স্বার্থ সংরক্ষণ করেছে আমেরিকা। খাদ্য নিরাপত্তার সমস্যা—ঘরে চাল-ডাল নেই—চলো আমেরিকা। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য—বাচ্চাকাচ্চাদের ভালো হাসপাতাল নেই—চলো আমেরিকা। জলবায়ু পরিবর্তন—সিডর ও আইলায় আপনি বে-ঘর হয়েছেন—প্রণব মুখোপাধ্যায় ঘর বানিয়ে দেয়ার যে অঙ্গীকার করেছিলেন তা কপালে জোটেনি—নো চিন্তা ডু ফুর্তি—চলো আমেরিকা। আমরা সেখানে বাংলা কাউন্টি নামে একটি বসতি গড়ে নেব।

অগণতান্ত্রিক অপশক্তি কখন ক্ষমতায় আসে? কেমন করে তারা ক্ষমতা দখল করে নেয়, তারা আদৌ মওকা খুঁজছে কি-না— যে যাই বলুক মুখে—এ নিয়ে চাপা আলোচনা রয়েছে সচেতন রাজনৈতিক মহলে। আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ বলুন, বিএনপি বলুন কেউই অগণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এই দুইদল একে অপরকে ক্ষমতায় চায় না সত্য কিন্তু আক্ষরিক অর্থে ওই অপশক্তিকে মসনদে বসিয়ে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে চায় এমনটি ভাবার কোনো কারণ দেখি না। তবে কখনও কখনও অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে গিয়ে নিজের নাক কাটা পড়ে—এমন দৃষ্টান্ত রাজনীতিতে রয়েছে বৈকি। রাজনৈতিক নেতাদের অদক্ষতা, অদূরদর্শীতা অপরিণামদর্শীতার কারণে, তাদের ভুল কাজকে পুঁজি করে নাজায়েজ সরকার মসনদে বসে পড়ে। ভুল স্বীকার- আত্মশুদ্ধি শব্দগুলো আমাদের নেতানেত্রীদের অভিধানে নেই। আর তাই ভুলের পর ভুল করে তারা বেহায়া বেশরমের মতো ফটোসেশন করেন- সংবর্ধনা নেন- গাধা মনে করেন জনগণকে। সত্যি বলতে কি, চোখের সামনে আমরা যা দেখতে পাই সেটাই সবটুকু দেখা নয়। চোখের আড়ালে না দেখা অনেক কিছু থেকে যায়। একজন দক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কাজ হলো সেই না দেখা আড়ালকে সবার চোখের আলোয় এনে দেখানো। সবিনয়ে কবুল করি সে কাজটি আমার সাধ্যের বাইরে। আমি দক্ষ নই; অক্ষম। তবুও সাম্প্রতিক কিছু অসঙ্গতি, বৈসাদৃশ্য—মূর্খের মতো পাঠকদের তুলে ধরতে চাই।

এপ্রিল মাসের শেষ দিকটা ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের আন্দোলন স্ফুলিঙ্গে কৃষ্ণচূড়ার মতো লালে লাল। ইলিয়াস আলী গুম ইস্যুতে তীব্র হচ্ছিল আন্দোলন। কিন্তু মে মাস শুরুই হলো সরকারি দলের উপর্যুপরি আনন্দমুখর উত্সবে। ৫ মে চীন থেকে উড়ে এলেন মার্কিন পাওয়ার হাউস-টু হিলারি ক্লিনটন। ওই দিন রাতেই এলেন ইন্ডিয়ান পাওয়ার হাউস-টু প্রণব মুখোপাধ্যায়। মনমোহন সিং নন, ইন্ডিয়ান পাওয়ার হাউস-ওয়ান হচ্ছেন সোনিয়া গান্ধী। হিলারী এলেন। হিলারি তো নয় এ যেন লেডি আলেকজান্ডারের ঢাকা সফর। মার্কিন মার্শাল বিমানে ঢাকার মাটি স্পর্শ করার পরও ৫০ মিনিট তিনি অবতরণ করেননি। ২০ ঘণ্টার সফরের এক ঘণ্টা ছাট হয়ে যায় শুরুতেই। অভ্যর্থনা জানাতে উন্মুখ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এই ৫০ মিনিট ঠায় অপেক্ষা করেছেন। সবার মধ্যে তখন ছিল হাপিত্যেস আর সংশয়। তীরে এসে বিমানটি ডুবলো নাকি! শত্তুরের মুখে ছাই। দীপু মনির প্রতীক্ষার অবসান হল। হিলারি অবশেষে স্বর্গীয় বিমান থেকে নামলেন।

তারপর নেতানেত্রীদের কেবল ফটোসেশন আর ফটো সেশন। আরব্য রীতির অনুকরণে গালে গাল লাগানোর মনোরম ভঙ্গি : হাসিনা, হিলারি-প্রণব এবং দীপু মনি—তাদের হাসি যেন ফুরোবারই নয়। মুখভরা হাসি ছলকে ছলকে পড়ছে। আজ কী আনন্দ আকাশে-বাতাসে— তা তা থৈ থৈ মম চিত্তে নিতি নৃত্যে-নাচে কে ওই—আনন্দমুখর নৃত্যমুখর ফুটেজে বাংলাদেশের দেড় ডজন টিভি চ্যানেলের রঙিন স্ক্রিন সয়লাব।
সমুদ্র জয়ের মহানন্দ ফুরাতে না ফুরাতেই আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জয়-ভারত জয়ের অভিসারে মত্ত হলাম। এসব কৃতিত্বেরও কাণ্ডারি দীপু মনি। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিবিড় করতে অংশীদারি সংলাপে বাংলাদেশের উন্মুখ সম্মতি; এই মোড়কে সন্ত্রাস দমন, শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা অটুট ও জোরদার—বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ও সহিংস সংঘাত এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাত নিরসনে সংলাপ আয়োজনে মহতী অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার ও সংলাপের ডায়মন্ড প্যাকেজে হাফ ফ্রি-ফুল ফ্রি সুযোগ-সুবিধার শেষ নেই। বাংলাদেশের জন্য খালি লাভ আর লাভ। নানা বোনাসের ফুলঝুরি। এর ঘোষিত বিজ্ঞাপন বিবরণী এয়ারটেল-রবির এডভারটাইজিং-এর চেয়েও আকর্ষণীয় ও বর্ণাঢ্য। যেমন দুই দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শক্তিশালী নাগরিক সমাজকে নিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার-পরিকল্পনা, জলবায়ু পরিবর্তন, গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ, তারুণ্য ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ব্যাপকতর সহযোগিতায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

শুনে এতো ভালো লেগেছে—মনে হচ্ছে মার্কিন মুল্লুকে যেতে এখন থেকে ভিসা-পাসপোর্ট না হলেও চলবে। দুই দেশের সাধারণ মানুষের সব স্বার্থ সংরক্ষণ করেছে আমেরিকা। খাদ্য নিরাপত্তার সমস্যা—ঘরে চাল-ডাল নেই—চলো আমেরিকা। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য—বাচ্চাকাচ্চাদের ভালো হাসপাতাল নেই—চলো আমেরিকা। জলবায়ু পরিবর্তন—সিডর ও আইলায় আপনি বে-ঘর হয়েছেন—প্রণব মুখোপাধ্যায় ঘর বানিয়ে দেয়ার যে অঙ্গীকার করেছিলেন তা কপালে জোটেনি—নো চিন্তা ডু ফুর্তি—চলো আমেরিকা। আমরা সেখানে বাংলা কাউন্টি নামে একটি বসতি গড়ে নেব।

পরিবার পরিকল্পনার সঠিক এবং ভেজালহীন প্রেসক্রিপশন দরকার— সর্বাধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দরকার- ডাকো আমেরিকা। ছোট সংসার, সুখী সংসার গড়তে কী কী করণীয়— মার্কিনিরা সচিত্র ভিডিওসহ সবিস্তারে বুঝিয়ে দেবে। গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ছে—হরতাল, দলাদলি, কোন্দল, গুম-খুনে বাংলার আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা— গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণ দরকার—কল আমেরিকা।

সত্যি ‘কল আমেরিকা’র এমন দুর্ধর্ষ প্যাকেজ আর হয় না। সন্ত্রাস দমন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস-সংঘাতবিরোধী লড়াই, মাদক মানবসম্পদ অস্ত্র পাচার—শান্তিরক্ষা-শান্তিপ্রতিষ্ঠা—হেন কাজ নেই অর্থাত্ সকল কাজে মুরুব্বি- আমেরিকা এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অঙ্গাঙ্গি আমাদের সঙ্গে—খুব কাছে— সর্বদা পাশে পাশে। যে কোনো অপারেশন, যে কোনো মিশন—মুরুব্বি আমেরিকা এখন আমাদের সঙ্গেই যেন অপারেশন টেবিলে থাকবে। দক্ষ সার্জন হিসেবে কাজ শেখাবে, কাজ করে দেখাবে। আমরা শুধু দুচোখ ভরে দেখবো আর শিখবো। কিছুটি করতে হবে না। দ্বিপক্ষীয় পর্যালোচনা ও সম্পর্কের কৌশলগত বিষয় নিয়ে নির্দেশনা দেয়ার জন্য নিয়মিত অংশীদারি সংলাপ হবে। ঢাকা ও ওয়াশিংটন ডিসিতে পর্যায়ক্রমে হবে। এ হল- ‘দেবে আর নেবে—মেলাবে মিলিবে’র মহত্তম আয়োজন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে বন্ধন সম্প্রসারণও আরও গভীর করতেও মহত্ ইচ্ছা প্রকাশ করা হয় যৌথ ঘোষণায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অনন্য ও অটুট আলিঙ্গনের অনবদ্য ডেমো—মানে নমুনা প্রদর্শন করলেন স্বয়ং হিলারি ক্লিনটন। তা দেখে বিস্ময়ে, আনন্দে আপ্লুত না হয়ে উপায় নেই। ইয়ে স্টাইল হ্যায় হিলারিকা। ৬ মে আইএসডি স্কুলে আগামী দিনের বাংলাদেশের তরুণ নেতাদের সঙ্গে জম্পেশ আড্ডা দিলেন। এক ঘণ্টা খোলামেলা কথা বললেন, আড্ডার শিরোনামও ছিল আহামরি—বাংলাদেশের সঙ্গে আড্ডা।
ডেমো’র এখানে শেষ নয়। মার্কিন আলিঙ্গননীতি বলে কথা। সবার সঙ্গে বন্ধুতা, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। অংশীদারি আলিঙ্গন চূড়ান্ত হতেই তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি— বিবদমান দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বললেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দফতরে গিয়ে তাগিদ দিলেন সংলাপের। বাংলাদেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার পরামর্শ দিলেন তিনি। এসব কথাও হলো আবার অংশীদারি সংলাপের সম্মতিবহি হাতে হাসিতে আটখানা ফটোও তুললেন হাসিনা-দীপু মনির সঙ্গে।

বিরোধী দলকেও নিরাশ করেননি তিনি। স্বয়ং ছুটে গেলেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অফিসে। সেখানেও বললেন, শান্তির বুদ্ধবাণী। ওম শান্তি। সরকারি দলের মন জুগিয়ে বলেছিলেন সংলাপের কথা। সবাই বসুক। কথা বলুক। কথা বলে সমাধান করুক। সরকারি দল বিনয়ে বিগলিত হয়েছে তার কথায়। তারা তো সংলাপ চায়-ই। সংসদে সংলাপ। সংলাপের জন্য সংসদে তারা বিরোধী দলকে ডাকতে ডাকতে প্রাণান্ত। কত ডেকেছেন। প্রায় আড়াই বছর ধরে সংসদে একা একা সংলাপ করতে করতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। সে সংলাপের সে কী ভয়ঙ্কর ভীতিকর ডায়ালগ! বিরোধী দলকে খিস্তি আর গালি। তারপর বিরোধী দল সংসদে গিয়ে ষোলকলা পূর্ণ করেছে। তাদের পাল্টা সংলাপও আমরা শুনেছি। আহা মরি মরি। দু’পক্ষের সংলাপের সে কি ছিরি! ভাগ্যিস; আমাদের মুরুব্বি হিলারি শোনেননি। অবশ্য ইংরেজি ছবিতে আমরা কম-বেশি দেখেছি—ইংরেজিতে ওরা আমাদের চেয়ে কঠিন কঠিন গালি দেয়। কারণে-অকারণে। মা ও নারী সমাজকে চূড়ান্ত হেয় করে গালি যেন ইংরেজি ভাষার অনন্য শোভা। ইংরেজি আমরা কম বুঝি বলে ওদের গালিকেও মনে করি—বাহারে, কী ভারি ভারি ইংলিশ বলছে। আর মার্কিনিরা তো গালির বাদশা। রোমান্টিক হলিউডি ছবি। নব দম্পতি নতুন বাসায়
উঠে কলওয়ালা কিংবা রংমিস্ত্রিকে ডেকেছে। এমন দৃশ্য বিরল নয়—তরুণী বউটিকে দেখে কলওয়ালা অশ্রাব্য খারাপ কোনো কথা বলল।

যা হোক, আমাদের সরকারি দল ও বিরোধী দলও ইদানীং মার্কিনিদের দেখাদেখি গালিগালাজে অতি পারদর্শী হয়ে উঠছে। মার্কিনিদের অনন্ত আলিঙ্গনে বাঁধা পড়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি বলে কথা। তাই আমিও গালির পক্ষে মোক্ষম কিছু যুক্তি তুলে ধরলাম। গালি হোক, গালাজ হোক আমাদের সংলাপ চলবে। চলতেই হবে। কেননা, তাগিদ দিয়ে গেছেন স্বয়ং হিলারি। খালেদার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েও তিনি বিরোধী দলের মনের সুরটা তার গলায় তুলতে চাইলেন। বিএনপি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে একাট্টা-সোচ্চার। হিলারি সরাসরি কেয়ারটেকার সরকারে গেলেন না। তবে বললেন, সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে গুম-খুন-মানবাধিকার লঙ্ঘনের মহোত্সব চলছে। সে প্রসঙ্গ শক্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে তার সামনে। তিনি বিশ্বমানবাধিকার কমিশনের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হিসেবে সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে শক্ত কিছু বলেননি। তবে গার্মেন্ট নেতা আমিনুল ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর কথা বলতে ভোলেননি।

সফরের প্রথম দিন ঝানু কূটনীতিক হিসেবে ক্যারিশমা ভালোই দেখিয়ে গেলেন তিনি। এদিন কাউকেই ক্ষ্যাপাতে চাননি। না হাসিনাকে, না খালেদা জিয়াকে। আওয়ামী লীগ সরকারের পড়ন্ত বেলায় তার আসা। সব কিছু জেনেশুনেই আসা। বাংলাদেশে এখন কী হচ্ছে—গুম-খুন, রাজনৈতিক হত্যা কতটা ব্যাপক তার ভালো পেপার ওয়ার্ক করে এসেছেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে হাসিনা বড্ড বেকায়দায়; তার ষোলআনা ফায়দা তুলে নিয়ে গেলেন তিনি। ঢাকায় এসেই পড়ন্ত বেলার মরন্ত সরকারের সঙ্গে আলিঙ্গন করে তিনি ঠিকই অংশীদারির ডায়মন্ড প্যাকেজে বাংলাদেশের সম্মতি আদায় করিয়ে নিলেন। আর কাজটা যখন ভালোয় ভালোয় হলোই তখন সব পক্ষের সঙ্গে মন জোগানো দেখা-সাক্ষাতে কার্পণ্য করেননি। হিলারি তার ‘মিশন সাবকনটিনেন্ট’কে সফল করার জন্য বাংলাদেশ পদক্ষেপটি সারলেন সবাইকে গুড হিউমারে রেখেই। বাংলাদেশ মিশনটা কখনও কখনও আমেরিকার কাছে একটু গোলমেলে ছিলই। কেননা, বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বস্ত বন্ধু চীনকে বৈরী করে কী আমেরিকা কী ভারত—কারও সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গি আলিঙ্গন চায় না। বাংলাদেশের মানুষ কারো সঙ্গে নিবিড় আলিঙ্গন করে ইজ্জত-আব্রু-সার্বভৌমত্ব হারাতে চায় না।

কিন্তু পড়ন্ত বেলার মরন্ত সরকারের কাছ থেকে সোনালি কাবিনখানা ঠিকই হাতিয়ে নিয়ে গেলেন হিলারি।
এই যে আমি মহাজোটকে পড়ন্ত বেলার মরন্ত সরকার বলে বলে মরছি—এটা কি আদৌ ঠিক হচ্ছে! সম্মতিবহি হাতে হিলারির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সমুদ্রবিজয়ী দীপু মনির যে আনন্দ উদ্ভাসিত ফটোসেশন আমরা দেখেছি, তাতে এই আশঙ্কা বিচিত্র নয় যে, অচিরেই হয়তো আমরা শুনবো সমুদ্র জয়ের পর এবার মহাজোট সরকার আমেরিকা জয় করেছে। এ জন্য পল্টন ময়দান ও সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক সংবর্ধনা দেবেন মহামহোপাধ্যায় জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও সৈয়দ হক গয়রহ। সেখানে তুলে ধরা হবে—কীভাবে তারা হিলারি ও আমেরিকা প্রশাসনের মন জয় করেছেন। হয়তো দুর্মুখ দৈনিক পত্রিকাগুলোর কল্যাণে একদিন জানতে পারব—মিয়ানমারের সঙ্গে কুস্তি করে যে সমুদ্র জয় দীপু মনি আপুরা করেছেন—সে সবের টেককেয়ারের দায়িত্ব পাচ্ছে পরমবন্ধু-অংশীদারি ইয়ার আমেরিকা। তাদের সে দায়িত্ব দিতে পেরে ধন্য হবো আমরা—বলব চীনে দস্যুদের শকুন নজর থেকে দেশকে বাঁচাতেই এই দূরদর্শী অংশীদারি সম্মতি।

কিন্তু ৫ মের রাতটি ফুরাতেই হিলারী উল্টে দিলেন পিরিতির কলসী। ঢাকায় বসেই নিজ হাতে ভাঙলেন কলসীর কানা।

২.
এতক্ষণ না হয় মহাজোট সরকারের পক্ষে মিষ্টি মিষ্টি ভালো ভালো কথাগুলো বললাম। এবার উল্টাপিঠের কথাগুলোও একটু বলি। কথায় বলে, বড়’র পিরিতি বালির বাঁধ। অর্থাত্ যতই ভালোবাসাবাসি কর না কেন, দিন ফুরালে বালির বাঁধের মতো ভেঙে যায়। সামান্য একটুও ঢেউ ধসিয়ে দিতে পারে বালির প্রেম। কথাটা এতদিন রূপকার্থে শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে নিষ্ঠুর-নির্মমতার সঙ্গে এমন প্রেমভঙ্গের ঘটনা ঘটতে পারে—তার প্রমাণ এবারই পেলাম। হিলারি ক্লিনটন এখন আয়রন লেডি। একই সঙ্গে সুপার পাওয়ার ওম্যান। সেই আগের লাভার প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের লাভলি লেডি আর নন। এখন তিনি মার্কিনিদের ওয়ার্ল্ড অর্ডারের মোক্ষম স্বার্থের প্রশ্নে কখনও ফটোসেশনে হাস্যময়ী, লাস্যময়ী। আবার স্বার্থের আবেদনটুকু আদায় হতেই অন্য চেহারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি-কূটনীতির ধারাটাই এমন। তাদের অভিধানে বিশ্বস্ততা-নিখাদ বন্ধুতা বলে কোনো শব্দ নেই। তাদের কাছে বিশ্বস্ততা মানেই মার্কিন স্বার্থ। তাদের কাছে বন্ধুতা-মিত্রতা, সহযোগিতা-সহমর্মিতা-ভালোবাসা, হাসিখুশি ফটোসেশন—সবকিছুর একটাই অর্থ; তা হলো মার্কিন স্বার্থ। আর সেটি আদায় হলেই তাদের আসল চেহারা প্রকাশ পায়। এর প্রমাণ ইরাক, আফগানিস্তান-আরব বিশ্বে আমরা দেখেছি।

ড্রিম লেডি হিলারি ক্লিনটন কী অনবদ্যভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই চেহারাটাকে তুলে ধরলেন। ৫ মে’র হাসিনা-হিলারি-দীপু মনি ফটোসেশন দেখে আপ্লুত হয়েছিলাম মহাজোট সরকার খোদ মার্কিনিদের পাকাপোক্ত হাত করে ফেলেছে। ভেবেছিলাম— এই হাসি আগামী নির্বাচনে মহাজোটের বিরাট বিজয় পর্যন্ত ফ্রেমে বাঁধাই হয়ে থাকবে।

কিন্তু ৬ মে আমরা কী দেখলাম! অনাবিল হাস্যলাস্যময় ফটোসেশনের ফটো ফ্রেমটা অটুট থাকলেও রাতারাতি ভেতরের ছবিটা বদলে গেছে। আগের ফ্রেমে হিলারির সঙ্গে ছিলেন দুজন কীর্তিমতী নারী—হাসিনা ও দীপু মনি। পরদিন সে জায়গাটা দখল করে নিলেন দু’জন কীর্তিমান পুরুষ। ফ্রেমে এবার অক্ষয় হয়ে ক্যামেরাবন্দি হলেন ড. ইউনূস এবং স্যার ফজলে হাসান আবেদ। অংশীদারি সংলাপের অঙ্গীকারনামার দিনে হিলারি ছিলেন সংযত। সরকারপন্থী ইস্যুগুলোতে কথা বলার ক্ষেত্রে ছিলেন সতর্ক। পরদিন হিলারিকে আর যেন চেনাই যাচ্ছিল না। ৬ মে আমিনুল হত্যা ইস্যুতে শক্ত ভাষায় বললেন—পোশাক শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। তা না হলে এ ঘটনা বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন ক্রেতাদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেবে।

সাদামাটা ভাষায় পরিষ্কার হুমকি।
কূটনীতির রেওয়াজি প্রটোকলে আমরা দেখি, সফরের গোড়াতে লাল্লুপাঞ্জুদের সঙ্গে বৈঠক-টৈঠক হয়। আর সফর শেষ হয় হাই প্রফাইল হাই ভোল্টেজ বৈঠকের মধ্য দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভিভিআইপি। দীপু মনি, ড. ইউনূস, স্যার আবেদ—এরাও মস্ত ভিআইপি। কেউই তুচ্ছ নন। হিলারি ভিভিআইপি বৈঠক সেরে নিয়েছিলেন আগেই। পরদিন সৌজন্য বৈঠক করলেন নোবেল লরিয়েট ও ব্রিটিশ রাণীর খেতাবপ্রাপ্ত স্যারের সঙ্গে। এই বৈঠকে ড. ইউনূস ও স্যার আবেদ হিলারির কাছে মত দিলেন—সংঘাত এড়াতে আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া উচিত। হিলারিও ঈঙ্গ-মার্কিন বন্ধুদের মূল্যবান মতে একরকম সায় দিলেন। বললেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র জরুরি এবং সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

হিলারির এই ঐতিহাসিক ঢাকা সফরের চূড়ান্ত মুহূর্তে আবেদ-ইউনূসের সঙ্গে সৌহার্দ্য বৈঠক খুবই তাত্পর্যবহ। মার্কিন কর্তৃপক্ষ এবং তাদের এদেশীয় বিশ্বস্ত মিত্রদের বৈঠকের ভাষায় এটা বুঝতে কারও অসুবিধার কথা নয়—টেকসই গণতন্ত্রের জন্য তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিকেই টেকসই মনে করছেন। এটা মহাজোট সরকারের গালে চপেটাঘাত ছাড়া কিছু নয়।

তারা তাদের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য যে কর্মপরিকল্পনার ‘ছক’ করে রেখেছেন, তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন বলে কিছু নেই। আছে আওয়ামী লীগের ‘নিরপেক্ষ ভোট কারচুপিবিহীন’ মহাজোট সরকারের অধীনে মহান নির্বাচন। বিরোধী দল তাতে এলে তো ভালো। না এলে আরও ভালো। না এলে নির্বাচন সর্বাঙ্গীণ নিরপেক্ষ-সুষ্ঠু-অবাধ করা সম্ভব হবে। পড়ন্ত বেলার এই মরন্ত সরকার এই আশাতেই হিলারিকে এমন আটঘাট বেঁধে ডেকে এনেছিল—অংশীদারির রাখীবন্ধন পরিয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে- মার্কিনিরা তাদের সব কর্মপরিকল্পনাতে মধুর সমর্থন দেবে।

এজন্য মহাজোট কোন কাজটা বাকি রেখেছে! গুম, খুন, মানবাধিকার নিয়ে বিএনপি খুব লাফাচ্ছিল। ইলিয়াস গুম ইস্যুতে দিনের পর দিন হরতাল-আন্দোলন-সংগ্রাম করে দেশের সর্বব্যাপী গুম-গুপ্তহত্যার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত করেছিল। দেশে স্বাভাবিক জীবন ও মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই—জননিরাপত্তা স্বাধীনতা-উত্তরকালে সবচেয়ে হুমকির সম্মুখীন—বিএনপি সেটি অংশীদারি আলিঙ্গনের মধুর মুহূর্তে হিলারির সামনে তুলে ধরতে পারে—তা ঠেকাতে এবং হিলারির সফর মসৃণ ও ফুল বিছানো করতে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের জেলে পুরে, হুলিয়া জারি করে কবরস্থানের শান্তি কায়েম করেছিল মহাজোট।

কিন্তু শেষ রক্ষা হলো কই! যা আশা করা হয়েছিল তাতে দেখছি গুড়ে বালি। হিলারি-অংশীদারির অঙ্গিকার আদায় করতে এসেছিলেন সেটি যেমন খুব সহজেই আদায় করলেন, পাশাপাশি এই বার্তাও পৌঁছে দিলেন—দাসখত দিয়ে যতই গাঁটছড়া বাঁধার উষ্ণ চেষ্টা করা হোক না কেন, আমেরিকার ওপর ভরসা নেই। আমেরিকাকে বিশ্বাস নেই। স্বার্থ হাসিল হলে তারা ঠোঁট ওল্টাতে মোটেই দ্বিধা করে না। দেরিও করে না। এক্ষেত্রে তাদের লাজশরমের বালাইও নেই। এক্ষেত্রে চীনের কথা একটু বলে রাখা প্রয়োজন মনে করছি। চীনের পিরিতি কিন্তু বালির বাঁধ নয়। চীন কোনো দেশের সঙ্গে হুটহাট বালি-প্রেম যেমন করে না, তেমনি ঐতিহ্যগতভাবেই তারা যুগ যুগ ধরে বিশ্বস্ততা-বন্ধুতা-সহযোগিতা রক্ষা করে। চীনের ঈমান এতটাই মজবুত, কথায় কথায় বেঈমানী তাদের ধাতে নেই।

আরেকটি অদ্ভুত, বিচিত্র ও মহামূর্খ আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছিল মহাজোটের বুদ্ধিধর থিংকট্যাঙ্কের পক্ষ থেকে। যেটা শুনে আমার মতো মূর্খেরও হাসি পাচ্ছিল। মহাজোট সরকারের কীর্তিমতীরা আশা করছিলেন, হিলারির সঙ্গে তারা অংশীদারিত্বের এমন রাখীবন্ধন বেঁধেছেন যে, হিলারি নাকি কলকাতা সফরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিস্তা নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত অমীমাংসিত ইস্যুতে ঢাকার জন্য তদবির করবেন। তিস্তার পানি পাইয়ে দেবেন। কী হাস্যকর আশাবাদ!

নয়াদিল্লি এবং মনমোহন সিং একজন রাজ্য মুখ্যমন্ত্রীর গোস্বা, গোয়ার্তুমি ও একদেশদর্শীর নাম ভাঙিয়ে বাংলাদেশকে তিস্তার ন্যায্য পানি থেকে সুকৌশলে বঞ্চিত রেখেছে—দিল্লি-কলকাতার এই অভ্যন্তরীণ চালবাজির মধ্যে কেন নাক গলাবেন হিলারি। তিস্তার পানিতে মার্কিনিদের স্বার্থ কী! বরং এই পানি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সাপে-নেউলে সম্পর্কটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশি উপভোগ্য।

আমরা কিসের ভিত্তিতে অমন আশায় বুক বেঁধেছিলাম! মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসালিশের রায়কে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে সমুদ্র জয় বলে চালানো কোনো এডুকেটেড ডিপ্লোমেসি নয়—এটা বাঙাল কূটনামি। হিলারি তো বাঙাল নন। অর্ধ শিক্ষিতও নন। কূটনীতি কাকে বলে, কি ও কত প্রকার—সেটা তার কাছে শেখা যেতে পারে। তিনি কূটনামি করতে এখানে আসেননি। মার্কিন স্বার্থ নিয়ে মার্কিন জনগণের সঙ্গে তিনি কূটনামি ও তামাশা করেন না। নিজ দেশের জনগণকে তিনি বোকা বানানোর খেলা খেলেন না। পৃথিবীর যেখানেই যান, মার্কিন স্বার্থ আদায় করে ছাড়েন। এটাই তার চাকরি। এটাই তার রাজনীতি। এই চাকরি বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গে সম্পন্ন করে স্বপ্ন দেখেন একদিন তার দেশের জনগণ তাকে প্রথম নারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বানাবে। তিনি জনপ্রিয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের বউ ছিলেন- সুতরাং উত্তরাধিকার সূত্রে মার্কিন ফার্স্ট পারসন হওয়া তার অধিকার- এমন স্বপ্ন দেখেন না। এজন্য দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ জয়-কলকাতা জয়ের তুবড়ি ছুটিয়ে সংবর্ধনাও নেবেন না। লক্ষ্য করে দেখুন, মহাজোটের মহামন্ত্রীদের কী হাস্যকর গুড হিউমারে তিনি রাখলেন। এমনকি তিস্তার পানি পাইয়ে দেবেন—এমন গুজব ছড়িয়ে দিয়ে তার প্রোপাগান্ডা পার্টি বেকুব-গর্দভ বানিয়ে ছাড়ল বাংলাদেশের ধুরন্ধর কূটনামিবিদদের।

৭ মে রাতে আমরা বাংলাদেশের বেকুব মিডিয়ার খবরে জানতে পারলাম, তিস্তা নিয়ে হিলারি-মমতা কথা হয়নি। অনেক কথা হয়েছে দুই নারীতে। হাতে হাত মিলিয়ে হাসি উল্লসিত ফটোসেশনও করেছেন। তাতে রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরত্ব ছিল। অন্ধ আবেগের আতিশয্য ছিল না। হিলারির সঙ্গে হাত মেলানো মমতার হাসিমুখ দেখে মনে হয়নি, আহা এ নারী জন্ম সার্থক হলো। মনে হয়নি— আহা- হিলারির কাছে কলকাতাকে বন্ধক দিলাম।

তিস্তা নিয়ে টুঁ শব্দটি হয়নি। কেন হবে? তিস্তা হচ্ছে মমতা-মনমোহন বনাম ঢাকার বিবদমান ইস্যু। সেখানে হিলারি কে? তিস্তা উপমহাদেশের নদী না নারী—এ নিয়েও তার কোনো ধারণা থাকার কথা নয়।
হায়রে আমরা কী বেকুব বাঙাল—মার্কিনিদের দুধসাদা মুখের পাশে আমাদের তামাটে মুখটা ক্যামেরার ফ্রেমে বাঁধা পড়লেই ভাবি—আহা! ক্ষমতার ২৫ বছরমেয়াদি পাকাপোক্ত বন্দোবস্ত হয়ে গেল। ধন্য হলো এই নারীজীবন।

মার্কিনিরা সেই ’৬৯ সালে চাঁদে গেল! আর আমরা এখনও চাঁদের বুড়ির চড়কা কাটা গালগল্পেই পড়ে আছি। ওরা চাঁদে যাবে, মঙ্গলে যাবে আর আমরা যুগ যুগ ধরে বাঙালিদের বোকা বানানোর মূর্খ তামাশায় মেতে থাক