ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

হ্যাঁ, মহাজোট সরকারের সুযোগ্যতম গুণধর মন্ত্রীর পাইপলাইনে সৈয়দ আবুল হোসেন সাহেব একরকম তৈরি হয়েই আছেন। তার তুলনা হয় না। তাকে যে কোনো গুরুদায়িত্ব অবশ্যই দেয়া যায়। চাইলে ২/৪টা মন্ত্রণালয় দিলেও ক্ষতি নেই।

বিশ্ব ব্যাংকের ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি সাময়িক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছিলেন। তাতে কি! দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের চেয়ারম্যান মহোদয় দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এবার আবুল হোসেনের পোয়াবারো। এবার তাকে পায় কে! এমনিতেই বেমক্কা যোগাযোগমন্ত্রিত্ব খুইয়ে তিনি খুব গোস্বা করেছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি-আইসিটি—কি একটা মন্ত্রণালয় তাকে দেয়া হয়েছে বটে, কিন্তু তিনি যেমন ‘অতিরিক্ত কর্মবীর’ মন্ত্রী তাতে ওইসব নামকাওয়াস্তে মন্ত্রণালয়ে তাকে মানায় না।

তার কাজেকর্মে জনগণ, আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের লোকজন যতই ক্ষুব্ধ-ক্ষিপ্ত হোক—খোদ সরকার বাহাদুর এবং ডাইনেস্টি খুবই সন্তুষ্ট। তিনিও সন্তুষ্ট করতে প্রাণান্ত।

দুদকের ‘দুর্নীতিমুক্ত’ সার্টিফিকেট পেয়ে তিনি আবার কথাবিহারে ভাসতে শুরু করেছেন। ধান ভানতে নানা শিবের গীত গাইছেন। তার কথামৃত হলো—তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ৩ বছরে যত কাজ করেছেন, ১০ বছরেও এত কাজ হয়নি। তা তো বটেই। সারাদেশের রাস্তাঘাট তার প্রমাণ। নতুন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন ঘুরতে গিয়ে হাড্ডিতে হাড্ডিতে টের পাচ্ছেন। রাস্তা নয় যেন খাল বা নর্দমা। তাতে খাবি খেতে খেতে ওবায়দুলের হাড্ডিগুলো ভাঙার দশা হয়েছে। আবুল কত প্রকার ও কি কি কাজ করেছেন; রাস্তাঘাট ও পদ্মা সেতু ডিল করতে গিয়ে ওবায়দুলের কিন্তু বুঝতে বাকি নেই। তিনি নিজে বাক্যবীর হওয়া সত্ত্বেও আবুলের কর্ম ও বাক্যচাতুর্যে বাক্যস্ফূর্তি হারাতে চলেছেন। ওবায়দুলের মুখে তাই এক রা—বেলা শেষের দিনে আর কত দিনবদল সম্ভব!

কিন্তু আবুল মোটেই হতোদ্যম নন। তার কণ্ঠে নতুন গান—রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান তিনি। আর না-কি রাজনীতি করবেন না।
হায় হায়—এত বড় একজন বাক্যবীরকে হারালে মহাজোট সরকারের কী দুর্দশাই না হবে!

হতে পারে আবুল সাহেব খুবই বুদ্ধিমান। রাজনীতির হাওয়া কোন দিকে যাচ্ছে—একজন দেশশীর্ষ ঠিকাদার-ব্যবসায়ী হিসেবে তা তিনি আগামই টের পাচ্ছেন—মহাজোটের জমানাশেষে গলায় ফুলের মালা, না হাতে লোহার মালা; সেটা তিনি যথেষ্ট অনুধাবন করতে পারছেন। আর তাই তিনিও অবসরের গীত গাইছেন। যাতে অন্তত মান-ইজ্জতটা বাঁচে।

আবার হতে পারে—এসব তার অভিমানেরই কথা। সরকার বাহাদুর তার পক্ষে। ‘দুর্নীতিমুক্ত’ সিল দিয়েছে দুদক। এখন তাকে কোনো ফালতু মন্ত্রণালয়ে অযত্নে ফেলে রাখা ঠিক নয়; বরং জবরদস্ত কোনো মন্ত্রণালয় দিয়ে তাকে আশু সম্মানিত করা উচিত।

মন্ত্রিসভায় রদবদলের কথা মাঝে-মধ্যেই শুনছি। একটা প্রস্তাবনা দিয়ে রাখি—আবুল মাল মুহিত যদি সত্যিই পদত্যাগের অভ্যাসটা হঠাত্ চর্চা করে বসেন; তখন সৈয়দ আবুলকে অর্থ মন্ত্রণালয় যেন দেয়া হয়। মুহিত তো চল্লিশ বছরে সেরা মন্ত্রী; আবুল শতাব্দীর সেরা হবেন—তা বলার অপেক্ষা রাখে না।