ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের দরবারে বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা শান্তিকামী বলে এই উপমহাদেশে আমরা আপস-মীমাংসা নীতির অনুসারী। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশের অভ্যুদয় উপমহাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সহায়ক হয়েছে এবং অতীতের সংঘাত ও বিরোধের বদলে আমাদের তিনটি দেশের জনগণের মধ্যে কল্যাণকর সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। আমরা আমাদের মহান নিকট-প্রতিবেশী ভারত, বার্মা ও নেপালের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছি। অতীত থেকে মুখ ফিরিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টায়ও লিপ্ত রয়েছি।’

বঙ্গবন্ধু একথা বলেছেন খোদ জাতিসংঘে বাংলায়। সূত্র : জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ : ফারুক চৌধুরী-প্রথম আলো ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার মহাজোট সরকার মহান নেতার প্রতিটি স্বপ্ন, প্রতিটি নির্দেশ এবং তার তাৎপর্য ও মর্মবাণী অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালনে সচেষ্ট। তারপরও মানতে পারি না ‘পাকিস্তানিদের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টায় লিপ্ত’ থাকার ব্যাপারটি এইভাবে ঢাকা-পিণ্ডি-ভায়া দিল্লি হওয়া উচিত। আমি বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু আজ বেঁচে থাকলে কোনো অবস্থাতেই মহান একুশের মাসে খুল্লাম খুল্লা হিন্দি উদ্দাম নৃত্য মেনে নিতেন না। তিনি জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে আলজিয়ার্স গিয়ে হোটেলে তার কক্ষে দেয়া মদের ট্রলি যেভাবে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত রোষে ছুড়ে দিয়েছিলেন, ঠিক সেইভাবে এইসব নগ্ন নৃত্য তিনি সদম্ভ পদাঘাতে বন্ধ করে দিতেন। একুশকে নিয়ে, ভাষার জন্য বলিদানকে ঘিরে আমাদের উন্নত শির সদম্ভ অহঙ্কার—তা কেমন করে সামান্য কিছু কাঁচা ডলারের প্রলোভনে বিকিয়ে দেয়া হলো। নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে থাকা অনুগ্রহলোভী-উপদেষ্টা-অকর্মন্য মন্ত্রীরা বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বিপথগামী করছে, ভুল বোঝাচ্ছে। এরা দেশকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে। দেশ যাচ্ছে আইয়ামে জাহেলের দিকে আর প্রধানমন্ত্রীর চাটুকাররা বলে বেড়াচ্ছে ‘আইয়ামে বেহেশতের’ কথা। পরিষ্কার স্পর্ধা ও অহঙ্কারে বলে রাখতে চাই—মহান একুশের মাসে বাংলাদেশের প্রতিটি মঞ্চ—গাঁও-গেরাম-শহর রাজধানী যেখানেই হোক না কেন- সবই একুশের মঞ্চ। দেশপ্রেমিক টিভি চ্যানেলগুলোর স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে শোকের চিহ্ন—এই মাসে নগ্ন-বেপরোয়া নাচ-গান কোনো অবস্থাতেই বরদাস্তযোগ্য নয়। সবিস্ময়ে ভাবি—কেমন করে শেখ হাসিনা বরদাস্ত করলেন! তবে কি হার্ভার্ড-অক্সফোর্ডের ডিগ্রি আনা তার চানক্য উপদেষ্টারা বঙ্গবন্ধুর ওই ঐতিহাসিক ভাষণের ভুল ব্যাখ্যা করে-ভুল বুঝিয়ে তাকে বাধ্য করছেন বরদাস্ত করতে!