ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

বঙ্গবন্ধু এই শিংঅলা পণ্ডিতদের কখনোই খুব বেশি পাত্তা দেননি। তিনি কথিত পণ্ডিতদের হোস্টাইল করেননি ঠিক- কিন্তু ওদের বুদ্ধি-পরামর্শ গ্রহণ করতে চাননি। প্রকৃত যারা জ্ঞানী, তারা এইসব মাটির সঙ্গে সম্পর্কহীন পরগাছাকে দাম দেন না। কেন না পরগাছারা মাতৃবৃক্ষকে শুষে খায় আর বলে তোমার অঙ্গে শোভা বাড়াচ্ছি।

নমস্য রাজনৈতিক গুরুর সঙ্গে দেখা করতে গেছেন বঙ্গবন্ধু জমানার এক স্বঘোষিত অতিপণ্ডিত ও ভার্সিটি ভিসি। সবে তখন ওই ভিসি তার দুই নম্বর পিএইচডি বাগিয়ে এনেছেন বিদেশ থেকে। গুরুকে সালাম দিয়ে ভিসি বলছেন গুরু, আরও একটি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছি।

গুরু দাবা খেলতে খেলতে বললেন, আগে তোর এক শিং ছিল। এখন দুই শিং হয়েছে। এক শিং দিয়েই যথেষ্ট গুঁতিয়েছিস লোকজনকে। এখন দুই শিং দিয়ে আরও কত গুঁতাবি— কত লোকজনকে জখম করবি কে জানে।

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায় দুই শিংঅলা ওই বরেণ্য মুজিববাদী বুদ্ধিজীবী—সেই আমলে তার উর্বর বুদ্ধির কারখানা দিয়ে বঙ্গবন্ধু সরকারকে বিপথগামী করেছিল। দুই শিং দিয়ে এত গুঁতাগুতি করেছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পালাতে হয়েছিল তাকে।

বেশিরভাগ শিংঅলাকে পাত্তা না দিলেও ওই ভিসি মার্কা মোসাহেব উপদেষ্টা, খন্দকার মোশতাকদের স্তুতিকে পাত্তা দিয়ে বঙ্গবন্ধু তার মাশুল গুনেছেন বাঙালিকে কাঁদিয়ে।

ধারণা করা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশেও এখন এই রকম কিছু অতিপণ্ডিত স্তুতিকারের ভিড়। এদের জন্য আওয়ামী লীগ আজ গণবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হতে চলেছে। এরা ধরাকে সরাজ্ঞান করছে। নতুবা কেমন করে আওয়ামী লীগের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যার পক্ষে সাফাই গান। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে অদক্ষ বাসচালক খানসেনাদের চাকায় শিশু পিষ্ট হলে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা স্বাভাবিক। তবুও ধন্যবাদ, স্বরাষ্ট্র দফতরের কর্ণধারকে। রুনি-সারওয়ার খুনের পর তিনি দয়া করে বলেননি যে, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবশ্যই সুস্থ-সুন্দর স্বাভাবিক। ওরা দু’জন মারা গেলেও তাদের ছেলেকে খুনিরা রেহাই দিয়েছে।’

তরুণ সাংবাদিক দম্পতি রুনী-সারওয়ারের নিষ্ঠুর পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিষ্ঠুর তামাশায় মেতে উঠেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং। তার ‘উচ্ছসিত’ ৪৮ ঘণ্টার ‘আয়রন অর্ডার’ যে নিছক কথার কথা ছিল; লাজশরমের মাথা খেয়ে তিনি তা নিজেই স্বীকার করলেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি চরম ব্যর্থতার মুখেও অম্লান মুখে বললেন, সাংবাদিকদের চাপের মুখে তিনি ওই আলটিমেটাম দেন। আবার বলেন, কৌশলগত কারণে সময় বেধে দেয়া হয়েছিল।

হায়রে আমাদের ‘ইতিহাস সেরা’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কৌশল! হত্যার তদন্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যে কোন সময় সুসংবাদ পাবেন।’ সুসংবাদ! এ কেমন ভাষা! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ হচ্ছে অপরাধীকে পাকড়াও করা। এটাই তার চাকরি। সাংবাদিক হত্যার এই ঘোরতর দুঃসংবাদের দিনে তার মুখে সুসংবাদ উচ্চারণ প্রহসনই ঠেকছে।