ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ইসলাম শান্তি ও প্রগতির ধর্ম তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ যুগ যুগ ধরে এ ধর্মকে গবেষণা করে বিধর্মী অনেক প্রবক্তা গণ ও তা স্বীকার করেছেন। কিন্তু ইসলাম ধর্মানুসারীদের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হতে দেখা যায় প্রায়শই:। সম্প্রতি শবে বরাত নামের ধর্মীয় রজনীটি চলে গেল। তা নিয়ে দেখেছি পত্র পত্রিকা, ব্লগ, টিভি চ্যানেল গুলোতে মতদ্বৈত মতবাদ ব্যক্ত হচ্ছে। কেউ তার সমর্থনে যুক্তি দেখাচ্ছেন আর কেউ তাকে বেদআত, শিরক,অবৈধ ফতোয়া দিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্লগে ও বেশ ক’টি লেখা এ বিষয়ে লেখা হয়েছে। কেউ বিদ্রুপাত্মক ভঙ্গিতে আর কেউ সরল ভাষায় শবে বরাতের আলোচনা করেছেন।

সমর্থনকারীদের কোরআন হাদীসের তথ্যমতে শবে বরাতের ব্যাখ্যা :
কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : নিশ্চয়ই আকাশমলী ও পৃথিবী সৃষ্টির মধ্যে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে বোদ্ধাজনদের জন্য রয়েছে নিদর্শন (সূরা আল ইমরান: আয়াত ১৯০)।
রাত ও দিন এবং সময় সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ জাল্লা শানুহু। কিন্তু কতকগুলো দিবস এবং কতকগুলো রজনী বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে মাহাত্ম্য লাভ করেছে। কুরআন মজীদে লায়লাতুল মুবারাকার উল্লেখ আছে আর হাদিস শরীফে লায়লাতুন নিস্ফি মিন শা’বানের উল্লেখ আছে। লায়লাতুন নিস্ফি মিন শা’বান অর্থাৎ মধ্য শাবানের রাত।

লায়লাতুন নিস্ফি মিন্ শা’বান এবং লায়লাতুল মুবারক পালিত হয় লায়লাতুল বারাআত নামে। ফারসীতে একে বলা হয় শবে বরাত। লায়লাতুল বারাআত মানে নিষ্কৃতির রাত, মুক্তির রাত আর শবে বরাত মানে ভাগ্য রজনী। এই রাত অত্যন্ত বরকতময়। এই রাতে গোনাহ্ থেকে মুক্তি পাবার সুযোগ আসে, এই রাতে সৌভাগ্য অর্জনের সুযোগ আসে। এই রাতে আল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নির্ধারণ করেন। আল্লাহ্ লায়লাতুম মুবারাকা প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন : ফীহা ইউফ্রাফু কুল্লু আম্রিন হাকীম এই রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয় (সূরা দুখান : আয়াত ৪)।

হাদিস শরীফে লায়লাতুন্ নিস্ফি মিন্ শা’বান অর্থাৎ মধ্য শা’বানের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আ’আন্হু থেকে বর্ণিত আছে যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : মধ্য শা’বানের রাতে হযরত জিবরাঈল ‘আলায়হিস সালাম আমাকে বললেন : আপনার মাথা আকাশের দিকে তুলুন, কেননা এ রাত অত্যন্ত প্রাচুর্যে ভরা। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম : এতে কোন ধরনের প্রাচুর্য (বরকত) রয়েছে? উত্তরে হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম বললেন : এই রাতে আল্লাহ্ তা’আলা রহমতের তিন শ দরজা খুলে দেন।

হাদিস শরীফে আছে যে, মধ্য শা’বানের রাতের আরম্ভ হলেই আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমান থেকে ঘোষণা করতে থাকেন, এমন কি কেউ আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চায়? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। এমন কি কেউ আছে যে আমার কাছে বিপদ আপদ থেকে নিষ্কৃতি চায়, মুক্তি চায়? আমি তার সমস্ত বিপদ-আপদ দূর করে দেব। এমন কি কেউ আছে যে আমার কাছে রিয্ক চায়? আমি তাকে অঢেল পর্যাপ্ত রিযক দেব। এমন কি কেউ আছে, এমন কি কেউ আছে এই ঘোষণা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

লায়লাতুন নিস্ফি মিন শা’বানে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম মদীনার মশহুর কবরস্থান জান্নাতুল বাকীতে গমন করে কবর জিয়ারত করতেন।

এক মধ্য শা’বানের রাতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়িহ ওয়া সাল্লাম হযরত’ আয়িশা সিদ্দীকা রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হার হুজরা শরীফে প্রবেশ করে কোনো দিক নজর করলেন না। তিনি সোজা জায়নামাজে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং নফল সালাত আদায় করে সিজ্দায় পড়ে উম্মতের গোনাহ্ খাতা মাফ করে দেবার জন্য আল্লাহর মহান দরবারে কাঁদতে লাগলেন। হযরত ‘আয়িশা রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হা ভাবলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু ‘আলায়িহ ওয়া সাল্লাম বোধ করি আমার উপর নাখোশ হয়েছেন। তাই তিনি অত্যন্ত নম্রস্বরে বললেন : ইয়া রসূলাল্লাহ! আমার আব্বা-আম্মা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি এখানে উপেক্ষিতা হালতে আপনার জন্য ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছি। আর আপনি ওখানে জায়নামাজে গিয়ে কান্নাকাটি করছেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম সিজ্দা থেকে মাথা তুলে বললেন : হুমায়রা (আয়িশার ডাক নাম) তুমি কি জানো আজ কোন্ রাত? উত্তরে তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভালো জানেন। তখন প্রিয় নবী (সা) বললেন : এ হচ্ছে লায়লাতুন্ নিস্ফি মিন্ শা’বান (মধ্য শা’বানের রাত)। এই রাতে আল্লাহর কাছে কোন প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। কারও গোনাহ যদি পাহাড় সমানও হয় আল্লাহ তা মাফ করে দেন।

মূলত মধ্য শা’বানের এ রাতের মাহাত্ম্য অপরিসীম। এ রাত ভাগ্য নির্ধারণের রাত। এ রাতে এক বছরের হায়াত, মউত, রিযক, দৌলত উত্থান-পতন প্রভৃতি তাবত তকদীর নির্ধারণ করা হয়। এ রাতে বেশি বেশি করে নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করা যায়। হাদিস শরীফে আছে দু’আর মাধ্যমে ভাগ্য রদ করা সম্ভব। তাই এ রাতে না ঘুমিয়ে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, জিকির -আযকার, তওবা-ইসতিগফার, দু’আ-দরুদ, মিলাদমাহফিল-কিয়াম শরীফ, সম্ভব হলে আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত, সওয়াব রিসানী ইত্যাদির মাধ্যমে অতিবাহিত করতে পারলে অনেক ফায়দা লাভ করা যায়। হাদিস শরীফে আছে, শবে বরাতে ইবাদত করার উসিলায় বছরের গোনাহ্ মাফ হয়। জুমু’আর রাতে ইবাদত করার উসিলায় সপ্তাহের গোনাহ্ মাফ হয় এবং শবে কদরে ইবাদত করলে জীবনের গোনাহ্ মাফ হয়।
লায়লাতুল বারাআতকে লায়লাতুল হায়াত বা জীবন রাত্রি, লায়লাতুল শাফায়াত বা সুপারিশের রাত্রিও বলা হয়। এই রাতকে ঈদুল মালায়িকা বা ফেরেশতাগণের ঈদও বলা হয়। হাদিস শরীফে লায়লাতুন নিস্ফি মিন শা’বানের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে এবং দিবসে সিয়াম পালন করবে।

লায়লাতুল বারাআত বা শবে বরাত বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষের সাংস্কৃতিক বৃত্তে এক সুদৃঢ় অবস্থান লাভ করেছে। এই রাতে দান-খয়রাত করাতেও অশেষ সওয়াব রয়েছে। বাংলাদেশে এই রাতকে কেন্দ্র করে গরিব-মিসকীনদের মধ্যে পাড়া-প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে হালুয়া-রুটি ও নানা মিষ্টান্ন কিংবা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও আদান-প্রদানের মধ্যে এক গভীর সৌভ্রাতৃত্ব বন্ধন শোভা বিভাসিত হয়।

লায়লাতুল বারাআত বা শবে বরাত পালনে এর পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। কোন রকম আতশবাজি বা পটকা ফোটানো এ রাতের পবিত্রতাকে ক্ষুণ করে। কবরে মোমবাতি জ্বালানো, আগরবাতি জ্বালানো, ফুল দেয়া শরী’আতসম্মত কাজ নয়। বরং ওগুলো গোনাহের কাজ।

বিরুদ্ধাচরণ কারীদের ব্যাখ্যা:
শবে-বরাত উদযাপন করতে দেখি নাই বা শুনি নাই; এমনকি আরব দেশেও এই শবে-বরাত নামক রাত্রিটি উদযাপিত হতে দেখা যায় না| শবে-বরাত নামক এ রাত্রি কি ভাগ্য রজনী?
না, এ রাত্রি ভাগ্য রজনী নয়, মূলতঃ এ রাত্রিকে ভাগ্য রজনী বলার পেছনে কাজ করছে সূরা আদ-দুখানের ৩ ও ৪ আয়াত দু’টির ভূল ব্যাখ্যা। তা হলোঃ
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا… مُنْذِرِينَ* فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ – سورة الدخان:3ـ4

আয়াতদ্বয়ের অর্থ হলোঃ “অবশ্যই আমরা তা (কোরআন) এক মুবারক রাত্রিতে অবতীর্ণ করেছি, অবশ্যই আমরা সতর্ককারী, এ রাত্রিতে যাবতীয় প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়”।
শা’বানের মধ্যরাত্রি পালন করার কি হুকুম এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে তিনটি মত রয়েছে:

এক. শা‘বানের মধ্য রাত্রিতে মাসজিদে জামাতের সাথে নামায ও অন্যান্য ইবাদত করা জায়েয । প্রসিদ্ধ তাবেয়ী খালেদ ইবনে মি‘দান, লুকমান ইবনে আমের সুন্দর পোশাক পরে, আতর খোশবু, শুরমা মেখে মাসজিদে গিয়ে মানুষদের নিয়ে এ রাত্রিতে নামায আদায় করতেন। এ মতটি ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়ীয়াহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে। (লাতায়েফুল মা‘আরেফ পৃঃ১৪৪)। তারা তাদের মতের পক্ষে কোন দলীল পেশ করেননি। আল্লামা ইবনে রাজাব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাদের মতের পক্ষে দলীল হিসাবে বলেনঃ তাদের কাছে এ ব্যাপারে ইসরাইলি তথা পূর্ববর্তী উম্মাতদের থেকে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছিল, সে অনুসারে তারা আমল করেছিলেন। তবে পূর্বে বর্ণিত বিভিন্ন দুর্বল হাদীস তাদের দলীল হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকবে।

দুই. শা‘বানের মধ্যরাত্রিতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত বন্দেগী করা জায়েয। ইমাম আওযা‘য়ী, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, এবং আল্লামা ইবনে রজব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম) এ মত পোষণ করেন। তাদের মতের পক্ষে তারা যে সমস্ত হাদীস দ্বারা এ রাত্রির ফযীলত বর্ণিত হয়েছে সে সমস্ত সাধারণ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করাকে জায়েয মনে করেন।
তিন: এ ধরণের ইবাদত সম্পূর্ণরূপে বিদ’আত — চাই তা ব্যক্তিগতভাবে হোক বা সামষ্টিকভাবে। ইমাম ‘আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইবনে আবি মুলাইকা, মদীনার ফুকাহাগণ, ইমাম মালেকের ছাত্রগণ, ও অন্যান্য আরো অনেকেই এ মত পোষণ করেছেন। এমনকি ইমাম আওযায়ী যিনি শাম তথা সিরিয়াবাসীদের ইমাম বলে প্রসিদ্ধ তিনিও এ ধরনের ঘটা করে মাসজিদে ইবাদত পালন করাকে বিদ‘আত বলে ঘোষণা করেছেন।

উপরের আলোচনায় পক্ষ বিপক্ষ দুটি মতভেদ পরিলক্ষিত হল। একটি ধর্মের বিষয় বস্তু এক হলে মতভেদ হবে কোন যুক্তিতে! এখানের আলোচনা ছাড়া ও কতেক জায়গায় যারা এ দিবস টির বিরুদ্ধাচরণ করেছেন তাদের বর্ণনার ভাষায় ছিল প্রতিপালনের বিষয়ে কিছু বাস্তব যুক্তি। যেমন আতসবাজি,বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, হালুয়ারুটি ইত্যাদির বিরোধিতা। যা বাস্তবিক এবং ধর্মীয় বিধি সম্মত। এখানে একটু বলা প্রয়োজন যে, হালুয়ারুটি ও ভাল খাবার নিয়ে তর্ক করা নিষ্প্রয়োজন। যেহেতু ভাল খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা হলে অন্তত: গরীব দু:খীদের কিছু দিতে মানসিক স্বাদ জাগে। এতে ক্ষতির কারণ দেখিনা। আতসবাজি,বোমবাজি,চাদাবাজির মত কোন ইবাদত ইসলাম ধর্মে নেই। আল্লাহর ইবাদতের জন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। যে যেখানে যেভাবে আছে সেখান থেকেই ইবাদত করা যায়। বিমান ,রেল,বাস, পানির জাহাজ এসব চলন্ত অবস্থায় ও আপনার ইবাদত প্রযোজ্য। তবে ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে হজ্জ করার নিমিত্তে মক্কা যাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ রকম একটি উল্লেখ্য পবিত্র স্থানে যায় ধর্মানুরাগীরা। সেখানে সবাই কায়মনবাক্যে ইবাদত করে নিজের পাপের মার্জনা করেন। কিন্তু জুতা চোরের আবির্ভাব সেখানেও রয়েছে। তাই বলে আপনি জুতা চুরির কারণে ইবাদতকে অস্বীকার করবেন! আল্লাহ সাপ দিয়েছেন , সাপ কাটার ওষুধ দিয়েছেন, রোগ দিয়েছেন, উপশমের উপায় ও দিয়েছেন। সব কিছুর উপর আমাদের বাস্তব ধর্মীয় নীতিকে সম্মান করা প্রয়োজন নয় কি?

কোন প্রকার ইবাদতকে বেদআত বলে নিরুত্সাহিত করা নিতান্ত গর্হিত কাজ। কোন ব্যক্তি নামায রোজা পালন করেন না। তিনি অন্তত: কোন একটি দিবসের উপলক্ষ নিয়ে বছরে কয়েকদিন ইবাদত করলেন,তবে কি তার জীবনের কিছু সময় অসতপথ থেকে নিস্তার পায়নি? তিনি ৬০ বছর বেচে থাকলে বছরে ৫টি দিন ইবাদতের মাধ্যমে কাটলো না? আর যদি কেউ এটা মনে করে ইবাদত করে,আমি সব অন্যায় অবিচার করে ওই বিশেষ দিনে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যাব, তবে তো সেই বড় আহম্মুক। আল্লাহ বিশেষ দিন গুলোকে ইবাদতের মাধ্যমে অযাচিত পাপ মোচনের কথা বলেছেন। কারো হক আপনি তছরুপ করেছেন তা কি আল্লাহ মাফ করবেন?কোথায় পেয়েছেন এ তথ্য! কারো মনে আঘাত দিয়েছেন তা তিনি মাফ না করলে আল্লাহ কখনো মাফ করবে না।

ইসলাম একটি তথ্যবহুল আধুনিক ধর্ম। কেননা কোরআন,সুন্নাহ,ইজমা,কিয়াস এসবের মাধ্যমে যে কোন সমস্যার সমাধান দেয়ার ব্যবস্থা ইসলামে রয়েছে। কিন্তু আমরা এসবের চর্চা না করে আজ অধ:পতিত হচ্ছি। আর এ ধর্মকে বিতর্কিত করতে হুজুর করিম (স.)এর সময় কাল থেকে ইহুদি, খ্রিস্টানরা উঠে পড়ে লেগেছিল,তাবত কালতক চলবে —-এটা হাদীসের বর্ণনা। তাই যাদের মাঝে অশুদ্ধ রেওয়াজ রয়েছে,সেসব অশুদ্ধতা দূর করার জন্য লিখে যান, যাতে সাধারণ মানুষ প্রকৃত ধর্মের নির্যাস ভোগ করার সুযোগ লাভ করে ইহকালের শান্তি ও পরকালের মুক্তি লাভে সমর্থ হয়।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দিন। আমিন।

পুনশ্চ: এখানে পক্ষ বিপক্ষের যুক্তি গুলো কপি/পেস্ট করা হয়েছে। লেখা ও মতামত বিষয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব মতামত। ধর্মীয় বিষয়ে আমরা স্বল্প জ্ঞান বা বিভিন্ন মতাবলম্বীদের বিতর্কিত মতবাদ পড়ে বিতর্কে না জড়াতে অনুরোধ সমেত আমার এ প্রয়াস। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ কোরআনওহাদীসে নির্দেশিত হয়েছে।