ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমাদের দেশের এমন কোন স্থান/প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে রাজনৈতিক গ্রুপিং নেই। এমন কোন সংগঠন পাওয়া যাবেনা যারা রাজনৈতিক দলের লেজুড় বৃত্তি করে না। আইনগত ভাবে যাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়েছে সে সব প্রতিষ্ঠান গুলো কোন না কোন ভাবে রাজনীতির শাখা প্রশাখার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ রাজনৈতিক কথাবার্তা বলে আলোচিত সমালোচিত হষ্চ্চেন।

আজ প্রবীণ আইনজীবী রফিক-উল হক বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের গণ-অনশন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের শান্তির জন্য দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপ অত্যন্ত জরুরি। আর সংলাপের প্রস্তাব দেওয়া প্রধানমন্ত্রীরই কর্তব্য। দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ একটি অস্থায়ী সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। সেটি কোয়ালিশনও হতে পারে।

রফিক-উল হক বলেন, ‘আমি এখনো বলছি, ইলিয়াস আলী ফিরে আসবে।’ তাঁর মতে, রেল মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ঢাকার জন্য ইলিয়াস আলীর ইস্যু আনা হয়েছে। আর ইলিয়াস ইস্যু ঢাকা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের নেতাদের জেলে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিনি রাজনীতি করেন না। রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়াও তাঁর উচিত নয়। তার পরও তিনি এসেছেন ‘বিশেষভাবে’। — এই বিশেষ ভাবে আসা টা কিসের ইঙ্গিত বহন করে? ১/১১ এর ত্বত্তাবধায়ক সরকার আমলে সানা উল হকের মত উকিল খালেদা জিয়ার ওকালতি করে কেন্দ্রীয় নেতা বনে যাওয়ার নজির থাকলে রফিকুল হক সাহেব মন্ত্রী হওয়ার খায়েশ পোষণ করলে বেশি আশা তো বলা চলে না।

গত সপ্তাহে তিনি ড: ইউনুস এর পক্ষাবলম্বন করতে গিয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও দিলীপ বড়ুয়ার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সাধারণ ভাষায় বলতে গেলে অসংলগ্ন কথাই বলে ফেলেছেন। তিনি দিলীপ বড়ুয়াকে নখের সাথে তুলনা করে তাচ্ছিল্য করেছেন, যা তার মত একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর পক্ষে অত্যন্ত অশোভনীয়। দিলীপ বড়ুয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী ব্যক্তিত্ব। যে যাই বলুন না কেন, দিলীপ বড়ুয়া দেশের একজন মন্ত্রী। নেতৃত্ব কেউ শুধু শুধু পান না। রফিক-উল হকের পেশাটি কিন্তু এ রকম। টাকা পেলে সে যেই হোন না কেন, তার জন্য কালো উর্দি পড়ে কোর্টে দাড়িয়ে যান। কিন্তু বক্তৃতার মাঠে কি তা শোভা পায়?

এই ব্লগে আমিন কাদের লিখিত “ওয়ান ম্যান পার্টির মিনিস্টার” শিরোনামে একটি লেখায় বেশ চাতুর্জ্যের সাথে দিলীপ বড়ুয়াকে হেনস্থা করা হয়েছে। আমিন ভাই ও রফিক সাহেব মুসলিম। তারা পবিত্র কোরআনকে বিশ্বাস এবং সম্মান করেন আশা করি। তাতে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে যে, ক্ষমতা এবং সম্মান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া । দিলীপ বড়ুয়ার পক্ষে ওকালতি করা আমার কোন ইচ্ছা নেই। ব্যক্তিগত ভাবে জানি না। আমিন কাদের ভাইয়ের লেখা পড়ে আমার আগেকার একটি ঘটনা মনে পড়ায় লিখতে ইচ্ছা হল । সম্ভবত: ৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিএনপির রাজনীতি বিষয়ক স্কুল এর প্রিন্সিপাল কে.ম.ফিরোজ নুন নামের এক পণ্ডিত দিলীপ বড়ুয়াকে টক শো তে লাঞ্ছিত করে বলেছিলেন, আপনি জীবনে মন্ত্রী হওয়া তো দূর, এমপি ও হতে পারবেন না। আমি সেদিন ওই ভদ্রলোকের অভদ্রতা দেখে দু:ক্ষিত হয়েছিলাম। দিলীপ বড়ুয়া যেদিন মন্ত্রী হয়েছিলেন সেদিন আমার খুশি লেগেছিল শুধু একটি কারণে, তিনি যে ব্যক্তির মাধ্যমে অপমানিত হয়েছিলেন তিনি কিছুই হতে পারেন নি। প্রত্যেক ধর্মে বলা আছে, ধৈর্য মহত্বের লক্ষণ। আসলে দিলীপ বড়ুয়া তার জীবনে ধ্যর্যের যে পরিচয় দিয়েছেন,তার ফল স্বরূপ স্রষ্টা তাকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী বানিয়ে তুষ্ট করেছেন। না হয় তিনি নিজে ও কল্পনা করেননি তিনি মন্ত্রী হবেন —তার উক্তি।

মন্ত্রিত্ব ড. ইউনূসের কাছে তুচ্ছ হতে পারে না, ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের কাছে তাচ্ছিল্যের হতে পারে না, তারা দুজনেই গদির স্বাদ নিতে চেষ্টা করেছেন, পারেন নি। ভবিষ্যতের কথা ভাগ্যের হাতে। তবে চেষ্টা করে চলেছেন নিরন্তর– তাতে কোন সন্দেহ নেই। গদির লোভ, টাকার লোভ এগুলোর নেশা কাটে না। টাকা যার আছে তার আরও চাই কড়ি কড়ি। যশ-চাই আরো। তাই ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের আজকের যোগদান সফল হতে কত্‍ক্ষণ?