ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এ দেশে হঠাৎ করে ধর্ষণ, খুন, শিশু নির্যানের ঘটনা বেড়ে যাওযার কারণ কী? উনি খুব সহজ ভাবে বলেছিলেন আমরা আসলে পরিবর্তিত অবস্থার সাথে খুব বেশি খাপ খাওয়াতে পারছি না । উনি এক কথায় যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা যথেষ্ট সত্য এবং সুস্পষ্ট এবং সহমত পোষণ করছি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা যা ভাবি তা সঠিক অর্থে করতে পারি না এবং তার সুফল ভোগ করতে পারি না।

আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি প্রথম যখন মোবাইল ব্যবহার করি তখন আমি কলেজে পড়ি এবং রীতিমত ফোন ব্যবহার বেশ কঠিন এবং কষ্টসাধ্য হয়েছিল। গ্রামের মাঠে ছোটবেলায় দেখতাম খুব ভালো খেলাধুলা হত। সবাই বিকালে খেলাধুলা করতো । কিন্তু কিছুদিন বাদে যখন গ্রামে গেলাম দেখলাম মাঠে খেলা করার মতো পাবলিক নাই। ষ্পষ্ট মনে আছে গ্রামে যখন শুক্রবারে সবাই সিনেমা দেখতো তখন গানগুলো দেখার সময় অন্য চ্যানেলে দিয়ে দিতাম কারণ পাশে বাড়ির লোকজন থাকতো এবং লজ্জা পেতাম পাছে আবার বিব্রত না হতে হয়। কিছুদিন আগে দূর সম্পর্কের এক দাদু আমাকে তার মোবাইলটাতে কিছু সেটিংস ঠিক করে দিতে বললেন। বয়স উনার প্রায় ৫০ এর উপর হবে । আমি সেটিংস ঠিক করতে গিয়ে উনার ফোল্ডারে রাখা কিছু ভিডিও চোখে পড়লো আমি বেশ বিব্রত হলাম। দাদুকে ঠাট্টা করে বললাম কি দাদু এখন এসবও দেখো ..? দাদু বললেন কি যে বলিস যুগ পাল্টাইছে না । দোকানে গান লোড দিতে গেলেই দোকানদার ঐগুলো দিয়ে দেয়।

প্রসঙ্গগুলো টেনে আনলাম আসলে সমাজ কাঠামোতে কি ধরনের পরিবর্তন আসছে তা লক্ষ্য করার জন্য। দিন দিন সবাই নিজেকে অনেক ব্যস্ত দাবি করে। সেদিন এক জনকে বললাম সময় আছে কিনা বললো যে অনেক ব্যস্ততা কিন্তু কিসের ব্যস্ততা তা বলতে পারলেন না।

যাই হোক, এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। আসলে সময় সাথে সময় বেড়েছে। মানুষের কাজের গতি, চিন্তাচেতনাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যে মানুষটি হয়তো কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে গল্প করতো তা হয়তো মোবাইল চ্যাট বা ভিডিও কলে সারে। আগে কেউ যাদি ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করতেন তখন সাথে সাথে বাবা –মায়ের কুশলও জিজ্ঞাসা করতেন। হ্যা এখনও এর চল আছে বৈকি, তবে তা খুবই সামান্য। বর্তমানে বেশিরভাগ মজাই হয় একটু শরীর পর্যায়ে । হঠাৎ কেউ যদি এর মধ্যে চলে আসে এবং না বুঝতে পারে তখন তাকে নিয়েই শুরু হয় আরেক প্রস্থ যা অবশ্য এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

মোবাইল বা ইন্টারনেট এগুলো খুবই কাজের জিনিস আবার তা অকাজেরও। এটা অবশ্যই তার ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। যে মানুষটি নীতিনৈতিকতাই বোঝেন না তাকে তো বুঝিয়ে লাভ নেই যে আসলে এসব ব্যবহারে কিভাবে নীতিনৈতিকতা রক্ষা হবে!

আসলে সময় আপনাকে বদলাবে কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে আপনাকে ঠিক কিভাবে মানিয়ে নিতে হবে সেটা বোঝা জরুরি। আবদ্ধ ঘরে যে কোন আলোই ঊজ্জল হয়ে উঠে কিন্তু আপনাকে সেটা ঠিক করতে হবে যে আপনি কিভাবে আপনি কাজে লাগাবেন। অনেকে বলেন, মানুষ নাকি অনেক হতাশ তাই এরকম বাজে কাজে লিপ্ত হচ্ছে। কথা আসলে সত্য তবে সেটাকে মানদণ্ড ভেবে আবার নিছক একটা ফ্রেমে সবকিছুকে বিচার করতে হবে তার কোন মানে নেই। সিদ্ধান্ত অবশ্যই ব্যক্তিকে নিতে হবে যে কিভাবে তিনি তার সময়কে কাজে লাগাবেন। অথবা কি ধরনের চিন্তা করবেন।

তবে প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো যে জীবনাচরণের ছকে আমরা এই সময়ের মধ্যে আবদ্ধ হচ্ছি তাতে করে মন না চাইলেও জোর করে অনেক কিছুই করতে হচ্ছে। বর্তমানে আমরা যৌনতাকে বারবার অন্যভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি। যেহেতেু এটা একটি জৈবিক ব্যাপার, সে কারনে এটির আবেদন চিরন্তন। খুব স্বাভাবিক ভাবে চিন্তা করলেও আমরা এটাকে বাদ দিতে পারি না। তবে সেই বিষয়টি ইদানিং এতো সামনে চলে আসলো কিভাবে তা বোঝাটা আসলে জরুরি।
(চলবে)