ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

দুর্বলতা আর সবলতার সাথে কি নীতি-নৈতিকতার সম্পর্ক আছে? মানুষ কি তার ভাবনার জায়গায় স্বাধীন? মানুষের আসলে কাজ কি? তাকে সমাজ কিংবা সভ্যতার উপকারের জন্য ইচ্ছেকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে কাজ করতে হয়, ইচ্ছেকৃত কাজকে আবার ঠিক এভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যেমনঃ একজন খুব ভালো মানুষ, যে মানুষকে নীতি কিংবা নৈতিকতার শিক্ষা দেন কিংবা অন্যের উপকার করার ভাবনার রসদ দেন। আর অনিচ্ছাকৃতভাবে উপকার বলতে এভাবে বলা যায়-‘একজন সুদখোর ইহুদীর হাত ধরে কিন্তু ব্যাংক ভাবনা এসেছে, যা আজকের উন্নয়ন কিংবা অর্থনৈতিক ভাবনার পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।’ সুতরাং সে ইহুদী কিংবা সেই মহামানব দুজনেই মানন্সভ্যতার জন্য জরুরী।

আরো সহজভাবে বললে-মানুষ প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদে শুধু বাড়তি ‘উপযোগ’ ছাড়া আর কিছুই যুক্ত করতে পারেনি। অর্থাত সম্পদ কিংবা সম্পত্তি সৃষ্টির আদিতে যা ছিলো তাই আছে, মানুষ শুধু তার সাময়িক ‘প্রফিট ম্যাক্সিমাইজেশন’ করার জন্য প্রযুক্তি কিংবা নৈর্ব্যক্তিকভাবে সম্পদের উতস সন্ধান করছে, আর এই উতস সন্ধানীরাই হলো-সভ্যতার শেরপা। হয়তো স্বাভাবিক-নৈতিক মানুষের মানদন্ডে তারা সৎ মানুষ হবেনা কিন্তু তারা যে যোগ্য মানুষ এতে কোনো সন্দেহ নাই। ব্যাপারটা আরো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যায় কিনা? পৃথিবীর এক অঞ্চলের মানুষ যখন সভ্য হলো সে তখন যাত্রা করলো-নৌকা কিংবা অন্য কোনোভাবে অপেক্ষাকৃত অনুন্নত কিংবা কম সভ্য অঞ্চলে। সে নতুন জায়গা দখল করলো সাহস-শক্তি এবং সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে। এবং সেখানকার জ্ঞান-বিজ্ঞান সভ্যতাকে এগিয়ে দিলো হাজার কিংবা শত বছর। তার মানে মানুষের ব্যক্তিগত সাহস-প্রজ্ঞা-মেধা তার সিদ্ধান্তগ্রহন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। সে আপাতঃদৃষ্টিতে লোভী মন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেও সে সফল হয়, কারন তার মাথায় নতুন রাজ্য-সভ্যতা-নতুন মানুষরুপী প্রজা সৃষ্টির কর্ম-কুশলতা আছে। আছে যাদের কর্ম-কুশলতা আছে তারাই নতুন পথ কিংবা নতুন পথে যাত্রা করেন। আমি আসলে আমার এই সব কথাগুলো ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্বের যথার্ততা যাচাই করছিনা; আসলে জীবঙ্কে দেখার চেষ্টা করছি অন্য আলোয়। আছাড় দিতে চাচ্ছি-মধ্যবিত্তের সফেদ এবং একটু গরল সার ঢালার চেষ্টা করছি-আপাতঃ নীরিহ ভাবনার গোড়ায়।

সেই আদিম সাম্যবাদি সমাজের মানুষ যদি সুশীল হয়ে যেতো, যদি সে তার ব্যক্তিগত জীবনের লাভালাভ কিংবা অন্য কোনো সমাজতাত্ত্বিক কারনে ‘আদি সাম্যবাদি’ সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য সংগ্রাম করতো তাহলে আর যাই হোক হয়তো আজকের আপাতঃ আধুনিক সমাজের দেখা আমাদের মিলতো কিনা তা নিয়ে আমার ভয়ংকর আপত্তি আছে আর বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই জানেন যে, এই সাধারন মানুষের ভাবনার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে কিন্তু কিছু অসাধারান মানুষ ‘দাসপ্রথা’ নামক ভয়ঙ্কর পথে অগ্রসর হয়েছে। সে তার ‘মুনাফার সর্বোচ্চকরনের’ জন্যই কিন্তু মানুষকে ‘দাস’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই ব্যবহার বর্বরতা কিংবা মানবতা বিরোধী কিনা তা আমার আজকের এই লেখার ভাববিন্দু না কিংবা আমার ভাবনার বিষয়ও কিন্তু না। কারন মানুষ সৃষ্টির আদিতে প্রথম প্রভাব বিস্তার করেছে প্রকৃতিতে, তারপরেই সে যাত্রা শুরু করেছে স্বগোত্রীয়দের পদানত করার কাজে। কারন সে ততদিনে বুঝে গেছে যে, প্রকৃতি কিংবা জীব বা জড়জগত থেকেও তাকে প্রতি মুহুর্তে প্রতিদ্বন্দিতায় পড়তে হবে, তার পাশের গোত্রের দলপতির সাথে। আর প্রকৃতি সামষ্টিকভাবেই মানুষের পদানত হয়ে গেছে আগেই। তার মানে দাঁড়ালো মানুষের প্রথম আর প্রধান যোগ্যতা হলো তার সাহস। আর এই সাহসের সাহায্যে সে পাড়ী দিলো সাগর-মহা সাগর কিংবা আক্রমন করলো শক্তিশালী নেকড়ে কিংবা মাংশ খেকো বাঘকে। নিজে মরেছে আবার মেরেছে-প্রতিহত করেছে আবার আক্রমনে গেছে, এ যে প্রক্রিয়া তাই মানুষকে আরো সহজভাবে বললে সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রেখেছে-পুষ্ট করেছে-অগ্রসর করেছে। নিয়ে এসেছে আজকের অবস্থানে। আমি কিন্তু আমাদের ‘মধ্যবিত্ত’ ভাবনায় আঘাত করার চিন্তা করছি, এই আঘাত কিন্তু প্রতিদিন-প্রতি মুহুর্তে সাহসী কিংবা সমাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে উতসুক মানুষ করেন-করছেন।