ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

ব্রিটিশ আমলেই ভাটি অঞ্চলের মোহনগঞ্জে রেলপথ চালুর পর ঢাকা-ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ সরাসরি প্রথম শ্রেণীর ট্রেন সার্ভিস ছিলো। কিন্ত বর্তমানে লোকাল ট্রেন চালু থাকল্ওে নেই কোন আন্ত:নগর ট্রেন। আন্ত:নগর ট্রেন সার্ভিস অত্র এলাকার দীর্ঘদিনের দাবী।

ভাটি এলাকার স্বর্ণ দুয়ার বলে খ্যাত -মোহনগঞ্জসহ সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার লাখ লাখ মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দূর্ভোগের শিকার। প্রতিদিন প্রায় পনের হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করে। মাত্র দুই হাজার মানুষের জন্য রয়েছে রেল সুবিধা । বাকীরা বেশীরভাগই ব্যয়বহুল ও ঝুকিপূর্ণ সড়কপথে চলাচল করে। শুধু যাতায়াত নয় পণ্য পরিবহনে রেল সার্ভিস এই অঞ্চলের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম । কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে আজ এই রেলসার্ভিস সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত। রেলের জন্য লাভজনক হলেও ভেঙ্গে পড়েছে মোহনগঞ্জ লাইনের সার্বিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ ট্রেন পৃথিবীর সবচেয়ে স্বল্প গতির (ঘন্টায় ১৫ কিলোমিটার) ট্রেন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মাঝে মাঝে দূর্ঘটনার ফলে অচল হয়ে পড়ে এই রেলপথ। সচেতন মহলের ধারণা রেলব্যবস্থার পর্যাপ্ত উন্নয়ন হলে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে তেমনি এলাকার সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ লাঘব হবে।

ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটের রেলের সার্বিক উন্নয়নসহ আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস শুধু প্রাণের দাবী নয় একান্ত প্রয়োজন। রেলমন্ত্রী খুব শীঘ্রই রেলের সার্বিক উন্নয়ন সহ আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করবেন এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। উল্লেখ্য, রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নিজ জেলা সুনামগঞ্জ এর মানুষ ময়মনসিংহ-নেত্রকোণার সাথে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করতে মোহনগঞ্জের রেলগাড়ীতেই চলাচল করেন। যুগযুগের এ্ই ট্রাডিশানের নেপথ্যে রয়েছে হয়রানী আর দূর্ভোগের চালচিত্র। যে গল্পের শেষ নেই। সরকার রেল মন্ত্রনালয় গঠনের পরেই এর গুরুভার দিয়েছেন সুনামগঞ্জের ব্যক্তিত্ব সুরঞ্জিত সেন গুপ্তকে যার সুনাম সুবিদিত। রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই তিনি চমক সৃষ্টি করেছেন সিলেট ট্রেনে ভ্রমণ করে।

মাননীয় রেলমন্ত্রী একবার ভাবতে পারেন কি, মোহনগঞ্জ লাইনে তার রেলভ্রমণের কথা। বাস্তবতা এটাই যে মন্ত্রী চাইলেও তার মন্ত্রণালয়, রেল বিভাগ এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবে না। তাহলে মোহনগঞ্জ লাইনের ভবিষ্যত কি? নতুন রেলমন্ত্রনালয় এবং নিজেদের আপনলোক রেলমন্ত্রী হওয়ায় এমুহূর্তে অন্ধকারে আশার আলো দেখছেন মোহনগঞ্জ লাইনের যাত্রী সাধারণ। তাই সময়ের দাবি নিয়ে তারা মোহনগঞ্জ থেকে নেত্রকোণা, নেত্রকোণা থেকে ময়মনসিংহ এমনকি রাজধানীর বুকেও রাজপথের পাশে একবুক আশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন। বুকে ঝুলানো প্লেকার্ড, সারিসারি হাতে ছোঁয়া ব্যানার এর ভাষায় তারা প্রকাশ করছেন প্রাণের আকুতি। কিন্তু মোহগঞ্জ রেল লাইনের ভাগ্যেন্নোয়ন হবে কি না তা কেবল সময়ই বলতে পারে।

মোহনগঞ্জের মাছ ময়মনসিংহ ও রাজধানীর বাজারে হাই ডিমান্ড। কিন্তু পণ্য পরিবহণে মৎস্যজীবিদের ভোগান্তির শেষ নেই। যেমন শেষ নেই মোহনগঞ্জ ট্রেনের কিংবদন্তির। স্বাধীনতার পর ৯টার ট্রেন কয়টায় ছাড়ে এই প্রবাদপ্রশ্ন উঠে এসেছিলো মোহনগঞ্জের রেল লাইন থেকে। ধীরগতির ট্রেন যত্র-তত্র থেমে স্থাপন করেছিলো সুবিধানগর স্টেশন। এখন এ পথের রেলযাত্রীদের সুবিধা বলে আজ আর কিছুই নেই।দেশের মধ্য উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের প্রান্তিক রেলস্টেশন মোহনগঞ্জ। দি লাস্ট স্টেশন। যে গল্পের শেষ নেই।