ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

কান নিয়েছে চিলে। এখনও দেশ চিলের পিছে ছুটছে। চারিদিকে কেবল উন্নয়নের রাজনীতি। গেল বছর বাংগালী জাতির দীর্ঘশ্বাস। চাল-ডাল, যাতায়াত, বিদ্যুত, বাসাভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বেড়েছে। তবুও কমছে না বিউটি পারলার, নাইটক্লাব, দামী মদ, ইয়াবা, বিদেশী গাড়ীর আমদানি। পক্ষান্তরে বেড়েছে সরকারী-বেসরকারী কর্মচারীদের বেতন ভাতা। কিন্তু শ্রমজীবি মানুষেরা? তাদের বেতন নেই, ভাতা নেই। দ্ররিদ্রতার সাথে লড়াই করে করে সাধারণ মানুষরা অসাধারণ ভিক্ষুকে পরিণত হচ্ছে। ভাতে মরছে, শীতে মরছে, ঋণে মরছে। যেনো শেয়াল-শকুনের জীবন। প্রতিক্রিয়াশীলতা আর কর্পোরেট ব্র্যান্ডিং এর যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প, গ্রামীণ অর্থনীতি। বক্তব্যবাজদের বক্তব্যে-উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসলেও এদেশের সাধারণ মানুষ ভাসছে দারিদ্রতা আর অভাবের জোয়ারে।

গারো পাহাড়ের পাদদেশে সীমান্ত এলাকা লেংগুরার সাধারণ মানুষ রহিমা। রোদে পোড়া, জলে ভেজা শ্বাশতকালের বঞ্চিত মুখ। ছেঁড়া শাড়ীর ফাঁকে বেরিয়ে আছে শরীরের অনেকাংশ। জীবন ও জীবিকা বলতে গনেশ্বরীর বালুতট। সোমেশ্বরী নদীর সহোদরগনেশ্বরী এখানকার মানুষদের অন্নদাতা, দেবতা। সকাল থেকে রাত অবধি গণেশ্বরীর বুক খুঁড়ে খুঁড়ে বের করেন পাথরের টুকরো (গোল্ডেন স্টোন)। সারাদিনে দশ/ বারো টিন। টিন প্রতি পনের/বিশ টাকা। এভাবেই আয় হয় দেড়শো থেকে দুশো টাকা। ময়নাকে নিয়ে বিধবা হয়েছেন ১২ বছর আগে । তারপর থেকে গনেশ্বরীই তার জীবনের সাথী। পাথর টেনে টেনে বড় করে তুলেছেন ময়নাকে। ময়নার বিয়ে হয়েছিলো ৫বছর আগে। দুটি সন্তান রেখে পালিয়ে তার স্বামী অন্য মেয়ের হাত ধরে। দিনবদলের স্বপ্নের কথা বলতেই টলমলে চোখে মুখ তুলে তাকালেন রহিমা। তারপর এক বিরাট দীর্ঘশ্বাস। ময়না তাড়া দিয়ে ওঠে, হাত চালাও মা, বেলা যে ডুবে এলো।