ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

শিশু সামিউল ইসলাম রাজন হত্যার রেশ এখনো কাটেনি, তাকে চুরির অপবাদে (কিংবা পরে জানা গেছে বিকৃত লালসার শিকার) লোহা দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করলো কয়েকজন নরপিশাচ, ময়নাতদন্তে ছোট্ট দুর্বল দেহে পাওয়া গেলো ৬৪ টি আঘাতের চিহ্ন এবং হৃৎপিন্ডে আঘাতে কয়েক পাউন্ড রক্ত জমে তার তাৎক্ষনিক মৃত্যু হয়| বিষাক্ত কোনো সর্পের বিষের চেয়ে এটাই বা যন্ত্রণাকাতর কম কিসের ! এরপর আমরা রাকিব হত্যার বর্বরতার কথা জানতে পারলাম |এর আগে যদিও আরো কয়েকটি শিশু হত্যার ঘটনা আমরা জানি| কিন্তু রাকিব হত্যার পদ্ধতিটা আরও ভয়ংকর আরও বিভৎস | কয়েকজন মিলে মোটর পাম্প কম্প্রেসারের নল পায়ুপথে ঢুকিয়ে পেটের ভেতর বাতাস দেয়া হয় | বাতাসে পেট ফুলে নাড়ি-ভুড়ী এমনকি কলিজা,ফুসফুস ছিড়ে-ফেঁটে রাকিবের মৃত্যু হয় | তার অপরাধ ছিলো সে সেই গ্যারেজ ছেড়ে অন্য গ্যারেজে কাজ করার, কিন্তু এটা কে অপরাধ বলবো নাকি ব্যক্তি স্বাধী্নতার চরম অবমাননা, এখানে আমার পোষে না, এই রিযিকে আমার চলে না অন্য কোথাও মুভ করা মানুষের জন্মগত নৈতিক অধিকার|তুমি আমাকে বাঁধা দেওয়ার কে? তুমি যে হাতে বাঁধা দিচ্ছো ঠিক সে হাত তো আমারও আছে, কোনোটা বৈকি ভিন্ন নয় সব মাটিরই তৈরী |আমি দুর্বল তাই বলে অন্যায় ভাবে বল প্রয়োগ করতে পারো না, এই অধিকার স্বয়ং সৃষ্টকর্তা তোমাকে দেইনি, আর যদি করো তাহলে তুমি চরম অন্যায় করেছো , তুমি অপরাধী |

যখন থেকে তুমি, আমি এসব নৈতিক অধিকারে হস্তক্ষেপে অভ্যস্ত হয়ে গেছি তখন থেকেই বিবেক ভোঁতা হতে শুরু করছে|মানুষের শরীর থেকে কোনো অঙ্গ যদি হানি হয়, তবে সে শারীরিক ভাবে কিছুটা অক্ষম হয়, আর যদি মগজ হতে বিবেক স্থলিত হয়, মানুষ কোনো প্রকার অক্ষম থাকে না, সে ভয়ংকর ঘোরের মধ্যে থাকে তার দ্বারা নির্মম নারকীয় ঘটনা ঘটতে থাকে | আর তাই যদি না হবে তবে যখন কম্প্রেসারের হাওয়ায় রাকিবের নাড়ি-ভুঁড়ি , ফুসফুস ছিড়ে-ফেঁটে যাচ্ছিলো, রাকিবের আর্তচিৎকারে যখন চারিদিক প্রকম্পিত হচ্ছিল, তখন তাদের বিবেক নিশ্চয়ই ইস্পাতের মতো কালো বধির হয়ে গেছিলো, ঠুলি পরা চোখে ছিলো হয়তো আদিম প্রতিশোধের প্রচ্ছায়া এবং মুখের অবয়বের ভাঁজে ছিল নিষ্ঠুর প্রমোদের কাঠিন্য রেখা |

প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে ৮০খ্রিঃ অব্দে রোমান সাম্রাজে অমানবিকতার এক নিষ্ঠুর হত্যাযঞের নীলা অনুষ্ঠিত হতো অ্যাম্ফিথিয়েটারে, এখানে মানুষ আর হিংস্র পশুর মধ্যে নিষ্ঠুর লড়াই হতো, কিংবা গ্ল্যাডিয়েটরের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো, এটা ছিলো জীবন আর মরণের লড়াই | সম্রাট গ্যালিয়ানুস বেশির ভাগ লড়াইরের ক্ষেত্রে দাগী আসামিদের ব্যবহার করতো |এখানে যে জয়ী হতো তাকে মুক্ত কিংবা পুরষ্কিত করতো, আর যাদের মাথা ভূ-পাতিত হতো তাদের ব্যাপারে দর্শকেরা সম্রাটের ভয়ে ঊল্লাস করত|নিষ্ঠুর এ কালোর্ত্তীণ নির্মমতার প্রতীক কলোসিয়াম এখনো দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নাংশ ইতিহাস হয়ে আমাদের সভ্যতার দোরঘোরায় | এছাড়াও অ্যাইয়্যামে জাহিলিয়াতের বর্বরতার কথাও তো জানি |এগুলো সবই কালের গর্ভে ইতিহাস হয়ে ঠাঁই হয়ে আছে, ইতিহাসের জন্মই হয় ভবিৎব্য মানুষের শিক্ষার জন্য |

আমরা এখন সভ্যতার চরম-চূড়ায় বাস করছি | মূহূর্তের মধ্যেই যে কোনো প্রান্তের খবারাখবর আমরা অবলোকন করতে পারি | কিন্তু আমরা কতটা মানুষ হতে পেরেছি ? আমাদের চোখে অশ্রু নেই কেন? চোখ কি অর্গানিক কোনো দর্পণ হয়ে গেছে? এমন ব্যথিত শোকে হৃদয়টা কেনো মোচড়ে ওঠেনা !বুকের ভেতরটা কি জমে পাথর হয়ে গেছে ? আর কতটা বর্বরতা হলে আমাদের কর্ণকূহরে পৌঁছবে মানবিকতার আর্তি | আর কত নির্মম,পৈচাশিক ঘটনার পর আমাদের অর্গানিক চোখে জল আসবে? কেন প্রতিবাদ বিমুখ আমাদের শীতল বিবেক ?সৃষ্টিকর্তার পর জননীর কলিজা ভেদ করে যে শিশু পৃথিবীতে আসে তাকে কেনো আমরা লোমহষর্ক বিকৃত নীলায় আবার ফেরত পাঠাচ্ছি| আমরা যদি আমাদের কৃপা না করি তাহলে মহান আল্লাহ তা’য়ালার কৃপা কিভাবে আশা করবো !