ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমরা অনেক দিন আগে থেকেই জানি, মুহম্মদ জাফর ইকবাল জঙ্গি অর্থাৎ ইসলামী চরমপন্থীদের হিট লিস্টের প্রথম সারিতে। তাঁর নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু যে কয়জন পুলিশের সদস্য নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত ছিল- তারা কি আদৌ জাফর ইকবালের মতো একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা দেওয়ার মতো চৌকস ছিল? তারা কি আসলেই তাদের ডিউটি নিয়ে সজাগ ছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমরা জানি। আর সেটা হলো ‘না’। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবি দেখলেই বুঝতে পারবেন।

যে ছেলেটি হামলা করেছে সে জাফর ইকবালের পেছনেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিল অনেক্ষণ এবং সেখান থেকেই হামলা চালিয়েছে। তো প্রশ্ন হলো ভার্সিটির একটি অনুষ্ঠানে বাহিরের কোন লোক মঞ্চে উঠে কীভাবে? আয়োজকরা কী স্যারের নিরাপত্তার বিষয়টা ভুলে গিয়েছিলেন? নাকি এখানেও ঘাপলা আছে?

আসলে আজকের বাংলাদেশে আমরা নৈতিকতা বর্জিত মানুষ। আমরা দায়সারা। হোক কর্তা ব্যক্তি আর হোক সাধারণ জনগণ। আমরা গা বাঁচিয়ে চলি। আমরা শুধু নিজের নাম জপছি। আমরা ভুলে যাই আমাদের দায়িত্ব। ঘুষ, দূর্নীতি আর উগ্রতা আমাদের মনে আসন পেতে আছে। আমরা অল্পতেই কাত্ হয়ে যাই মানে ভুলে যাই মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল একটি নাম! একজন মানুষ- যে এই পঁচা সময়েও মানুষকে জাগাতে কলম ধরেন- কথা বলেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। সবচেয়ে বড় কথা তিনি এখনও এই বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখান। তিনি দেশদ্রোহী রাজাকারদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এটাই তাঁর অপরাধ। আর কিছু না। জাফর ইকবাল তো কোনদিন ইসলাম কেন- কোন ধর্মকেই আক্রমণ করেননি! তবু্ও তিনি  ‘শত্রু’! জাফর ইকবাল কাদের শত্রু আমরা জানি। তিনি অন্যায়কারীর শত্রু। তিনি রাজাকার ও তাদের পতাকাবাহী চরমপন্থীদের শত্রু।

জাফর ইকবাল স্যার হলেন স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি হলেন এই ঘুণেধরা সমাজে চন্দন কাঠের মতো। তিনি মঙ্গলের সুবাস ছড়ান। তাঁকে কীটতুল্য মানুষের ভাল লাগবে কেন!

ব্লগাররা না হয় কিছুই না। এদের কোপে কোপে মারা যায়। ব্লগার হত্যার কোন বিচার নাই এই বাংলাদেশে। এদের হত্যাকারীদের ধরা দরকার নাই! তারা দেশ ছেড়ে চলে যাক! দেশের কিছুই হবে না! কিন্তু জেনে রাখবেন এই জাফর ইকবালের মতো মানুষ না থাকলে দেশে একটা বিষাক্ত প্রজন্ম জন্ম নিবে। আর এ দেশকে বিষে বিষে নীল করবে।

স্যারের উপর হামলা কোন বিছিন্ন বা ব্যক্তি প্রচেষ্টায় হামলা নয়। এটা সুপরিকল্পিত এবং শক্ত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংঘটিত। এই নেটওয়ার্কের মূল উৎপাটন করা হোক। আমরা জানি সরকার- প্রশাসন এই ব্যপারে আন্তরিক থাকলে এই নেটওয়ার্ক ভাঙ্গা সম্ভব। দেশের ভবিষ্যৎ-এর কথা বিবেচনা করেই এই কাজটা করতে হবে।

 

আমরা মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারীদের বিচার চাই।