ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক মনে করেন, ‘সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যায় এমন কিছু ব্যক্তি জড়িত যাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের কাছে ছিল। যা ফাঁস হলে ওই ব্যক্তিদের ক্ষতি হতে পারতো।’

তিনি বলেন, যতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই সাংবাদিক দম্পতি তেল ও গ্যাস চুক্তি নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন। ওই রিপোর্টের তথ্য উপাত্ত ধ্বংস করার জন্যই সাগর-রুনিকে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি রোববার দুপুরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে ১৮ দলের শরীক দলের কক্সবাজারস্থ নেতাদের সাথে মতবিনিময় ও মধ্যাহ্ন ভোজের অনুষ্টানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘বিএনপি নেতা ইলিয়াছ আলী সিলেটে ভারতীয় তৎপরতার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। কেউ কেউ বলছেন, ওই আন্দোলন গড়ে তোলা থেকে বিরত করতেই ইলিয়াছ আলীকে গুম করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মন বলছে, তিনি বেঁচে আছেন, কিন্তু যুক্তিতে মিলাতে পারছি না।’

সামরিক কর্মকর্তার জীবন শেষে রাজনীতিতে আসা এই নেতা বলেন, ‘দেশে অনেক গুলো গুমের ঘটনা হয়েছে, তা কেবল বিরোধী দলকে দমন করার জন্য। জামায়াতের বিরুদ্ধে চাপ আছে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মাধ্যমে।’

তবে তিনি মন্তব্য করেন, ‘একজন মা যেমন বাচ্চা প্রসব করার আগে যন্ত্রণা ভোগ করেন, বর্তমানে দেশেরও তেমন অবস্থা চলছে। যন্ত্রণার পর যে নতুন বাচ্চার জন্ম হবে শিশুটি ভালো হবে বলেই বিশ্বাস।’
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল ইব্রাহিম।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য ফুরকান ইব্রাহিম (সৈয়দ ইব্রাহিমের স্ত্রী), কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. সলিম উল্লাহ বাহাদুর, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের সভাপতি নুরুল আলম আল মামুন, এলডিপির সভাপতি সালামত উল্লাহ খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জি এম রহিম উল্লাহ, এলডিপির জেলা সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, জেলা কল্যাণ পার্টির সভাপতি এম. ইসমাইল ফারুক, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ উল্লাহ চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু সিদ্দিক ওসমানী, শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তাহের, জেলা ছাত্রদল সভাপতি সৈয়দ আহমদ উজ্জল প্রমূখ।

কল্যাণ পার্টির জেলা সভাপতি এম. ইসমাইল ফারুক জানান, কক্সবাজারে বন্যাদূর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম কক্সবাজার এসেছিলেন। এই সময়ে সরকার বিরোধি নতুন জোট ১৮ দলের কক্সবাজার জেলার নেতাদের সাথে সৌজন্য বিনিময়ের জন্য মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল।