ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

nawsad

জমজ কলা ভক্ষণে জমজ সন্তান হয়ঃ
সাধারণতঃ দেখা যায়, প্রচলিত উক্তিটির প্রতি অতি বিশ্বাসী কতেক লোক হালাল অর্থ দিয়ে ক্রয়কৃত কলা হতে জমজ কলা গুলো নিজেও খায়না, অপরকেও খেতে দেয়না। কোন কোন ক্ষেত্রে বৃদ্ধমহিলা, যাদের সন্তান প্রসবের যোগ্যতা নেই, তাদেরকে খেতে দেওয়া হয় বা না খেয়ে ফেলে দেয়া হয়। অন্যদিকে এই প্রচলিত কথার কারণে শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে কলা বিক্রেতা জমজ কলা সহ কলার ছড়া কিনে আনে। আর খুচরা বিক্রি করতে গিয়ে তাকে এ কলাগুলো বাদ দিয়ে বিক্রি করতে হয়। এতে কলা বিক্রেতা সহজেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অথচ বহুল প্রচলিত এ কথাটি বিজ্ঞান বা সামাজিক ক্ষেত্রে তো কোন ভিত্তি নেই শান্তির ধর্ম ইসলামেও এই কুসংস্কারের কোন স্থান নেই। অপরদিকে এই কুসংস্কারে নিমজ্জিত হয়ে মানুষ জমজ কলা না খেয়ে ফেলে দিয়ে অপচয় করছে। অন্যদিকে বিক্রেতাও ক্ষতিগ্রস্থ হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে বলা যায় যে, “অপচয়কারী শয়তানের ভাই”

ডিম খেয়ে পরীক্ষায় গেলে গোল্লা পাওয়া যায় বা অমঙ্গল হয়ঃ

মানুষ যদিও কুসংস্কারে নিমজ্জিত হয় ধর্মের অপব্যাখ্যার কারনে। সমাজে প্রচলিত এই কুসংস্কার “ডিম খেয়ে পরীক্ষায় গেলে গোল্লা পাওয়া যায় বা অমঙ্গল হয়” এরুপ কুসংস্কারের ধর্মীয় দিক থেকে কোন ভিত্তি নেয়।
আসলে দেখতে গেলে ডিম একটি পুষ্টিকর ও হালাল খাদ্য। এতে পরীক্ষায় বা অন্য কোন কাজে অমঙ্গল হওয়ার কথা শরীয়ত সমর্থন করে না। অতএব, এটি কুসংস্কার মাত্র। হ্যা কারো জন্য শারিরীক ভাবে প্রযোজ্য না হলে অন্য কথা।

চালনী হতে খেলে বিয়ে ঘুরেঃ
অনেক সময় দেখা যায়, কারো জন্য বধু নির্ধারণে বিলম্ব হলে ছেলেকে এ বলে দোষারোপ করা হয় “মনে হয় চালনী হতে কিছু খেয়েছে, না হয় তোমার বিয়ে ঠিক হচ্ছে না কেন”। আবার অনেকে সন্তানদেরকে চালনী হতে কিছু খেতে দেখলে বলে “ওখান থেকে কিছু খেওনা বিয়ে ঘুরবে”। আসলে চালনী হতে কিছু খেলে বা আহার করলে বিয়ে ঘুরার বা বিলম্ব হওয়ার কোন কারণ হতে পারে না। শান্তির ধর্ম ইসলামে উক্তিটির কোন যুক্তি বা দলিল নেই। তবে হ্যা যত্রতত্র হতে আহার না করে নিয়ম মত আহার করা ভাল।

রবিবার বাঁশ কাটলে বাঁশঝাড় উজাড় হয়ে যায়ঃ
এ ধরণের একটি গুজব বিভিন্ন গ্রামে পরিলক্ষিত হয়। ফলে রোববার কোন মৃত মানুষকে দাফন করতে হলে অনেকে বাশ দিতে চায় না। বাশঝাড় উজাড় হয়ে যাওযার ভয়ে। এমণ ধ্যাণ- ধারণা সত্যিই মুসলিম সমাজে কলঙ্কজনক। কেননা আল্লাহতায়ালা সকল উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছেন মানুষেরই কল্যানার্থে। কুরআনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর সব কিছু তোমাদেরই কল্যাণার্থে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতেও এ ধরণের কোন উদ্ভট বিধান আছে বলে আমাদের মনে হয় না।

বুধবার গোলা হতে ধান বের করা ঠিক নয়ঃ
আমাদের গ্রাম বাংলা সমাজে এই কুসংস্কারের প্রভাব অনেক। গোলা হতে বুধবার ধান নামানো উচিত নয় বলে মনে করে থাকে অনেকে। বিক্রি করার জন্য বা ধান ঘষানোর জন্য প্রয়োজনে আগের দিন গোলা হতে ধান নিয়ে রেখে দেয়। একেবারে না থাকলে, কারো থেকে নিয়ে ঐদিন খোরাকী চালায়। তারপরও গোলা হতে ধান বের করেনা বুধবার দিন। আসলে এগুলো সম্পুর্ন অযৌক্তিক ও কুসংস্কার মাত্র যার ধর্মীয় দিক থেকে বিন্দুমাত্র ভিত্তি নাই।

বাম চোখ কাঁপলে মুছিবত আসেঃ
আসলে বাম চোখ কেঁপে উঠা দুর্বলতা বা অন্য কোন রোগের উপসর্গ হতে পারে যা হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রামান্য। কিন্তু আমাদের মাঝে প্রচলিত যে বাম চোখ কাঁপলে নাকি মুছিবত আসে যেটার কোন দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত নয়। রোগ জাতীয় কোন মুছিবত ধরা যেতে পারে। তবে প্রাকৃতিক কোন মুছিবত আসার ধারণা অমূলক ও ভিত্তিহীন।

হাতের পাতা চুলকালে টাকা আসেঃ
আরো একটি ভিত্তিহিন বিশ্বাস আমাদের প্রচলিত যে “হাতের পাতা চুলকালে টাকা আসে” যেটিও এক ধরণের অর্থহীন প্রবাদ মাত্র। যা দুই চার জন বসে ফালতু আড্ডা বাজী করার সময় এগুলো বলা হয়। ধর্ম বা জ্ঞান-বিজ্ঞানে এর কোন ভিত্তি নেই। তবে এভাবে হলে, যার হাতে পাতায় খস পাচড়া হয়ে ঘন ঘন চুলকাতে থাকে, চুলকানির কারণে তার নিকট টাকার পাহাড় হয়ে যাবে। (নাউজুবিল্লাহ)

—< ঠিক এভাবে আমাদের সমাজে গ্রাম গঞ্জে অনেক কুসংস্কারে প্রভাব বিস্তার করেছে বেশি করে আমাদের গ্রামের মা-বোনদের মাঝে । আর আমাদের সমাজের মানুষ অনেকটা এইসব বিশ্বাস করে ধর্মের দিক দিয়ে, যেটা ধর্মকে কলুষিত করা ছাড়া আর কিছই নয়। কারন ধর্ম আমরা বিশ্বাস করি মঙ্গল এর কারনে কিন্তু যে বিশ্বাসে শুদু অমঙ্গল নিহিত সেটা ধর্মের অংশ হতে পারে না। আমাদের পবিত্র গ্রন্থ কুরআন কিংবা দয়াল নবীজির কোন বাণী দ্বারা এসব সত্য সাবস্থ্য নয়। তাই সমাজে বিস্তার করা এসব কুসংস্কার দুরীভুত করতে সচেতনার প্রসার অতীব জরুরী।