ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 
mohorrom

→ আসলে কি এই মাসে মাছ ও শাক খাওয়া যায় না? সেমাই খাইলে কি অপরাধী হয়ে যাবো?)…..
→ এই মাসে কি বিয়ে শাদী করা যাবে না?

ইসলামিক নববর্ষ মহররম এর আগমন হয়েছে আজ। আমাদের সমাজে মহররম মাস আসলে বিভিন্ন কুসংস্কার চোখে পড়ে যেটার সাথে ইসলামিক শরিয়তের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নয়। যেমন আমাদের বিভিন্ন শহরে প্রায় দেখা যায় যে, মহররম আসলে একটি অংশ মাছ আর শাক খাওয়া বন্ধ করে দেয়। অথচ এর কারন কি, কেন খাচ্ছে না প্রশ্ন করলে কোন সদুত্তর তো পাওয়া যায় না হ্যা একটা কথা অবশ্যই শুনা যায় যে বাপ দাদা খায় নি তাই আমরাও খায়না।
এটা নিগাঢ় একটি কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নয়। কারন ইসলামি শরিয়তে কোথায় লেখা নাই যে মাছ বা শাক কোন বিশেষ মাসে খাওয়া হারাম। যখন আল্লাহ ও রাসুল এবং পরবর্তী সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে তাবেয়ীন, তবে তাবেয়ীন, ইমাম, কেউ এই ফতোয়া প্রদান করেন নি যে মহররম মাসে মাছ ও শাক খাওয়া যাবে না তাহলে আজকে এরা কারা যারা শান্তির ধর্মে এই নতুন বিধানের আমদানী করলো..??
পূর্ববর্তী জামানার কথা না হয় বাদ দিলাম, আজকের যুগে আপনারি পাড়ার কোন ইমাম,মুফতী,পীর মাশায়েক থেকে কি এমন কোন বক্তব্য শুনেছেন যে এই মাসে মাছ ও শাক খাওয়া হারাম? না কখনই না।
তাই এই মাসে শাক ও মাছ খাওয়া যাবে না, এটা হারাম ইত্যাদি যে সম্পুর্ন মনগড়া বানোয়াট কথা তাতে কোন সন্ধেহ নেয়। চিন্তা করার বিষয় যে হালাল খাবারকে আমার আল্লাহ রাসুল হালাল করেছেন আজ অজ্ঞতার স্বরুপ কিছু মানুষ তা হারাম বলে জনসাধারনকে আরো অজ্ঞতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মহরর মাস বলেন কিংবা ১২ মাস বলেন সব মাসেই মাছ ও শাক খাওয়া যাবে যেটা ইসলামিক শরিয়ত থেকে প্রমানীত। ঠিক এমনি ভাবে আরো একটি কথা শুনা যায় যে, এই মাসে সেমাই খাওয়া যাবে না, কেন ভাই? ১১ মাস খাওয়া যাবে এই মাসে খাওয়া যাবে না কেন? অজ্ঞতাবাসীর কাছ থেকে উত্তর পাওয়া যায় যে সেমাই যেহেতু একটি আনন্দ আর খুশির সমর্থক শব্দ আমরা ঈদ এর আনন্দের সময় এটা খেয়ে থাকি আর মহররম মাসে ইসলামের জন্য শহীদ হয়েছেন ইমাম হোসেন তাই এই মাসে আমরা খশির সমর্থক সেমাই কিভাবে ভক্ষন করতে পারি। যদি সত্যি এমন জজবা হয় তাহলে অবশ্যই সম্মান করি। কিন্তু এটাকে যদি শরিয়ত মনে করেন যে খাওয়া যাবেই না তাহলে আমি বলবো এটা শরিয়তের উপর অজ্ঞতার হস্তক্ষেপ। কারন এই মাসে অনেকে বিরিয়ানী খেতে পারেন, তাহলে সেমাই এর বেলায় আপত্তি কেন?
আসলে এটাও একটি বাড়াবাড়ী ছাড়া আর কিছু নয়, অবশ্যই যেকোন মাসে যেকোন হালাল খাবার আপনি খেতে পারেন আর অবশ্যই সেমাই যে হারাম খাবারের মধ্যে পড়ে না তা নির্বোধদের জানা দরকার।
*
মহররম মাসে আরো একটি বানোয়াট কথা প্রচারিত হয় যে, এই মাসে নাকি বিয়ে শাদী করা যাবে না। করলে সেই শাদী শুদ্ধ হবে না, তাই ইমাম হোসেনকে অপমান করা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ আপনি যদি নুরনবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস, শরিয়তের দিকে তাকান তাহলে দেখা যাবে আমার নবী বলছেন “যারা বিয়ে করলো তারা অর্ধেক দ্বীন পূরন করলো” বিয়ে হলো আমার নবীর প্রিয় সুন্নত। অথচ এরা নির্বোধরা কারা যারা দ্বীন পূরনে বাধা দিচ্ছে, এই মাসে বিয়ে শাদী করা হারাম বলছে, আছে কি এমন কোন বিধান, কোন মসজিদের ইমাম বলেছেন যে এই মাসে বিয়ে শাদী করা যাবে না? না কোন মসজিদের ইমাম থেকে এমন কথা শুনা যায় নি তাহলে এরা কারা যারা দ্বীনের বিধানে হস্তক্ষেপ করছে? বলতে শুনা যায় যে এই মাসে শোকের মাস তাই এই মাসে শাদী করে কোন সূত্রে আনন্দ উদযাপন করবো। অবশ্যই এটা আপনার জজবা আর ইসলাম জজবা দিয়ে নয় নবীর দেওয়া শরিয়ত মোতাবেক চলে আর এমন কোন বিধান কোন মাজহাবের ইমামো এমনকি আজ পর্যন্ত কোন মোহাদ্দেস দিয়ে যান নি যে এই মাসে বিয়ে করা যাবে না। তাই এটাও একটি কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নয়, যেকোন মাসে বিয়ে শাদী করা যাবে।
*
তবে এটাও বাস্তব যে এই কুসংস্কারকে পুজি করে উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ীরা আরো বেশি বাড়াবাড়ী করতে গিয়ে হালাল খাবারকে এই মাসে হারাম বলে ফেলেন নিজের ইলম এর ঘাটতির কারনে যেমন মলিদা, শরবত, খিচুরি ইত্যাদি(আগে বলে রাখি এইসব বস্তুকে কেউ বাপজনমেও হারাম প্রমান করতে পারবে না, এটা আমার চ্যালেঞ্জ রইলো) তারাও নির্বোধের চেয়ে কম না। তাই Next part- 2 তে তুলে ধরবো এই কুসংস্কারের সুযোগে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী আবার আরো বেশি বাড়াবাড়ী করতে গিয়ে হালাল বস্তুকে হারাম বলছেন যেমন মালিদা,খিচড়া,ফাতেহা ইত্যাদি হালাল খাবার যেটা হারাম বলার কোন সুযোগ নেয় কিন্তু অনেকে আবার উপরিউল্লেখিত কুসংস্কারকে ঢাল করে এসবকেউ হারাম বলে কথিত ফতোয়া দিয়ে থাকেন। পরবর্তী পার্টে তাদের মুখোশ উম্মোচন করবো ইনশাআল্লাহ)