ক্যাটেগরিঃ কৃষি

মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন বলতে বোঝানো হয় মাছ উৎপাদন ও মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত বিষয়সমূহের উন্নয়ন ও প্রসার। কিন্তু আমাদের দেশের এতো জলাভূমি, বিশাল সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকার যথাযথ ও অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে শুধু প্রচলিত মাছ চাষে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না বরং  দৃষ্টি দিতে হবে শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, লবস্টার, স্কুইডের মত অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদ চাষে।

এতে করে দেশের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের বিশাল রপ্তানিবাজার হবে; আর এটাই হবে অর্থনীতির জন্য বিশাল চালিকাশক্তি।

রেজুখালে চাষকৃত ঝিনুক 

 

মৎস্য সম্পদের মধ্যে এখনও আমাদের দেশে খাদ্য হিসেবে অপ্রচলিত রয়ে গেছে নরম খোলসের কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি। যদিও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এগুলো প্রচলিত ও উপাদেয় খাদ্য।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ভারতসহ আরো অনেক দেশের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য একটা যোগান আসে এই খাত থেকে। তাই এসব সম্পদের যথাযথ চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করতে পারলে তা আমাদের দেশের জন্য হয়ে উঠবে বৈদেশিক মুদ্রার এক অনন্য উৎস।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রভাষক ও গবেষক (অ্যাকুয়াকালচার বিভাগ) এবং বাংলাদেশে নরম খোলসের কাঁকড়া চাষ নিয়ে গবেষণার অন্যতম পথিকৃত মো. রেদোয়ানুর রহমানের সঙ্গে আলাপে তিনি জানালেন দেশে অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদের চাষ আরও জোরদারে ফিশারিজ সেক্টরে অধ্যয়ন ও কর্মরতদের করণীয় নিয়ে।

– ফিশারিজ সেক্টরে জড়িত জনগোষ্ঠিকে এসব বিষয়ে দেশে ও দেশের বাইরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে যেন তারা সারাদেশে অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদের চাষের বিস্তার ঘটাতে পারে।

– ফিশারিজ বিষয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও স্নাতকদের এসব বিষয়ে গবেষণা করার সুযোগ ও ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে।

– দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সভা, সেমিনার করে বা লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদ চাষের ভূমিকা তুলে ধরতে হবে।

– যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এসব বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই গবেষণা করছে তাদের জন্য ফান্ড ও সুযোগের সৃষ্টি করা যেন তারা তাদের গবেষণার উপযুক্ত প্রয়োগ ঘটাতে পারে।

– দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসমূহকে অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদের চাষের আওতায় নিয়ে আসা যাতে উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র ও বেকার জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।

– বড় বড় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদেরকে অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদের চাষে বিনিয়োগ করার জন্য উৎসাহিত করে তোলা।

– দেশের যেসব জায়গায় এ ধরণের সম্পদ চাষ করা হবে সেসব জায়গায় প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তুলে এসব সম্পদ রপ্তানি করার জন্য উপযুক্তভাবে প্রক্রিয়াজাত করা।


দরিয়ানগরে চাষকৃত কাঁকড়া

আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা হলো বেকারত্ব। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের দেশের যুবগোষ্ঠীকে চাকরিমুখী মনোভাব থেকে করে তুলতে হবে উদ্যোক্তামুখী।

এক্ষেত্রে অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদের চাষই তৈরি করতে পারে হাজারো উদ্যোক্তার, যারা আরো লাখো বেকার যুবগোষ্ঠির জন্য তৈরি করবে কর্মসংস্থান।

আর তাই অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদের চাষের প্রসারের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন তা না হলে এ ধরনের উদ্যোগ থেকে যাবে কাগজেকলমেই সীমাবদ্ধ।

ছবি: অন্তর সরকার
তথ্যসূত্র: মো. রেদোয়ানুর রহমান, প্রভাষক, অ্যাকুয়াকালচার বিভাগ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়।