ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 
etoken

ভৌগলিক কারণে বাংলাদেশের কাছে ভারত খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাছের দেশ এবং টাকার মান প্রায় এক হওয়ায় ভারত ভ্রমনকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ব্যবসা, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ নানা কারণে মানুষ ভারত যায়। তবে ট্যুরিস্টের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। নানা বয়সী পর্যটক ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরতে যাচ্ছে। ইদানিং তরুণ বয়সী পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভিসা বিড়ম্বনা। এ যন্ত্রনার নাম ই- টোকেন।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ-ভারত ২৫ বছরের চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তি মোতাবেক দুই দেশের ভিসার কোন ফি ছিল না। তখন কোন ট্রাভেলসের মাধ্যমে মাত্র ১ শ’ টাকা খরচ করে ইন্ডিয়ার ভিসা মিলত। এখন ভিসা ফি ৬ শ’ টাকা দিতে হয় আর ই- টোকেনের জন্য দালালদের দিতে হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ই-টোকেনের সময়ে প্রায় সব কাগজের ফটোকপি নিয়ে তবেই ফরম ফিলাপ করা হয়। এরপর তারিখ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয়। তারিখ মিললে নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট, বিদ্যুত বিলের মূল কপি, ট্রেড লাইসেন্সের মূল কপি, ব্যাংক স্ট্যাটমেন্টের মূল কপি এর সাথে সব কাগজের এক সেট ফটোকপি জমা দিতে হয় ভিসা কেন্দ্রে। জমার আগেই ভিসা ফি ৬ শ’ টাকা ফি নিয়ে নেয়া হয়। জমার পর একটা টোকেন দেয়া হয় যেখানে পাসপোর্ট ফেরত দেয়ার তারিখ থাকে। নির্দিষ্ট তারিখে ওই টোকেন দেয়ার পর পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হয়। তখন দেখা গেলো কর্তৃপক্ষ ভিসা দেয়নি। কেন দেয়নি তাও উল্লেখ নেই। বুথে থাকা দায়িত্বরতরাও এ ব্যাপারে কোন টু শব্দ করবে না। ভিসা পেলেন না তবে মাঝখানে কতগুলো টাকা গচ্ছা গেল।

এ পদ্ধতি নিয়ে অনলাইন আন্দোলনসহ ব্যাপক শোরগোল হলে কিছু দিন আগে ভিসা সহজকরণের জন্য ম্যাসেজ পদ্ধতি চালু করা হয়। পরে দেখা যায় এ আরেক নতুন যন্ত্রনা। এখন ই-টোকেনও করতে হয় সেই সাথে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল সিম ই-টোকেনের কাজ করা ব্যক্তিকে দিতে হয়। সেই সিমে ম্যাসেজ আসে আর ওই ম্যাসেজ দেখিয়ে ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। প্রশ্ন উঠতে পারে এ কেমন সহজীকরণ ?

তবে আশার কথা হলো ভারতের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি বলেছেন- ই-টোকেন পদ্ধতি থাকছে না। তবে তা সম্ভবত শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য। এর আগে মেডিকেল ভিসার জন্য ই- টোকেন বাতিল করা হলেও তা তেমন কার্যকর হয়নি। কাছের কয়েকজন আমাকে জানিয়েছেন, ই-টোকেন ছাড়া মেডিকেল ভিসা জমা নেয়া হয় খুব কম। লাইনে থাকলেও কয়েকটি আবেদন জমা নিয়ে বাকীদের ফেরত দেয়া হয়। এ কারণে জমা দিতে কয়েকদিন যেতে হয়। কেউ কেউ কাউকে ম্যানেজ করে লাইনের প্রথম দিকে থেকে জমা দেন।

তাই রাষ্ট্রদূত মহোদয়কে বিনীত ভাবে বলছি , ই-টোকেন পদ্ধতি পুরোপুরি বাদ দিতে। এর পরিবর্তে ভিসা আবেদনকারী ভিসার জন্য আপনাদের ফরম ফিলাপ করে তা ই- মেইল এ পাঠিয়ে দিবে। ওই আবেদনকারীকে ফিরতি ই-মেইলে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দেয়া তারিখ দেয়া হবে। নির্দিষ্ট তারিখে তা জমা দিবে ভিসা আবেদনকারী।

ভ্রমণ ভিসার বিষয়টি এক দেশের মানুষ আরেক দেশে যাচ্ছে এমন না ভেবে এক বন্ধু আরেক বন্ধুর বাড়িতে যাচ্ছে এমনটা ভাবা উচিত।