ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

ground

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে দিয়ে বাসে যাচ্ছিলাম। সকালের এই সময়টাতে রাস্তায় প্রচুর যানবাহন থাকার কথা। বাচ্চারা স্কুলে যাবে, বড়রা অফিস-আদালতে ছুটবেন, সব মিলিয়ে একটা ব্যস্ত পরিবেশ। তবে আজ ভিড় কম মনে হচ্ছিল। লোকজন আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে মারাত্মক চিন্তিত। ঘরে বসে বিবিসি-সিএনএন দেখেই হয়ত সময় কাটাচ্ছেন অনেকে। ফলে রাস্তা ফাঁকা।

বাসে অর্ধেকের মত সিট খালি। সাধারণত এমন ব্যস্ত সময়ে একটি সিট পাওয়াই সৌভাগ্যের ব্যাপার। অথচ আজ পুরো একটা ডবল সিটে আমি একাই বসে আছি।

হঠাৎ সামনের সিটে বসা ১৩-১৪ বছরের একটি ছেলে পেছনে ঘুরে জিজ্ঞেস করল, “ভাইয়া, শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি কোনটা”?

আমি ৩২ নম্বরের দিকে দেখিয়ে দিলাম।

“তাঁকে কি এখানেই মারা হয়েছিল?”

হ্যাঁ।

“এই বাড়িতে এখন কে থাকে?”

এটা এখন একটা জাদুঘর। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর। আপনি ইচ্ছে করলে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি দেখে আসতে পারেন।

“এখানে যেতে টিকেট লাগে? টিকেটের দাম কত?”

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লাগে, তবে টিকেটের দাম বেশি না। খুবই কম। ৫-১০ টাকা। (আসলে ৫ টাকা, সেই সময়ে নিশ্চিত ছিলাম না, এখন অনলাইনে দেখলাম)।

“আমি যাবো। পরে এই জায়গাটা চিনব কীভাবে? এটা কি কলাবাগান?”

এটা কলাবাগান না, তবে কাছাকাছি। আপনি এদিকের বাসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নামার কথা বললেই তারা নামিয়ে দেবে। তারপর এদিক দিয়ে যাবেন।

আমি ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলাম সে কী করে। ছেলেটি উত্তর দিল, সে হাফেজি মাদ্রাসায় পড়ে। কোনো একসময় হয়ত পাঠ্যবইয়ে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে পড়েছিল বা পরিবার-পরিবেশ কিংবা মিডিয়ায় তাঁর সম্পর্কে জেনেছে। আর এখন ৩২ নম্বরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির স্মৃতির প্রতি কৌতূহল আরও বেড়ে গিয়েছে। কেননা, শিকড়ের সন্ধান করে যাওয়াইতো মানুষের প্রকৃতি!

বাস মন্থর গতিতে সামনে এগোচ্ছে। যাত্রীরা আরও দ্রুত চালানোর তাগিদ দিচ্ছে। সবাই কর্মস্থলে যেতে উদগ্রীব। আমি মনে মনে ছোট্ট একটু ট্র্যাফিক জ্যাম আশা করছিলাম। তাহলে ছেলেটির সাথে বঙ্গবন্ধু বিষয়ে তার কৌতূহলের ব্যাপারে আরও কিছু আলাপ করা যেত। যেমন সে কোথায় কোথায় তাঁর সম্বন্ধে জেনেছে, আর কী কী জানে প্রভৃতি।

সাধারণত বাসওয়ালারা যাত্রীদের কথায় ইঞ্জিনের স্পিড বাড়ায় না। কিন্তু এই ড্রাইভারকে একটু বেশিই ভদ্র মনে হলো। সে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে আমাদের নিয়ে চলল গন্তব্যে। রাস্তায় নেমে লক্ষ্য করলাম লোকজন ট্রাম্প-হিলারি নিয়ে মাতামাতি করছে। এলাকার ইউপি নির্বাচনে এরকম উত্তেজনা দেখেছি, যেখানে সাধারণত আত্নীয়স্বজন বা প্রতিবেশীরা একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকেন। আমেরিকাকেও বাঙালিরা প্রতিবেশী করে নিয়েছে, ভাবতেই অন্যরকম লাগছে!