ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বুধবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই এফবিআই কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভট বলেছেন, গিয়াসউদ্দিন আল মানুনের সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের বিপরীতে দুটি ভিসা ক্রেডিট কার্ড ছিল। যার একটি ব্যবহার করতেন মামুন নিজে, আরেকটি তারেক রহমান। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মামুন ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ৭৯ হাজার ৫৪২ দশমিক ৭৮৫ ডলার এবং তারেক রহমান একই কার্ডের মাধ্যমে ৫৪ হাজার ৯৮২ দশমিক ৪২ ডলার ব্যয় করেন। এসব অর্থ তাঁরা সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, জার্মানি, দুবাই ও গ্রিসে কেনাকাটায় এবং চিকিৎসায় ব্যয় করেছেন।

এখানে প্রশ্ন গিয়াসউদ্দিন আল মানুনের ক্রেডিট কার্ড কিভাবে তারেক রাহমান ব্যবহার করলেন ।মামুন কি তারেক রাহমানের নামে supplementary কার্ড ইস্যু করেছিলেন । supplementary কার্ড আরাকজন ব্যবহার করে টাকা তুলতে পারেন কিন্তু কেনাকাটায় এবং চিকিৎসায় ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করতে পারেন না । ব্যবহার করতে গেলে সিগনেচার প্রয়োজন । এফবিআই কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভট বলেছেন এসব অর্থ তাঁরা সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, জার্মানি, দুবাই ও গ্রিসে কেনাকাটায় এবং চিকিৎসায় ব্যয় করেছেন ।সেইখেত্রে তারেক রাহমান কি গিয়াসউদ্দিন আল মানুনের সিগনেচার জাল করে কার্ড ব্যবহার করেছেন । এফবিআই কর্মকর্তা এই বাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি । তাই বিষয়টি প্রশ্ন যুক্ত । আরও উল্লেখ্য যে গিয়াসউদ্দিন আল মানুনের ক্রেডিট কার্ড তারেক রাহমান ব্যবহার করে থাকলে মামুন মুদ্রা পাচারের দায়ে দায়ী হবেন তারেক রাহমান নন ।

তদন্তে আরও দেখা যায়, বাংলাদেশি ব্যবসায়ী খাদিজা ইসলাম তাঁর সিঙ্গাপুরের ওসিবিসি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সাত লাখ ৫০ হাজার ডলার টেলিগ্রাফি ট্রান্সফারের মাধ্যমে ২০০৩ সালের পয়লা আগস্ট মামুনের সিটি ব্যাংকের ওই অ্যাকাউন্টে জমা করেন। এসব বক্তব্যের সমর্থনে ডেবরা ২২৯ ও ৫৪ পৃষ্ঠার দুটি তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করেন। এখানে আরও উল্লেখ্য যে গিয়াসউদ্দিন আল মানুনের নামে টাকা জমা হয়েছে, তারেক রাহমানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-এ নয় । তাহলে তারেক রাহমানের নামে মামলা কেন ?

ডেবরা আদালতে আরও বলেছেন, ‘আমি ১৬ বছর ধরে এফবিআইয়ে কর্মরত আছি। মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। ২০০৮ সালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে মুদ্রা পাচারসহ অন্যান্য ব্যাপারে তদন্তে সহায়তার জন্য অনুরোধ করে। এ ব্যাপারে মার্কিন সরকার বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিশ্চয়তা চায় যে তারা বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করবে না। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই নিশ্চয়তা পেয়েই মুদ্রা পাচারের বিষয়টি তদন্তের জন্য আমার কাছে পাঠায়। এর পরই আমি তদন্তে নামি। এফবিআই কর্মকর্তারা যে সব সময় সাম্রাজ্যবাদী কাজে পটু তা আমরা ইরাক , আফগানিস্তান, পাকিস্তান,লিবিয়া আরও বহু দেশে দেখতে পাই । তারা প্রথমে টাকা ছড়ান এবং লাদেন বানান আবার লাদেন হত্যার জন্য সেনা অভিযান পরিচালনা করেন । বাংলাদেশে তাদের যে কি রাজনৈতিক উদ্দেশে তাও ভাবার ব্যাপার ।

আরও একটি কথা আদালতের সমন জারির পর এত জলদি কিভাবে এফবিআই কর্মকর্তা ঢাকা পৌঁছলেন তা কি জনগণকে ভাবায় না । প্রশ্ন রইল সবার কাছে?