ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

টেস্ট সিরিজ শেষে প্রাপ্তি বলতে রেকর্ডের পাল্লাটাই ভারী হয়েছিল। জয় অধরাই ছিল বাংলার টাইগারদের । মিরপুর টেস্টে যদিও জয়ের সুর্যটা উকি দিচ্ছিল। কিন্তু একরাশ ভারী মেঘ ঢেকে দিল সেই বাতিটাও। দ্বিতিয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের অসহায় আত্নসমর্পনের কারনে সুবর্ণ সুযোগটাও হাত ফসকে বেরিয়ে গেল সফরকারীদের হাতে।

তাতে কি ? মিরপুরে ওই টেস্টে কতই না রেকর্ড। প্রথম ইনিংসে প্রথম বারের মত ৫৫৬ রানের পাহাড়সম রান সেই সাথে লিড নেয়া। টেস্ট আঙ্গিনায় অভিসিক্ত সোহাগ গাজীর ৯ উইকেট। উত্তরবঙ্গের ছেলে নাইমের প্রথম টেস্ট সেন্চুরী। আরও কত কি…………….! এতেই সান্তনা ।

আর খুলনা টেস্টের কথা কি বলব । বাঘের জাত চিনেছে ক্যারিবীয়রা। আর সেই বাঘ হলেন আবুল হাসান। সিলেটের পাহাড়ে সুবিধা করতে না পেরে বেছে নিলেন বাঘের অভয়ারণ্য সুন্দরবন এলাকা খুলনায়। ১০০ রান করতেই যেখানে টপ অর্ডারের ৮ উইকেট হাওয়া, তখন অভিষিক্ত আবুল হাসান হলেন দলের কান্ডারী । ঝড়ের মুখে পড়া সেই নৌকার পাল শক্ত হাতে আকড়ে ধরলেন তিনি। মুলত পেসার হলেও ব্যাট হাতেই শাসন করেছেন রামপল, এডওয়ার্ড, নারাইন দের। আর তাইতো ১০ নম্বরে নেমে সেন্চুরী করে ১১০ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। দলও পেয়েছিল সম্মানজনক স্কোর ৩৬৫ রান। না জিতলেও অন্তত ইনিংস হার এড়ানো গেছে।

নাহ্ এ আর ভালো লাগছে না । পুচকা মুরগী দিয়ে কি আর বাঘের পেট ভরে ?? তাই বড় শিকারের অপেক্ষায় প্রহর গুনা টাইগারদের ।

এবার আসা যাক বিজয় মন্চে। ৩০ নভেম্বর শুরু একদিনের ম্যাচ। এমন সময় মড়ার উপর খাড়া ঘঁা । দুঃসংবাদ এলো সাকিব প্রথম দুটি ওয়ানডে খেলতে পারবে না। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতিতে দল কতটা সফল হবে। ব্যাটিং দানব গেইলের চার, ছক্কার মোক্ষম জবাব দেবে কে ? তাহলে কি টেস্টের মত ওয়ানডে সিরিজেও জয় অধরাই থাকবে টাইগারদের। এমন সব প্রশ্ন মনের আকাশে উকি দিচ্ছিল এদেশের কোটি কোটি ক্রিকেট প্রেমিদের মনে।

কিণ্তু না, বাঘের বাচ্চা যে শেয়াল হয় না তা আবারও প্রমাণ করল টাইগার বাহিনী। বিজয়ের মাস শুরু হল বিজয় দিয়েই। ক্রিকেট বিধাতা সব বুঝে-শুনেই বুঝি বিজয়ের মাসের প্রথম দিনটায় বিজয় লিখে রেখেছিলেন। এ আর যেন তেন বিজয় নয়। ক্যারিবীয় দের ১৯৯ রানে গুড়িয়ে দিয়ে ৭ উইকেটের বিশাল জয়। আর এ জয়ের নায়ক অভিষিক্ত েসাহাগ গাজী। অভিষেকেই ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই সফল বোলার। সেইসাথে অভিষেকে বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে বেষ্ট বোলিং ফিগার। যার ফল অভিষেকেই বাজিমাত, ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে।

নির্বাচকরাও চার চারটি নতুন মূখ মুল স্কোয়াডে ঢুকিয়ে বাজিমাত করলেন। কারন, তাদের নতুন দের উপর পূর্ণ আস্থা ছিল। তারা পারবেই……………..।

প্রথম ওয়ানডেতে হারের কারণ হিসেবে পোলার্ড বলেছিল নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দেয়াকেই দায়ী করেছিল। আরও বলেছিল, রাজ্জাকের যে বলে তিনি আউট হয়েছিল সেরকম বলের ১০ টির মধ্যে ৯টিই নাকি মাঠের বাইরে নিয়ে যাবে। ভারতের অহংকারী ক্রিকেটার বিরেন্দর শেবাগের মতই ভাব দেখাচ্ছিল কিছুটা। যদিও অর্ডিনারী বলার সাহস পায়নি। তবুও সেরকম কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

বিজয়ের মাসে বিজয় ঠেকায় কে। এই মুলমন্ত্রে দিক্ষিত হয়েই ২ তারিখ মাঠে নেমেছিল মুশফিক বাহিনী। মাঠের এক কোনে “বিজয়ের মাসে বিজয় চাই” প্লাকার্ড টা মনে হয় দেখেছিল এনামুল হক বিজয়। আর তাতেই কেল্লাফতে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই সেন্চুরী। শিশির ভেজা সকালটা প্রত্যাশিত না হলেও বিপদ হতে দেননি এনামুল। ম্যাচের ৩য় ওভারেই তামিম, আর কিছুক্ষণ পর নাইম বিদায় নিলেও ভালোভাবেই ঘুরে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ। মুশফিকের ৭৯ রান, এনামুলের ১২০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, মমিনুলের ৩১ আর শেষ দিকে মাশরাফির ৬ বলে ১৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ২৯২ রান করে বাংলাদেশ।যা ওয়েষ্টইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ স্কোর বাংলাদেশের। আর জবাবে ১৩২ রানেই অল আউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিস্ময়ে বিমূঢ ক্রিকেট বোদ্ধারা। ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রানের ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের।এদেশের স্বপ্ন নয় তো ?

নাহ্, স্বপ্ন নয়, বাস্তব। আগের দিনের মত বাংলাদেশের স্পীন বিষেই নীল স্যামি বাহিনী। আর সাথে কিরোইন পোলার্ডের বাজে মন্ত্ব্ব্যের উত্তম জবাব । আমরাও পারি……….!

বাংলাদেশ যখন বড় বড় দলের বিপক্ষে খেলে, তখন এদেশর মানুষ তাকিয়ে থাকে মাঠের সেই ১১ জন যোদ্ধার দিকে। তারা জিতলে আনন্দে আত্নহারা হয় এদেশের কেটি কোটি মানুষ। মাঠে ১১ জন হলেও টাইগারদের এ জয়োতসবে এদেশের ১৬ কোটি মানুষ মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে। হারলে তাদের ব্যথায় ব্যথিত হয় সারা দেশের মানুষ। টাইগারদের জয়রথ অব্যাহত থাকুক।

খুলনা থেকে ৫ম্যাচ সিরিজের ২-০ ব্যবধান নিয়েই ঢাকায় ফিরছে টাইগার বাহিনী । সিরিজের এখনো ৩ ম্যাচ বাকি। সিরিজটি জিততে হলেও আরও ১ টি ম্যাচ জিততে হবে টাইগারদের। আর সেই সুয়োগটা আসছে আজকেই টাইগারদের সামনে। আজ জিতলেই টাইগারদের অজর্নের ঝুলিতে আরো কিছু যোগ হবে। সেই সাথে দেশবাসি ভাসবে আনন্দের বণ্যায়। তাই, আসুন সবাই মিলে বাংলাদেশ দলের জন্য শুভ কামনা করি।

আর তাই প্রয়োজন এখন পেশাদারিত্বের। প্রয়োজন ধারাবাহিকতার। কারন, এদেশে আনন্দ-উল্লাসের বড় উতস এখন ক্রিকেট। সেই উতসে নাসির,আবুল, মমিনুল, সোহাগ এনামুলের মত নবীনরা আমাদেরকে সেই স্বপ্ন ভালোভাবেই দেখাচ্ছে। ক্রিকেটে এদেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া এবং তাদের মধ্যে অনেক মিল। তাই নবীনদের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে শুরু হোক সোনালী দিন। এই কামনা এদেশের কোটি কোটি ক্রিকেট প্রেমি………………র ।