ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

নদীমাতৃক দেশ হলেো এদেশের নদ-নদীগুলো নেই তাদের আগের অবস্থায়। দখল আর দূষণ বিষিয়ে তূলছে নদীর স্বাভাবিক জীবন। এতে ব্যাহত হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক চলাচল। নদী নালাগলো যেন শিল্পকারখানার বজের্র ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। শিল্পকারখানার বিষাক্ত পদার্থ, হাসপাতালের বজ্য, কেমিক্যাল পদার্থ, বাসাবাড়ির নিত্যদিনের ময়লা, পলিথিন, প্লাষ্টিক বোতল তার সাথে স্যুয়ারেজ লাইনের দুষিত পানি মিশে একাকার হচ্ছে নদীর পানিতে। র্যার উতকৃষ্ট উদাহরণ রাজধানী ঢাকার প্রান বুড়িগঙ্গা নদীটি।পোড়া মবিলের মত এর পানির দিকে তাকালেই বুঝা যায় মানষের কত পাষবিক অত্যাচার সয়ে চলেছে নদীটি।কতৃপক্ষের অবহেলা এবং উদাসিনতায় বুড়িগঙ্গার মত বড় বড় নদীগুলো আজ মৃত প্রায়।

নিয়মিত ড্রেজিং না করায় নদ-নদীগুলোর বুকে জেগে উঠছে বিশাল আকৃতির চর যা নদী দখলে প্রভাবশালী মহলে এনে দিচেছ নতুন মাত্রা। নামপরিচয়হীন ডেভলপার কোম্পানীগুলো ডিজিটাল সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে নদী-পাঁড়কে বলছে মডেল টাউন আর নিত্যদিন ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে তুলছে অবৈধ সব স্থাপনা। ময়লা আবর্জনা আর পলিমাটি দিয়ে ভরাট করা এসব জায়গায় বড় বড় বিল্ডিং/ অট্টালিকা তৈরী করে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসে বাধ্য করছে তারা। আমরা ভুক্তভোগীরা যার ফলাফল পাই বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দূয়োগ, ঝড়-বৃষ্টি, বা স্বল্প-মাত্রাতিরিক্ত ভূমিকম্পেই স্থাপনাগুলোর দৈন্যদশা দেখে। একমাত্র তখনই মনে হয় আমরা কত অসহায়, তখন বুঝি প্রাকৃতিক সম্পদ কি ? আর সেই প্রকৃতির উপর আমরা কিভাবে হামলা চালিয়েছি, ক্রমশ চালিয়ে যাচ্ছি। বসবাসযোগ্য নগরীর জন্য প্রকৃতির উপর এমন অবিচেকের মত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এখনই, এটাই তার উপযুক্ত সময়। আমাদের সবাইকে সর্বদা হুশিয়ার থাকতে হবে, প্রকৃতি যে কোন সময় আমাদের উপর প্রতিশোধ নিতে পারে। মনে রাখতে হবে প্রকৃতির প্রতিশোধ ক্ষমাহীন।

অতিতে যাতায়াত ও পরিবহন সেক্টরে নৌপথের গুরুত্ব ছিল অপরিসিম। কিন্তু ক্রমবর্ধমান দখল-দূষনে নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। একে একে বিভিন্ন নৌরুটে বন্ধ হয়েছে লন্চ,স্টিমার, স্পিট বোর্ড সহ বড় বড় পালতোলা নৌকাগুলো। এতে যাতায়াত ো পরিবহনে মাত্রাতিরিক্ত চাপ বেড়েছে সড়ক,আকাশ,রেলপথে। আকাশ পথে কম হলেো সড়ক ো রেলপথের মাধ্যমে অতিরিক্ত যাতায়াতের কারনে বর্তমানে এই দুই যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা। রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারনে মহাসড়কগুলোতে সবসময় যানজট লেহেই আছে। ভ্রমণে লাগছে দ্বিগুণ সময়, বেড়ে যাচ্ছে জ্বালানী খরচ আর প্রতিদিন অহরহ ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রতিদিন নানান শ্রেনীর মানুষ মারা যাচ্ছে। যারা তাদের মেধা মননশীলতায় এদেশ, এদেশর গৌরব/ঐতিহ্য/সংস্কৃতিকে নিয়ে গিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতায়। তার মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত বিশিষ্ট চলচিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, বিশিষ্ট সাংবাদি মিশুক মুনির, এবং সদ্য প্রয়ত সাংবাদিক দিনেশ দাস সহ দূর্ঘটনায় আহত (বর্তমানে থাইল্যান্ডে চিকিতসারত) কালের কন্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক নিখিল ভদ্র অন্যতম। বিবেকবান মানুষের বোধগম্য নয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এমন অনাকাঙ্খিত মৃত্যু।

পূর্বে নদী রক্ষায় সাংসদীয় কমিটি গঠণ হলেো ছিল না তার কোন কার্যকারিতা। বর্তমান সরকার দেশের নদ-নদী রক্ষায় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যা শুস্ক মৌসুমে নদী দখল রোধে নদীর সীমানা পিলার নির্ধারনের মাধ্যমে ইতোমধ্যই কার্যক্রম জোরালোভাবে শুরু হয়েছে। দেশের নদ-নদী রক্ষায় নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রসংশনীয় উদ্যোগ। এতে কিছুটা হলেো নদী দখলকারীদের মনে কিন্চিত পরিমান হলেও ভীতি সন্চারিত হবে। আর নদীমাতৃক আমাদের দেশের নদ-নদীগুলো রক্ষা পাবে সেইসব নির্লজ্জ,লোভী, দেশদ্রোহী দখলদারদের হাত থেকে……………….।