ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

তুমি আমাকে ভাষা শিক্ষা দিয়েছো
এবং এতে আমার যে লাভটি হয়েছে
তা হলো, আমি এখন জানি কীভাবে
তোমাকে অভিশাপ দিতে হয়।
– দ্য টেম্পেস্ট, ১৬১১

ঔপনিবেশিক বেনিয়ারা চলে গেছে বটে, কিন্তু উত্তর-উপনিবেশী বাঙালি মনে বুপণ করে গেছে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির বীজ। সেই বীজ থেকে আজ চারা গজিয়েছে; আর সেই চারাকে প্রাশ্চাত্য আকার দিয়ে এক মহীরুহে পরিণত করার জন্য,বিশ্বায়নের বয়ান দিয়ে স্যাটেলাইট কানেকশন কে নজিরবিহীন সস্তা দামে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে অট্টালিকা থেকে বস্তির দুয়ারে। বাঙালদের শেকড় থেকে আলাদা করার এই গোপন প্রপাগান্ডা নিয়ে নাগরিক ডিসকোর্সে অনেক পক্ষ-বিপক্ষও তৈরি হয়েছে। মানুষের চিন্তা ধারায় পশ্চিমা মাতব্বরির প্রক্রিয়া খুব সুক্ষ ভাবে সমাজে হাই-কালচার আর লো-কালচার এর বিভাজন সৃষ্টি করেছে। যে মাধ্যম গুলোর সাহায্যে সাম্রাজ্যবাদীরা উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর জ্ঞানজগত, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও দৈনন্দিন জীবনচর্চায় পশ্চিমা মডেলের জীবনব্যবস্থা কে সঞ্চারিত করা হচ্ছে তার মাঝে সঙ্গীত অন্যতম একটি। ভুলে গেলে চলবেনা কনজ্যুমেরিজমে সবকিছু পণ্য, সঙ্গীত তো বটেই। মাইকেল জ্যাকসন, ক্ল্যাপ্টন, রিচি, বিটলস, ঈগলস এর দিন শেষ হয়ে গেলেও পশ্চিমা সঙ্গীতের বাজার এখনও সারা বিশ্বব্যাপী রমরমা। আধুনিকতার চরম উৎকর্ষে অবতীর্ণ হওয়াই সমসাময়িক পশ্চিমা সঙ্গীতকে আমরা নির্দ্বিধায় উত্তরাধুনিক সঙ্গীত নামেও আখ্যায়িত করতে পারি। উত্তরাধুনিক প্রবক্তারা বিশ্বাস করেন “বিশুদ্ধ প্রপঞ্চ” বলে কোন মালের অস্তিত্ব নেই। তাই আমরা সমসাময়িক পশ্চিমা সঙ্গীতের বিশুদ্ধতার প্রশ্ন নিয়ে এখানে আলোচনা করবোনা, এই লেখার উদ্দেশ্যও সেটা নয়।

ঐতিহ্যগতভাবেই বাংলাদেশের মানুষ সঙ্গীতপ্রিয়। বিশ্বায়নের আশীর্বাদপুষ্ট পশ্চিমা সঙ্গীত অন্যান্য দেশের ন্যায় এদেশের গণ্ডিতেও পূর্বের তুলনায় আরো দ্রুত গতিতে, আরো অবাধভাবে অনুপ্রবেশ করছে। কিন্তু প্রশ্ন হল কাদের মাঝে এর গ্রহণযোগ্যতা বেশি? কারা এর প্রধান শ্রোতা? কারা এর ভোক্তা? কারাই বা এর প্রাণ সঞ্চারকারী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে খুব বড় মাপের নিরীক্ষক কিংবা গবেষক হবার প্রয়োজন নেই। টিনেজার অর্থাৎ ১৩-১৯ বছরের ছেলেমেয়েরাই সমসাময়িক সঙ্গীতের প্রধান শিকার। শিকার কথাটি এইজন্য ব্যবহার করছি কারণ এটা তাদের জীবনে আসক্তির মত কাজ করে। যেকোন মাদকের চেয়ে সঙ্গীতের আসক্তি করণ ক্ষমতা কোন অংশে কম নয়। পুঁজিবাদের পরজীবী হয়ে শহুরে বাবা-মা এখন আর তাদের সন্তানদের বিনোদনের অংশীদার হবার সময়টা বের করতে পারেননা। ফলে তারা নিরুপায় হয়ে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে টিনেজারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন আইপড, মুঠোফোন কিংবা ল্যাপটপ। এগুলোর কল্যাণে এদের পশ্চিমা রঙ্গিন দুনিয়ায় মানসিক পাড়ি জমানোর কাজটা খুব দ্রুতই হয়ে যাচ্ছে। ভার্চুয়ালি তারা এদেশে থাকলেও তাদের মানসিক অবস্থান অনেক দূরে। তারা জানেনা একাত্তর(৭১) কি, জানেনা জাতীয়সঙ্গীত আর পতাকার মহত্ত্ব, জানেনা এদেশের রং-রুপ আর ঐতিহ্যের স্বকীয়তা। তাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় প্রধানত শুধু দুটো জিনিসকে চিহ্নিত করতে পারে “সাইন ভ্যালু” (sign value, Jean Baudrillard) আর “কাম” (libido, Freud)।

হয়তো বলবেন, কাম তো স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া এটা সবার মাঝে থাকবেই।তাদের কে বলবো কামের প্রতি যে দৃষ্টিকোণ তাতে গুনগত পার্থক্য কি প্রতীয়মান হচ্ছেনা? এই বয়সের ছেলেমেয়েরা কি পর্যায়ের কামতাড়িত তা নিয়ে আমাদের কোন গবেষণাকর্ম নেই। এধরনের সাঙ্ঘাতিক স্পর্শকাতর বিষয়ে গবেষণাকার্য পরিচালনা করাও সহজ নয়। আপাতত সে সাগরসেচার কাজে নামতে চাইওনা আমরা, এখানে আমরা শুধু দেখতে চাইবো সমসাময়িক পশ্চিমাসঙ্গীতের সাথে একটি শহুরে কামতাড়িত প্রজন্মের উত্থানের কোন সম্পর্ক রয়েছে কিনা।

প্রেম জানেনা প্রেমের হাটের বুলবুলা,
কেন না তার মন মেতেছে মদনরসে
সদায় থাকে সেই আবেশে”- লালন সাঁই

একটু খেয়াল করলেই নব্বই দশকের পরথেকে পশ্চিমা সঙ্গীতের দিকপরিবর্তনের একটি ধারা স্পষ্টগত হয়, এই ধারাটি আরো তীব্রতর হয় একুশ শতকের শুরুতে। এখনকার টপচার্টে থাকা গানগুলিতে আর খুজে পাওয়া যায়না কোন মেলোডি, কিংবা হৃদয় ছোঁয়া কোন লিরিক। উত্তরাধুনিক যুগে আমরা এখন আর ‘হোমো-স্যাপিএন্স’ নেই, সবাই ‘সাইবরগ’(cyborg) এ পরিণত হচ্ছি। গানের ভাষাতেও তাই আজ আর মানবিক কোন অনুভূতির ছাপ নেই। সকল অনুভূতির স্রোত যেন যেন আজ কামের নদীতে গিয়ে মিশেছে। একটি টপচার্টে থাকা গানের দোহাই দিতে চাই-

Sometimes,Something beautiful happens in this world(Akon)
You don’t know how to express yourself,
so(And Lonely Island)You just gotta sing
I just had sex
And it felt so good(Felt so good)
A woman let me put my penis inside of her(Her)
I just had se-ay-ee-ex
And I’ll never go back(Never go back)
To the not-havin’-sex ways of the past
Have you ever had sex?
I have, it felt great(Yeah)
It felt so good when I did it with my penis(Yeah)
A girl let me do it, it literally just happened
Having sex should make a nice man out the meanest
Never guess where I just came from,
I had sex, I had to describe the feelin’,
it was the best
When I had the sex, man, my penis felt great
And I called my parents right after I was done
Oh, hey, didn’t see you there, guess what I just did?
Had sex, undressed, saw her boobies and the rest.

এ্যাকন এর এই গানটি এখন টিনেজারদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়। বুঝুন অবস্থা। এই যদি হয় গানের লিরিক তাহলে কেন তারা এগুলো ঠোঁটের আগায় রেখে কামাসক্ত হবেনা? টিনেজার পিরিয়ডটা সাপেক্ষীকরণের(conditioning) জন্য আদর্শ বয়স। এসময় অনেক ছোট ছোট উদ্দীপকও তাদের মস্তিষ্কে দৃঢ় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা আচরণ অনুকরণের জন্যও এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনোদনের উৎস হিসেবে শহুরে বাচ্চাদের কাছে সঙ্গীতের স্থান প্রথম সারির দিকে। তারা এতটায় সঙ্গীতাসক্ত যে স্কুলে-কোচিং এও এদের কানে হেডফোন গোঁজা থাকে। এই ধরণের গান যদি তারা বার বার শোনে তবে তাদের কোমল মনে ছাপ পড়বেই। “তুমি কি কখনও সেক্স করেছো?” (Have you ever had sex?) এই ধরণের উদ্দীপক যদি গানের ভাষায় লুকিয়ে থাকে তবে কি তারা প্রণোদিত হবেনা?

“I had sex, I had to describe the feelin’, it was the best, When I had the sex, man, my penis felt great” এই ধরণের লিরিক যেকোন শ্রোতার মাঝে কৌতূহল জাগাতে বাধ্য করে। আর কৌতূহল থেকেই যে আমরা নেশাগ্রস্ততার দিকে যায় তা পরীক্ষিত সত্য।

আরেকটি হিট গানের লিরিকের দিকে নজর বুলানো যাক-
I know уου want mе
I mаdе іt obvious thаt I want уου tοο
Sο рlасе іt οn mе
Lеt’s remove thе space between mе аnd уου
Now rock уουr body (oooh)
Damn I lіkе thе way thаt уου gο
Sο give іt tο mе (oooo oooh)
Cause I already know whаt уου wanna dο

Here’s thе situation
Bееn tο еνеrу nation
Nobody’s еνеr mаdе mе feel thе way thаt уου dο
Yου know mу motivation
Given mу reputation
Please excuse I don’t mean tο bе rude

Bυt tonight I’m fucking уου
Oh уου know
Thаt tonight I’m fucking уου
Oh уου know
Thаt tonight I’m fucking уου …

Tonight I’m gonna dο
Everything thаt I want wіth уου
Everythin thаt u need
Everything thаt u want I wanna honey
I wanna stunt wіth уου
Frοm thе window
Tο thе wall
Gonna give u, mу аll
Winter n summertime
Whеn I gеt уου οn thе springs
Imma mаkе уου fall
Yου gοt thаt body
Thаt mаkе mе wanna gеt οn thе boat
Jυѕt tο see уου dance
And I lіkе thе way уου shake thаt ass
Turn around аnd lеt mе see thеm pants
Yου stuck wіth mе
I’m stuck wіth уου
Lets find something tο dο
(Please) excuse mе
I don’t mean tο bе rude

এই গানটি সমসাময়িক কালে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা স্প্যানিশ গায়ক এনরিখ ইগ্লেসাস এর। এনরিখ সারা বিশ্ব জুড়ে টিনেজারদের প্রাণ। সহস্র কিশোরকিশোরী তাকে অন্ধভাবে অনুকরণ করে। বঙ্গদেশের পরিস্থিতিও ভিন্ন নয়। রাজধানীবাসী টিনেজ দের টি-শার্ট, ব্যাগ, ঘরের ইমালসন পেইন্ট করা দেয়াল কোথায় নেই এনরিখ?

এরকম আরো হাজারটা গানের লিরিক আমি উদ্ধৃত করতে পারি, কিন্তু অযথা লেখাটাকে বেহাত করতে চাইনা। আরো জানার আগ্রহ থাকলে এমিনেম, পিটবুল, লিল উইনে, লুডা ক্রিস, কেশা, ব্লাক আইড পিজ, ডেভিড গুয়েত্তা দের সাম্প্রতিক আলোচিত গানগুলোর দিকে নজর দিলেই যে কেঊ বুঝবেন অবস্থা কতটা ভয়াবহ।

এখন প্রশ্ন হল কেন আমি সমসাময়িক প্রাশ্চাত্য সঙ্গীতকে ভয়ংকর প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছি? এই প্রশ্নের উত্তর আমি আগে কিছুটা দিয়েছি এখন তার আরো ব্যাখ্যা দেব। ভন গ্যেতে একবার বলেছিলেন,আমরা খাপ খাওয়াতে বাঁচি (we live to adapt)। আমাদের নতুন যুগের শহুরে ছেলেমেয়েরা প্রতিনিয়ত খাপ খাওয়ানোর জন্যই যেন বেঁচে আছে। বাংলা ভাষা, বাংলা গান, বাংলা সিনেমা, বাংলা সাহিত্য, বাংলা সংস্কৃতির কোনকিছুই তাদের মনে ধরেনা। ইন্টারনেট গ্যালাক্সিতে বসবাসকারী এইসব প্রতিভাধর কিশোরকিশোরীরা যে রোগে এখন ভুগছে তার নাম ‘পরশ্রীকাতরতা’। পশ্চিমের সবকিছুতেই তাদের নয়ন জুড়াই, সেগুলোকে নিজের করতে ইচ্ছে হয়। আমাদের নিজস্বতাগুলো ( তাদের ভাষায় “ফাকিং শিটস”) বর্জন করতে এতটুকু পিছপা হয়না তারা। এই প্রবণতাগুলো আমি ব্যক্তিগতভাবে (প্রাইভেট টিউশন এবং কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হিসেবে) যত শহুরে ছেলেমেয়েদের সান্নিধ্যে গেছি প্রায় সবার মাঝে কমবেশি নিরীক্ষন করেছি। ঢাকার নামীদামী স্কুলকলেজের এসব ছেলেমেয়েরা প্রাশ্চাত্য সঙ্গীতের সবচেয়ে বড় ভোক্তা। এসব গানের প্রতি তাদের যে প্যাশন তার এক কোণাটাও যদি আমাদের সঙ্গীতের প্রতি থাকতো তবে আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি রাতারাতি ফুলে গোদরোগীর মত হত। ধান ভানতে শিবের গীত গাচ্ছি বোধহয়। আসল কথায় আসা যাক। একটা বোমা ফাটাবো। এখনকার ছেলেমেয়েরা পূর্ববর্তী যেকোনো প্রজন্মের চেয়ে বেশি মাত্রায় কামবাসনায় আছন্ন। জানি অনেকেই হয়তোবা আমার বোমায় আহত হয়েছেন অর্থাৎ একমত পোষণ করতে নারাজ। কিন্তু যদি আমি প্রশ্ন করি, একদশক আগেও কি কাওরান বাজার, ফ্রামগেট, বনানী, মগবাজারের হোটেলগুলোতে স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ইউনিফরম পরিহিত অবস্থায় অবাধ যাতায়াত ছিল? টিনেজার মেয়েদের মাঝে অবৈধ গর্ভপাত করানোর হারটা এতটা উচ্চমুখী ছিল কি? স্কলাস্টিকা, মাস্টারমাইন্ড, অক্সফোর্ড এর মত নামীদামী ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে, শাহিন কলেজের কমপ্লেক্স কিংবা তরুদ্যানে একাডেমিক আওয়ারে যেসব কর্মকাণ্ড চলে তাকেও কি আপনি কামের অনিয়ন্ত্রিত বহিঃপ্রকাশ বলবেন না? এ্যানাল-ওরাল সেক্স এর প্রতি এই প্রজন্মের যে উঠতি বাসনা তাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? মানুষের মনো-দৈহিক সম্পর্কের মাঝে যে এ্যাবনরমাল ক্যাওস লক্ষ করা যাচ্ছে তাকে আপনি কোন ন্যারেটিভ দ্বারা ব্যাখ্যা করবেন? আমরা নিশ্চয় চাইনা এসব ক্যাওস দ্বারা হতাশাগ্রস্থ হয়ে আমাদের দেশেও নারী ধর্ষণের হার আমেরিকার মত এ্যাবনরমাল হোক? আমরা কথায় কথায় ইভ টিজিং এর কথা বলি কিন্তু আপনি জানেন কি ইভ টিজিং এর সাংঘাতিক রূপ সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট। আর এই সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট এর হার কোথায় সবচেয়ে বেশী? হ্যা পশ্চিমা বিশ্বে। খোদ আমেরিকাতে এই হার অত্যন্ত মারাত্মক এবং যা কমাতে স্থানীয় প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন আসবে অনেকগুলো চলকই(agents) তো তাদের কামতাড়িত করতে পারে তাহলে আমি কেন শুধু পশ্চিম পপ সঙ্গীতের পিছনে লেগেছি? হ্যা পারে। যেসব বহিঃস্থ অবজেক্টগুলো কামোদ্দীপক হিসেবে চিহ্নিত করা যায় তাদের মাঝে আমি সঙ্গীতকে সবার উপরে রাখবো। কারণ অন্যান্য অশ্লীলবৃত্তীয়(pornographic) উদ্দীপকগুলো হয় সহজলভ্য নয়, আর হলেও তা কারো সার্বক্ষণিক সঙ্গী নয়। আমার নিরীক্ষণ বলে এই প্রজন্মের সার্বক্ষণিক প্রিয় সঙ্গী ফোন, আইপড অথবা অন্যান্য মিউজিক প্লেয়ার। স্থিতিকাল এবং রিপিটিশন কোনকিছুর প্রতি মনোযোগী হতে কতখানি ভূমিকা রাখে সেটা নিশ্চয় বলার অপেক্ষা রাখেনা।

“কাম কি খারাপ কোন পদার্থ?” এই মুখস্থবাক্য সদানিত্য যারা উচ্চারণ করে থাকেন তাদের কে বলি, না ইহা সদা খারাপ নহে তবে ইহা এমন এক পদার্থ যাহা হিসেব করিয়া-নিয়ন্ত্রন রাখিয়া খরচ করাতেই মঙ্গল নিহিত, ইহাতে স্বাধীন হইবার চেয়ে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হইবার ঝুঁকি বেশি। আবারো মহাত্মা লালনকে স্মরণ করছি, তিনি বারবার বুঝিয়েছেন যৌন সম্ভোগ নয়, যৌন- সংযম ও কাম নিয়ন্ত্রণই মুক্তি লাভের সঠিক উপায়।

আমার মনের মানুষের সনে
মিলন হবে কত দিনে
কিন্তু সাধন-সিদ্ধি হয়না বলেঃ
সে আর লালন একখানে রয়
তবু লক্ষ-যোজন ফাঁক রে।।

একটি সংকটকালীন উত্তরাধুনিক কালের পরিসরে আমরা বাস করছি। আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ যখন পৃথিবীকে একটি ভয়ংকর বসতিতে পরিণত করছে, যখন পুঁজিবাদ আর গনতন্ত্রের শান্তিগুলো ক্রমশ শঙ্কায় রুপ নিচ্ছে তখন তরুন সমাজের কামসর্বস্ব হয়ে গা ভাসানো মানায় না। তাদেরকেই তো বুনতে হবে নতুন দিনের নকশা; তারায় তো সংগ্রাম করে ভাঙ্গবে পুরোনো সব সত্য নামের মিথ্যাকে। নতুন দিনের পাঞ্জেরী যারা সেই তারায় যদি কামের নদীতে ডুব দিয়ে থাকে তবে নতুন পৃথ্বী কে গড়বে?

আমি পশ্চিমা সঙ্গীতকে বর্জন করতে বলছিনা। তবে আমি শ্রেণীকরণের পক্ষে। পর্ণমুভিতে যেমন রেইট(rate) লাগানো হয় তেমনি এ ধরণের গানেও এক্স রেইট ট্যাগ সংযুক্ত করতে হবে। আর যেসব ইন্টেলিজেন্সিয়া ২৪*৭ জানালা উন্নোচন রাখার সুপারিশকারী (অর্থাৎ প্রত্যক্ষ-প্ররোক্ষ ভাবে সক্রিয় “পঞ্চমবাহীনির” সদস্য) তাহাদের জ্ঞাতার্থে কহিতেছি, আমরা জানালা উন্মুক্ত রাখিব বেশ তো,আলো-বাতাস আসিবে তবেই না “গ্লোবাল ভিলিজ” সার্থক ঠেকে। কিন্তু আলোবাতাসের সাথে সাথে যখন “গু-মূত্র” নিউট্রিনো গতিতে আসতে শুরু করবে তখনও কি জানালাটা আটকাবোনা??