ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

পৃথিবীর সকল জঙ্গিবাদ থেকে পৃথক রূপ, স্বাদ, গন্ধ নিয়ে ” ইসলামী জঙ্গি” শব্দটা আসমান থেকে নাজিল হয় নাই। এই ওহী নাজিল হয়েছে পশ্চিম পাড়া থেকে। সাম্রাজ্যবাদের ছাতার আড়ালে সন্ত্রাসবাদ সমানে চলতাছে আর আমরা ঐ ওহির মতলব না বুঝি য়ায় তা অন্ধভাবে প্রচার করে যাইতেছি। এতে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল যেমন মারছি তেমনি তাতে করে সাম্রাজ্যবাদীদের পতাকা অজ্ঞানে আরো উপরে তুলছি বৈকি?

“ইসলামী জঙ্গিবাদ” যদি কোন ডিসকোর্স হয় তবে তা কাদের বানানো, এই ডিসকোর্সের সাথে যে ক্ষমতার গু লেগে আছে তার আগমন কাহার উদর থেকে? আধিপত্যের সাথে এই ডিসকোর্স আজ যখন বাঙালি মুসলমানের নাগরিক ডিসকোর্সে পরিণত হচ্ছে তখন বুঝতে হবে এটা সাম্রাজ্যবাদের জয়। এটা আমার কথা না, এই মত দিয়েছেন মহাত্মা একবাল আহমদ-

Hegemony entails the dominance of a given discourse even among those who are not its beneficiaries. It is the cultural arm of imperialism”

(দেখুন, The Selected Writings of Eqbal Ahmad, 2006:231).

সলিমুল্লাহ খান একদা প্রশ্ন তুলেছিলেন, একদল মুসলিম যদি কারো বাড়িতে ইসলামের নামে ডাকাতি করতে যায় তবে কি তাকে আমরা “ইসলামি ডাকাত” বলবো? আমার জবাব না। কারণ, যদি বলতেই হয় তবে এমন ডাকাত সব ধর্মে,সব জাতিতে আছে-সভ্যতার শুরু থেকেই ছিল, তারা কেন সন্ত্রাসবাদের তকমা থেকে মুক্ত থাকবে? ইহুদিরা হাজার হাজার মানুষ প্রকাশ্যে পাখির মত উড়িয়ে দিয়েছে-দিচ্ছে, “ইহুদী জঙ্গি” শব্দটা তবে কেন নাজিল হলনা? এমনি করেই খৃষ্টান জঙ্গিবাদ, হিন্দু জঙ্গিবাদ, বৌদ্ধ জঙ্গিবাদের দগদগে ঘাগুলো থেকে কখনো দুর্গন্ধ ছড়ায়নি। ছড়াতে দেওয়া হয়নি। যে ওহী পশ্চিমপাড়া থেকে আসেনা, যে ওহির সাথে ক্ষমতার গু লেপ্টে থাকেনা সে ওহী কেও প্রচার করেনা। আমাদের প্রগতিশীল বিদ্যাধরেরাও সে ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে, ইসলামের বিরুদ্ধে না বলতে পারলে যে তাদের প্রগতিশীলতার নিকুচি ঘটে।

আমাদের তথাকথিত প্রগতিশীলতার সাদা চোখ দিয়ে সবকিছু বিচার না করে কীভাবে আমেরিকার ‘’ওয়ার অন টেরর প্রজেক্ট’’ কে ঠেকানো যায় সে চেষ্টা করতে হবে, নাহলে আমরা কেও বাঁচবো না। সামনে গাঢ় আঁধার ধেয়ে আসছে, এখন গাত্রবর্ণ ভুলে বৌদ্ধ-হিন্দু-মুসলিম-আদিবাসী সবাই একসাথে হাতে হাত মেলানোর সময়, একে অপরকে জঙ্গি-ডাকাত বলে গালি না দিয়ে সম্প্রীতি সুসংহত করতে হবে, ধর্মের লেবাস পরে যারা অশান্তি কায়েমের পাঁয়তারা করছে তাদের সবাই মিলে প্রতিহত করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না যে জাতির নাম ভাঙাইয়া অপরাধ করা হয় সে জাতির প্রত্যেকে তাহার জন্য দায়ী। আজ আফগানের সবাই অসভ্য-সন্ত্রাসী, আজ পাকিস্তানের সবাই বর্বর-তালেবান; কাল যেন এমন না হয় সাম্রাজ্যবাদের পাঁয়তারায় প্রতিটি বাংলাদেশিকে ঐ একই ব্র্যান্ডের লোগো দ্বারা পরিচিত হতে হচ্ছে।