ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

‘পুরা ব্যাপারটাই নাশকতা’-ইহা দিবালোকের মত পরিষ্কার। তারপরেও কি নাশকতা খুঁজবেন আপনেরা জানতে পারি? সেই অধিকার কি আছে আমার জানার? জানি আমার মত আবাল শূদ্রদের নিকট আপনাদের জবাবদিহিতার কোন বালাই নেই।
এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ টি কারখানায় আগুন লেগেছে; নাশ হয়েছে হাজার খানেক জীবন। তারপরও আমাদের মহান সরকার নাশকতা খুঁজে বেড়ান। নব্বইয়ে মিরপুরের সারেকা গার্মেন্টস থেকে শুরু হয়েছে এই ‘স্ট্রাকচারাল হত্যাযজ্ঞ’, নাশকতা;কিন্তু বিধি বাম আজও কোন সরকার নাশকতার আলামত সংগ্রহ করতে পারলেন না। প্রতিটি ঘটনাতেই লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, কিন্তু কোন তদন্তই জনসম্মুখে পেশ করা হয়নি, মালিক পক্ষের কেউ কক্ষনো দোষীসাব্যস্ত হয়নি। মরার আগে অর্থাৎ কুরবানীর আগে একটা গরুর দাম উঠে এক লাখ-দু লাখ-থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত; অথচ মানুষরুপি গরুকে কুরবানী করার মূল্য তার চাইতেও ঢের সস্তা। আমাদের মহান সরকার আর কোন পণ্যের মূল্য বেঁধে দিতে পারুক বা না পারুক মানুষের মূল্য তেনারা দারুণ ভাবে নির্ধারণ করেছেন, এক মাথা এক লাখ।

আমি বুঝিনা জনগণের কষ্টের ট্যাক্সের পয়সা নস্ট করে এতগুলি মন্ত্রী নিয়োগ দেবার যথার্থতা কোথায়! কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা, সুষ্ঠু তদন্ত হবে, বিচ্ছিন্ন ঘটনা এইসব মুখস্ত বয়ান দেবার জন্য একটা টেপ-রেকর্ডার থাকলেই তো চলে। আর কবে আমরা কথার নয় একটা কাজের জনপ্রতিনিধি পাবো?

তারা জনগণের সরকার, তাই আজ জানতে চাই এশিয়া এনার্জির সাথে ফুলবাড়ীকে মরুভূমিতে পরিণত করার, মৃত্যুভূমিতে পরিণত করার যে মাস্টারছক এঁকেছেন তা কোন জনগণের জন্য?? জানতে পারি? জানি আমাদের জানার কোন অধিকার নেই কেন ঢাকায় পুলিশ শিবিরের হাতে মার খেয়ে চোখ হারায়? কেন সশস্ত্র শিবির ঠেকাতে কয়েক থানার পুলিশ একত্রিত হয়না? অথচ শান্তিপ্রিয় জাতীয় কমিটির উপর হামলা চালাতে ১০ থানার পুলিশ মিনিটের মাঝে হাজির হয়ে যায় কীভাবে? কোন উপর ওয়ালার হুকুমে?

সৌভাগ্য আমাদের ফুলবাড়ির জনগণ আজ আর গরু নয়, রক্ত দিয়া তারা আজ ষাঁড়ে পরিণত হয়েছে। তাই পিছু হেঁটেছে পুলিশ। ফুলবাড়ির বিপ্লবীরা আমাদের শিখিয়েছে মানুষের আন্দোলন মানুষকেই করতে হবে, রাস্তাই নামতে হবে। এই লুম্পেন সরকার কোনদিন জনগণের সরকার হবেনা। কিন্তু আফসোস আমরা ফুলবাড়ির বিপ্লবীদের মত ষাঁড় হইতে পারলাম না, নিরীহ গরুই থেকে গেলাম। অনেক কিছু করি আমরা-যে কোন রাষ্ট্রীয় অন্যায়ে রাত জেগে টকশো শুনি, ব্লগ লিখি, বিপ্লবী স্ট্যাটাস দিয়ে সাবস্ক্রাইবার বাড়াই; এগুলোর সবগুলোই আসলে আমরা দড়ি-বাঁধা অবস্থাতেই। এই দড়িবাঁধা বিপ্লবে রাষ্ট্রীয় অ্যাপারাটাসগুলির কিছুই আসবে-যাবে না। সময় এসেছে রাস্তায় নামবার, সবকিছু বদলাতে হলে দড়ি ছিঁড়ে বুনোষাঁড় আমাদের হতেই হবে ।তালাবন্দী অবস্থায় রোজ রোজ নিজেদের এভাবে আর না পুঁড়িয়ে চলুন এবার রাস্তায় নেমে নিজেদের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিই। বদ্ধ ঘরের ঝলসানো দেহের ভ্যাপসা পোঁড়া গন্ধ কখনো রাষ্ট্রযন্ত্রের নাকে গিয়ে ঠেকবে না, খোলা রাস্তার পোঁড়া গন্ধ-আগুনের লেলিহান শিখাতেই তাই আমার শেষ ভরসা। চলুন সবাই রাস্তায় নামি, নিজের গায়ে আগুন ধরায়। বড্ড বেশী দেরি হলে মুনাফালোভী অত্যাচারীদের নকশা করা নানান আগুনে জ্বলতে জ্বলতে পুরো দেশটাই একদিন ছাইয়ের স্তূপে পরিণত হবে।

এটা কোন বাস্তবতা বিবর্জিত বীভৎস ছবি নয়, এ যেন আমাদের দেশমাতারই জ্বলন্ত-পোড় খাওয়া প্রতিবিম্ব। আমরা চাই এই ছবি দেখে বমি আসুক, ক্ষিদে চলে যাক, রাতের ঘুম হারাম হোক এইটাই আমাদের চাওয়া এখন। মনপাড়ায় ঘোরাঘুরি করুক এই ছবির বাস্তবতা। নিতে আমাদের পারতেই হবে, এইটাই তো আমাদের নিদারুন বাস্তব। এই ছবিটা দেখে হলেও একবার আমাদের রাস্তায় নামতে ইচ্ছা করুক, নিজেকে পুড়িয়ে ফেলতে ইচ্ছা করুক। ফুলবাড়ী সীমানা পেরিয়ে সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ুক।

মন্তব্য ১ পঠিত