ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

আজকে ফেসবুক ব্রাউস করার সময় একটা পোস্টে একটা ছবি দেখলাম এক নাটকের দৃশ্যের, বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্ব এক অসাধারন ফটোগ্রাফার। তিনি লেন্সের ক্যাপ না খুলেই ছবি তুলতে পারেন। সে এক বিরল প্রতিভা। তার প্রতিভায় মুগ্ধ হচ্ছেন নাটকের নায়িকা তিন্নি। (আপনি চাইলে এই লিংকে গিয়ে ছবিটি দেখতে পারেন) যাই হোক, এই ছবির অন্য অর্থ একটু পরেই খোঁজার চেষ্টা করি।

গতকালের পত্রিকাগুলোর প্রধান খবর ছিলো, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের কথা। খবরটির শিরোনাম দেখেই আমার একটা পুরনো স্মৃতির কথা মনে পড়েছে। আমি যখন চুয়েটে পড়তাম, তখন আমরা কয়েক বন্ধু একসাথে সি এন জি অটোরিক্সা দিয়ে যাতায়াত করতাম এবং যাত্রাপথে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম। একদিন আমার এক বন্ধুর সাথে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দেবার বিষয় নিয়ে ঠিক তেমনই এক আলাপচারিতার সময় সেই বন্ধু আমাদের দেশে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দেবার পক্ষে কয়েকটি যুক্তি দিয়েছিলো। ওর মতে, আমাদের মতো দরিদ্র এবং বৃহৎ জনসংখ্যার দেশে মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য এই ভর্তুকি দেয়া সরকারের জন্য ফরয। কারণ, যদি সস্তাই জ্বালানি তেল পাওয়া যাই, তবে ইন্ডাস্ট্রির মোটর ঘুরবে, গাড়ির ইঞ্জিন চলবে, মানুষের কাজের কিছু ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। আর তাতে মানুষ অন্তত দুমুঠো ভাতের ব্যাবস্থা করতে পারবে। কিন্তু পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী কখনো চাই না, আমরা এগিয়ে যাই, তাইতো ই এম এফ, বিশ্বব্যাংক সবসময় আমাদের চাপ দেয় এই ভর্তুকি কমানোর জন্য। আর আমাদের তথাকথিত জননেতা/জননেত্রিরা পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর পরম পরশে ক্ষমতাই যাবার লোভে জনগণকে ধোকা দিয়ে বিভিন্ন ছোলছাতুরিতে ঠিকই জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। যেমন গতকাল পত্রিকায় দেখলাম তেমনই এক ছুতোর কথা, দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা নাকি এখন ৪০ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে গিয়ে ৬৮ লাখ মেট্রিক টন হয়েছে, তাই সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে এবং একারণে সরকার এখন জালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পেছনে হয়তো আর কিছু ছুতো সরকারের আছে। কিন্তু, চাহিদা কেন এত বেড়েছে? কারণ হলো, দেশে এখন ডিজেল এবং ফার্নেস ওয়েল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি। আমি যদিও তড়িৎ প্রকৌশলে একজন গ্র্যাজুয়েট, তারপরও পাওয়ার সেক্টর নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার মতো যোগ্যতা যদিও আমার আছে বলে মনে হয় না, তারপরও ভয়ে ভয়ে একটা কথা বলতে চাই, যেখানে আমাদের বড় রকমের সাপোর্ট দরকার সেখানে আমরা কেন ছোট ছোট সাপোর্টের ডিজেল, গ্যাস এবং ফার্নেস ওয়েল চালিত রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছি? গত তিন বছরে সরকার মনে হয় জাতীয় গ্রিডে ২০০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়িয়েছে। কিন্তু এই অতিরিক্ত চাহিদার জ্বালানি তেল আমদানি না করে কয়লা আমদানি করে কি এই তিন বছরে প্রতিটি ১০০০ মেগাওয়াটের দুই ইউনিটের দুটো কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা যেত না?

যাই হোক, উপরের ফেসবুকের পোস্টের ছবিটার সাথে বাংলাদেশের কোনো মিল আছে কিনা একটু দেখি। আমাদের জাতীয় নেতা/নেত্রিরা আর ২ বছর পরেই আমাদের আবার অভিনেতা অপূর্বের মতো ফটোগ্রাফার সেজে ভিশন ২০২০/২০২১ এর 420 মার্কা ছবি দেখাবে। আর আমরা অর্থাৎ সাধারণ মানুষেরা নায়িকা তিন্নির মতো মুগ্ধ দৃস্টিতে সেই ফটোগ্রাফারদের দিকে তাকিয়ে থাকব! আমাদের নেত্রিরা বলবেন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আর অদৃশ্যে কেও মুচকি হাসি হেসে বলবে, “She’s been working with glue too much” !