ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

পূর্ব পাকিস্তান, পশ্চিম পাকিস্তান দুটো প্রদেশ। কারও ভাষা এক নয়, সংস্কৃতি এক নয়। পশ্চিম পাকিস্তানের সুকৌশলে একে একে ধ্বংস হতে লাগল আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি। তারপর আমাদের মুখের ভাষা কেরে নিতে চাইল।
ও মা তোমাকে যে কত ভালবাসি কেমনে বুঝাব বল। মা দেখ আমার দেহ এখন প্রাণহীন। মাতৃভাষা, স্বাধীনতা এসব আমার কাছে এখন অর্থহীন। কিন্তু তোমাকে যে ভালবাসি।
– বাবা তুই কোথায় যাস রে।
– মা ভাষা রক্ষা করব।
– তুই যদি মরে যাস তাহলে ভাষা রক্ষা করে কি হবে বাবা।
– তুমি সবাইকে জিজ্ঞেস কর আমার ছেলে তো ফিরে আসেনি। মৃত মানুষের কাছে মাতৃভাষা তুচ্ছ। তাহলে কেন আমার ছেলে প্রাণ দিল।
– আচ্ছা জিজ্ঞেস করব।
– মা তাহলে যাই।
– যা বাবা

ভাষা সৈনিকদের জন্য আমাদের হৃদয়ে অনেক ভালবাসা। তারা অনেকেই ভাষা দেখে যেতে পারেনি। আমাদের জন্যে রক্ষা করে গেছে। আমরা ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে ভালবাসার প্রতীক হিসেবে তাদের ফুল দেই। সারা পৃথিবীর মানুষ তাদের জন্য ফুল দিয়ে ভালবাসা জানায়, কিন্তু আমাদের দেশের কিছু স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকরা তাদের ফুল দেয়া পাপ এবং ঘৃণার চোখে দেখে। এরা আমাদের দেহের পশ্চাৎ অংশ। তারা নিজের মাকে ভালবাসতে জানেনা। মায়ের প্রতি ভালবাসার আবেগ তাদের নেই। তারা আমাদের মাতৃভাষাকে ঘৃণা করে। আমরা এমন এক জাতি যারা গুটি কয়েক ভাষা বীর ছাড়া আর কারো নাম জানিনা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি পশুদের সাথে জামায়াতে ইসলামি, ইসলামি ছাত্র সংগ (বর্তমানে ইসলামি ছাত্র শিবির) ও মুসলিম লীগের রাজাকারেরা নাম জানা অজানা অসংখ্য ভাষাবীরদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

যুদ্ধ-স্বাধীন দেশে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী সুপরিকল্পিত ভাবে তাদের এক গোষ্ঠীর স্থান করিয়ে দিয়েছে। যার নাম জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ। এরা বিভিন্ন নামে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে ও অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে আছে। ১৯৭১ এ এরা আমাদের ভাষাবীর, বুদ্ধিজীবী, লেখক, শিল্পী, অন্য আদি ভাষাভাষী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নিরীহ মানুষ সবাইকে ধরে নিয়ে খুন করেছে। হত্যা করেছে ৩০ লক্ষ শহীদ আর ধর্ষিত হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ আমাদের মা বোন যা পৃথিবীর নির্মম ইতিহাসকেও শঙ্কিত করে। জামায়াতে ইসলামির পশু, ধর্ষক, হত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদীর মত হাজার ও ইসলাম বিকৃতকারী উর্দু ভাষায় বক্তৃতা দেয় এবং বেশভূষায় এরা তৎকালীন পাকিস্তানি পশু নেতাদের পরিচ্ছদ ধরে রেখেছে। এরা হৃদয়ে পাকিস্তান লালন করে। আমাদের ফাকি দিয়ে এরা আজ আইনগত ভাবে এদেশের নাগরিক কিন্তু বাংলা এদের কখনো ক্ষমা করবেনা। যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তিসেনা সে মাটি এদের ঘৃণা করে। অতীতে আওয়ামীলীগ সরকার ২১ শে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস সংক্রান্ত ওয়েব সাইট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিন্তু পরে তা বিএনপি-জামাত জোত সরকার বাতিল করে দেয়।

পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের প্রতি আমাদের খুব আসক্তি। আমাদের দেশের অসংখ্য ছেলে মেয়ে পাকিস্তান টিম সাপোর্ট করে। পাকিস্তান ক্রিকেট টিম পাকিস্তানের প্রতিনিধি। এদের সাপোর্ট করা হচ্ছে পাকিস্তানকে সাপোর্ট করা, পাকিস্তানের পতাকাকে সাপোর্ট করা। তাহলে আমরা ৩০ লক্ষ মানুষ কেন প্রাণ দিলাম এই পশুদের বিরুদ্ধে। রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, মতিউর, শফিউর, ৩০ লক্ষ শহীদ আর ৫ লক্ষ ধর্ষিতা মা বোন তোমরা কি জানো যাদের কারণে তোমরা আমাদের ছেড়ে চলে গেছ নির্মম ভাবে প্রাণ দিয়েছ, যারা তোমাদের কাছে কোন ক্ষমা চায়নি, তোমাদের অপমান করে স্বাধীনতাকে অপমান করে আমরা বাংলার মাটিতে পাকিস্তানের পতাকা উড়াই, স্লোগান দেই। কোন বাংলার সন্তানের যদি মায়ের প্রতি দেশের প্রতি এতটুকু শ্রদ্ধাবোধ থাকে সে কখনো মাকে অপমান করে পাকিস্তান সাপোর্ট করবেনা। যে জাতির ঘৃণা বোধ নেই, সম্মানবোধ নেই সে জাতি তো আমরা নই। আমরা বীরের জাতি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবোনা। তাহলে যারা এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের জন্য ক্ষমা চায়নি কেন তাদের প্রতি আমাদের ভালবাসা। এ ভালবাসা কি সেই ৩০ লক্ষ শহীদদের অপমান করা নয়?

তাহলে যারা আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী, যারা উর্দু চর্চা করে, স্বাধীনতা বিরোধী কথা বলে। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে, পাকিস্তান স্লোগান দেয় আমরা কি তাদের পথে। ভাষা সৈনিকদের শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার বিপক্ষে?

এখানে উল্লেখ্য যে, জামাত নেতা গোলাম আযম (একজন অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ রাজাকার) “শান্তি কমিটি” প্রতিষ্ঠা করেছিল, যার উদ্দেশ্য ও কাজ আমাদের অজানা নয়, স্বাধীনতা বিরোধী, পাকিস্তানের প্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারীদের দিক নির্দেশক, এবং জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামি বদর বাহিনীর একজন কমান্ডার ছিলেন। এরা নিজেদের ভাষাবীর ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করে কোন সাহসে। এই

**** **** বাংলার মাটিতে কবর হবেনা। এই মাটি ৩০ লক্ষ শহীদ, ভাষাবীর আর আমাদের। ১৬ জুলাই ১৯৭১ ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নির্মিত ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ধ্বংস করায় গোলাম আযম পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানান। সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম।

11.15 PM, 20.2.2008
Arif Hossain Sayeed
Narayanganj.