ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

শক্তিবর্ধক ওষুধের নামে বিক্রি হচ্ছে শুধুই চিনি মেশানো রঙিন পানি। নারায়ণগঞ্জ শহর ও তার আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেল পাইকারি থেকে খুচরা দোকান পর্যন্ত চলছে এই ওষুধের বেচা-কিনি। বাহারি রঙিন মোড়ক ও আধুনিক প্যাকেট-জাত এই আয়ুর্বেদিক সিরাপ সবাই না জেনেই কিনছেন। এর কার্যকারিতা হল: পুষ্টি হীনতা, সাধারণ দুর্বলতা, পাকস্থলীর দুর্বলতা, রক্ত স্বল্পতা, বাত-ব্যাধি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ভিটামিন এ ও সি এর অভাব, গর্ভবতী ও স্তন-দান মায়েদের জন্য খুবই উপকারী। ইহা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহের যেমন: মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, লিভার, কিডনি ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং দুর্বল রোগীর প্রাণশক্তি যোগায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিটাগাংরোডের এক পাইকারি ঔষধ বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলে জানালেন, ”ভেতরে শুধু চিনির পানি, আমরা ২৫-৩০ টাকা বিক্রি করি খুচরা দোকানিরা গায়ে লেখা রেটে ১২০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে। তার কাছে খোজ নিয়ে এমন কিছু ওষুধ পেলাম দেখলাম কোন লাইসেন্স নেই। এমন কতগুলো ওষুধ কোম্পানি আছে জানতে চাইলে উত্তর দিলেন, ”অভাব নাই। সারা বাংলাদেশে সবখানে পাওয়া যায়।” তবে শহর থেকে যতই গ্রামের দিকে যাওয়া যায় ততই বেশী চোখে পড়ে। এ ওষুধ খেয়ে গ্রাহকরা যেমন প্রতারিত হচ্ছেন তেমনিভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

আপনার কাছে কি কি ওষুধ আছে দেখতে চাইলে কিছু স্যাম্পল দেখালেন। POWER PLUS, GENESIS Manufacturing Co. Dhaka-Bangladesh পাইকারি ৪০-৪৫, খুচরা ১৭৫। GINSIN PLUS, GRAMO PHARMACEUTICALS LTD. GAZIPUR-Bangladesh পাইকারি ৩৫-৪০, খুচরা ২৭০। PUSTI GOLD, GESIS Manufacturing Co. Dhaka-Bangladesh পাইকারি ১৫-২০, খুচরা ১৫০। VITAM, BEGO PHARMACEUTICALS (AYURVEDIC) পাইকারি ২৫-৩০, খুচরা ১২০। Vezton, NIQUE LABRATORIES Unani, Dhaka-Bangladesh পাইকারি ৩৫-৪০, খুচরা ১২০। STIMULEX, ANCO Pharmaceuticals Ayurvedic, Dhaka-Bangladesh পাইকারি ৭৫-৮৫, খুচরা ৩০০। Mritasanjibani, Greenlife Herbal Industry, Dhaka-Bangladesh পাইকারি ২৫-৩৮, খুচরা ১৭৫। PUREMAN, Digital Manufacturing Co. Bangladesh পাইকারি ৫৫-৭০, খুচরা ২৫০।

এদিকে কুমিল্লা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সয়লাব হয়ে গেছে এই ওষুধে। কিছু কিছু দোকান গড়ে উঠছে শুধুমাত্র এসব ওষুধের উপর ভিত্তি করে। এদিকে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রাম ও শহরেরই এই অবস্থা। পাইকারি বিক্রেতারা জানালেন এগুলোতে পাইকারি দোকানিদের থেকে খুচরা দোকানেই বেশী চলে কারণ প্রচুর লাভ। আর পাইকারি ও খুচরা দামের এই বিশাল পার্থক্যই বলে দিচ্ছে এখানে আসলে ওষুধ আদৌ আছে কিনা। এই অবস্থা বহুদিন যাবত চলে আসলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। দোকানিরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, ”মাঝে মাঝে পুলিশ এসে আমাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে যায়। কিন্তু ওষুধ কোম্পানি বন্ধ হচ্ছেনা।”

আমরা আশা করব অনতিবিলম্বে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়ে এধরনের প্রতারক ওষুধ কোম্পানিগুলো বন্ধ করবেন।

আরিফ হোসেন সাঈদ
০২/২৩/১২,
নারায়ণগঞ্জ