ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। নির্বাচনের মাধ্যমে এদেশের জনগণ একটি সরকার নির্বাচন করেন। জনগণের নিকট সরকারের কিছু দায়বদ্ধতা আছে। বাংলাদেশ আফ্রিকার কোন দেশ সোমালিয়া নয়। এটি একটি সভ্য দেশ। এখানে কেউ অপরাধ করলে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় তাকে বিচার করার বা তার বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলতে পারে না। পারে না চলতে ক্রস ফায়ার। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি ক্রসফায়ারের নতুন ভার্সন গুপ্তহত্যা চলছে। এ সরকারের আমলে যেমন প্রায় প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশি খুন হচ্ছে তেমনি দেশের ভেতরে হচ্ছে গুম, গুপ্তহত্যা। আর এ গুমের পর গুপ্তহত্যার পেছনে সরাসরি অভিযোগ রয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে। এ পর্যন্ত যতগুলো গুপ্তহত্যা হয়েছে তার প্রায় প্রতিটি অভিযোগই এসেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে। তাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর উপর সর্বোপরি সরকারের উপর এর দায় বর্তায়। কিন্তু সরকার দু একটি গুপ্তহত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করলেও পারেনি অসংখ্য গুমের কোন কূল কিনারা করতে। চলছে সমান তালে গুপ্ত হত্যা।

গুম বা গুপ্ত হত্যার প্রসঙ্গে ১৪ই মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, যারা গুম বা গুপ্ত হত্যার শিকার তারা নাকি সন্ত্রাসী দলের সদস্য। তার কথায় যদি যাই, তবে প্রথমেই বলতে হয় এ কথা বলে কি আমাদের মন্ত্রী বুঝাতে চাইছেন যে সন্ত্রাসীরা গুমের শিকার হচ্ছে তাতে চিন্তার কিছু নাই। নাকি সন্ত্রাসীদের উপর রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কম? না কোনভাবেই সন্ত্রাসীদের উপর রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কম নয়। সন্ত্রাসীরাও এদেশের নাগরিক।

সরকারের কাজকর্মে জনগণের ধারণা হয়েছে সন্ত্রাসীদের উপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেই। মাননীয় মন্ত্রীর মন্তব্যে তাই মনে হচ্ছে। তা না হলে দিনের পর দিন সন্ত্রাসীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে আইন শৃঙ্খলাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে তা তো হয়না।

আওয়ামী লীগ সমালোচকরা সব সময় বলেন, এ সরকারের আমলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়। আমরা এর সত্যতা দেখতে পাচ্ছি।
সরকার সন্ত্রাসীদের কাছে দুর্বল। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেয়ে সন্ত্রাসীরা শক্তিশালী। এবং সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী এই সন্ত্রাসীদের কাছে বাল্য শিশু।
সরকার রাষ্ট্রের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারছেনা বলে তাদের সন্ত্রাসী বলে অপবাদ দিচ্ছে। কিন্তু সরকারের জানা উচিত তারা সন্ত্রাসী হউক আর বিরোধী দলের নেতাকর্মী হউক আর সাধারণ নাগরিক হউক তাতে কোন অংশেই সরকারের দায় এতটুকুও কমে যায়না। দেশে গুপ্ত হত্যা সহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। যা একটি নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে আশা করা যায় না। সরকার গুপ্ত হত্যা বন্ধে ব্যর্থ।

এত দিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যন্ত যে অভিযোগটি অস্বীকার করে এসেছেন তাই এখন স্বীকার করে নিচ্ছেন আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমরা দেখতে পারছি গুপ্ত হত্যা বন্ধে সরকার ব্যর্থ। সরকারের এ ব্যাপারে কোন স্বদিচ্ছা নেই বা তারা কোন কূলকিনারা করতে পারছেন না। হটাৎ করে তিনি বললেন, গুপ্ত হত্যার শিকাররা সন্ত্রাসী এবং অপর সন্ত্রাসী দলের দ্বারা এ গুম হচ্ছে। তো সবই যদি পুলিশ জেনে থাকে তবে তো এ কথাও জানার কথা কোন সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসী দলের দ্বারা এ ঘৃণিত গুম হচ্ছে। কেন পুলিশ এর কোন সুরাহা করতে পারছে না। কেন প্রতিদিন মানুষ গুম হবে। তার কথা মত সন্ত্রাসীরাই যদি এ গুমের হোতা হয়ে থাকে তবে সন্ত্রাসীদের তো সাধারণ মানুষ গুম করবে না হয় সন্ত্রাসীরা বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ গুমে জড়িত। যদি সত্যিই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য ছাড়া সন্ত্রাসী বাহিনী এ কাজ করে থাকত তবে তারা অবশ্যই সনাক্ত হত এবং এ ধরনের ঘটনা কমে আসত। কিন্তু তা হয়নি। তাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকেই সন্দেহের তীর উঠছে কারণ তারা সন্ত্রাসীদের থেকে দুর্বল এ কথা কখনও স্বীকার করবেন না। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন তো কখনই না।

তাই আমরা বলতে চাই এ গুমের পেছনে হয় সরকারের হাত রয়েছে। নয়তো সরকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এবং রাষ্ট্র কোনভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না।

আরিফ হোসেন সাঈদ
০৩/১৬/১২, নারায়ণগঞ্জ।